ফেব্রুয়ারি মাসে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ!
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২১, ১০:৩৫ পিএম
শুরুটা হয়েছিল ফেব্রুয়ারির শুরুতে। ৬ ফেব্রুয়ারি শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত জিউস পুকুর নামে কয়েক শত কোটি টাকা মূল্যের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তাঁর নিজ পরিবারের সদস্যদের উপর। সেদিন জিউস পুকুরপাড়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত মেয়র বিরোধী সমাবেশে উপস্থিত হয় কয়েক‘শ হিন্দু নারী-পুরুষ ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তবে সেই সমাবেশে মেয়রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে দেখা যায়, একটি বিশেষ পক্ষের সদস্যদের। তাঁরা সেদিন আইভীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে উস্কে দেওয়ার পাশাপাশি নানান অভিযোগ করেন। যদিও দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিষয়টি সামাল দিয়ে মেয়র আইভী দেবোত্তর সম্পত্তি ইস্যু নিয়ে দাবি করে বলেছিলেন, ‘এটার সাথে আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই।’
সপ্তাহ পেরোতেই এর কয়েকদিন পরে ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জুম্মার নামাজের পরে চাষাঢ়ার বাগে জান্নাত মসজিদের সামনে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে আরো একটি সমাবেশ করেন নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের নেতারা। সমাবেশে ওলামা পরিষদের নেতারা বাগে জান্নাত মাদ্রাসা উচ্ছেদ করে সেখানে পার্ক নির্মাণের অভিযোগ করেন আইভীর বিরুদ্ধে। এর জন্য সিটি নির্বাচনে মেয়রকে জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁিশয়ারি দেন ওলামা পরিষদের নেতাকর্মীরা। কিন্তু এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া মেয়র আইভী ও মাওলানা আউয়ালের ফোনালাপ হতে জানা যায়, যেখানে মাদ্রাসা ভেঙে পার্ক নির্মাণের অভিযোগ করা হচ্ছে সিটি করপোরেশন ও মেয়রের বিরুদ্ধে সেখানে উল্টো সিটি করপোরেশনের জায়গাই দখল করে রেখেছে মাদ্রাসা কমিটি! এছাড়া মাসদাইর কবরস্থানের পাশে সিটি করপোরেশন মাদ্রাসা ভেঙে দিয়েছে এমন দাবিও ধোপে টেকেনি। সুতরাং ওলামা পরিষদ আয়োজিত আইভী বিরোধী সমাবেশের যৌক্তিকতা ও হেফাজত নেতাদের নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে সকলের মাঝে।
মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগের পালে নতুন হাওয়া যুক্ত হয় ২৭-ফেব্রুয়ারি। ওই দিন বিকেলে শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত রাইফেল ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে মেয়রের বিরুদ্ধে ওয়াক্ফ এস্টেটের জমি দখল ও মসজিদ ভেঙে বাণিজ্যিক ভবন তৈরীর লিখিত অভিযোগ পেশ করেন মন্ডলপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে মন্ডলপাড়া জামে মসজিদের সেক্রেটারি বলেন, মেয়রের নির্দেশে ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে ওয়াক্ফ এস্টেটের নিজস্ব সম্পত্তিতে জোরপূর্বক উচ্ছেদ চালিয়ে ১১টি ঘর ফেঙে ফেলা হয়। যা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে করা হয়েছে। কিন্তু এরপর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূলত সেই জায়গাতে সরকারি অর্থায়ণে একটি মডেল মসজিদ নির্মিত হবে। তাই সেখানে সিটি করপোরেশন ও আইভীর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
তাই গত ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ, একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতা ও প্রগতিশীল ব্যক্তিরা।
এবিষয়ে সাংষ্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, ‘আসন্ন সিটি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র চলতে থাকবে। কারণ গত সিটি নির্বাচনে ১ লাখ ভোটে হেরে যাওয়ার জ্বালা একটি পক্ষ এখনো ভুলতে পারে নাই।’


