প্রথমে হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ! এরপর একে একে মাসদাইর কবরস্থানের মাদ্রাসা ভেঙে দেওয়াসহ চাষাঢ়া বাগে জান্নাত মসজিদের জায়গা দখল করে সেখানে পার্ক তৈরীর অভিযোগ উঠে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শহরের রাইফের ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে মন্ডলপাড়া জামে মসজিদের ওয়াক্ফ এস্টেটের জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। তবে একের পর এক মেয়রের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ বানোয়াট ও অসত্য বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতীক নেতা এবং প্রগতিশীল ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, মেয়রের বিরুদ্ধে আনা জিউস পুকুরসহ মসজিদ মাদ্রাসার ইস্যুগুলো বহু পুরনো। কাজেই যারা এখন মেয়রের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন তাঁদের তো এগুলো নিয়ে, আগে থেকেই প্রতিবাদ করা উচিৎ ছিলো। কিন্তু নির্বাচনের আগেই কেন?
সিটি নির্বাচনের আগ-পর্যন্ত মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলবে উল্লেখ করে সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, “মন্ডলপাড়া জামে মসজিদ কমিটি তাঁদের সংবাদ সম্মেলনটি রাইফেল ক্লাবেই কেনো করলো? এটিতো একটি চিহ্নিত গোষ্ঠির আড্ডা খানা! কাজেই এতে একটি যিনিস স্পষ্ট হয় যে, একটি গোষ্ঠির খপ্পরে পরেই তাঁরা এই কাজগুলো করছে। যেই জায়গাতে মডেল মসজিদ হবে এটিতো মেয়রের বা সিটি করপোরেশনের বিষয় না। মসজিদর তৈরীর জন্য ১৫ কোটি টাকা বাজেট হয়েছে; এখানে একটি কমপ্লেক্স হবে ও লাইব্রেরী থাকবে। এটা একটা শুভ উদ্যোগ আমরা এটিকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এই উদ্যোগগুলোকে ব্যাহত করার জন্য একটি চিহ্নিত গোষ্ঠি উঠে-পরে লেগেছে! এই গোষ্ঠিটি হিন্দু কিংবা মুসলমানদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নয়, মূলত রাজনৈতীক স্বার্থ হাসিলের জন্যই তাঁরা এদেরকে ব্যবহার করছে। আর নির্বাচনের আগ-পর্যন্ত এসব ষড়যন্ত্র চলতে থাকবে। মূলত মেয়রের সাথে ১ লাখ ভোটে হেরে যাওয়ার জ্বালা একটি পক্ষ এখনো ভুলতে পারেনি। এই ষড়যন্ত্র সেটারই প্রতিফলন”।
মেয়রের বিরুদ্ধে সুক্ষ্ম ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, “মডেল মসজিদের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ করা হয়েছে সেখানে আসলে তাঁর কোনো স্বার্থ নেই। আর সে (আইভী) তো জায়গা মাথায় করেও নিয়ে যায়নি! যতটুকু জানি সেখানে একটি মডেল মসজিদ হবে তাই সিটি করপোরেশন সেখানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে দোষের কিছুই দেখছিনা আমি। মূলত এটি একটি সুক্ষ্ম (তীব্র) ষড়যন্ত্র, যা শামীম ওসমান ও তাঁর অনুসারীরাই করছে”।
তিনি আরো বলেন, “একটি পক্ষ মেয়রকে সকলের কাছে অপ্রিয় করতে চায়, তাঁদের ইশারাতেই এসব হচ্ছে। তারা চাইছে যাতে সামনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নমিনেশন না পায়। কিন্তু যারা মিথ্যাচারের রাজনীতি করেন তারা কখনোই টিকে থাকতে পারে না। সত্যের কাছে মিথ্যা সর্বদাই পরাজয় বরণ করে। যেমন শামীম ওসমান আজ সকলের কাছে মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে”।
কোনো অভিযোগকারী মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে আনা একটি অভিযোগও এখন পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেনি উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শঙ্কর রায় বলেন, “মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, মেয়র নিজে সেগুলো খন্ডন করেছে বিভিন্ন জায়গায়। অভিযোগকারীরা কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে আনা একটি অভিযোগও এখন পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারে নাই। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে এই ইস্যুগুলো-তো বহু পুরনো। তাই যারা এখন এগুলো নিয়ে অভিযোগ করছেন তাঁদের উচিৎ ছিলো আরো আগে থেকেই এগুলো নিয়ে কাজ করার। কিন্তু এখন নির্বাচনের আগে কেন? আসলে সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে রেখেই এসব কৃত্রিম ইস্যু তৈরী করা হচ্ছে। আমি মনে করি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে হলে সেটার সত্যতা থাকা চাই। মিথ্যা কোনো বিষয় নিয়ে কারো বিরুদ্ধে অপপ্রচার করলে জনগণ সেটা গ্রহণ করবে না”।
নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু বলেন, “আসলে এগুলো হচ্ছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বিশেষ পক্ষের ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা। মডেল মসজিদের যেই বিষয়টি এটিতো প্রধানামন্ত্রীর নিজ উদ্যোগে সারা দেশেই হচ্ছে। তাই এটা নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাঁরা-তো আমাদের উন্নয়নকে ব্যাহত করারই চেষ্টা করছে। এর আগে ১৯৮৪ সালে আলী আহম্মদ চুনকা সাহেব যখন পৌরসভা নির্বাচন করে তখনো দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে একটি কথা উঠেছিলো! এরপর অনেকদিন তা নিয়ে কোনো কথা উঠেনি। কিন্তু এখন সেটা নিয়ে আবার কথা উঠার কারণ কি?”


