জরুরি সভায় মন্ত্রী-এমপি-মেয়রের ভাবর্মূতি ঠিক রাখার দাবি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২১, ০৯:৪৯ পিএম
দীর্ঘ ২১ মাস পর জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় একত্রিত হয়েছেন কমিটির নেতৃবৃন্দ। সম্প্রতি কয়েকটি ইস্যুতে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যেই অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। আশঙ্কা করা হয়েছিলো জরুরি সভায় বাকবিতন্ডা ঘটতে পারে। তবে অনৈক্যের বাইরের দৃশ্যপট ছাপিয়ে শান্তিপূর্ণভাবেই জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ( ৪ মার্চ ) সকাল ১১টায় শহরের দুই নং রেলগেইট এলাকায় আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। তিনি যুগের চিন্তা অনলাইনকে জানান, ‘বেশ কয়েকমাস বিরতি দিয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে জরুরি সভায় সম্পন্ন হয়েছে। যদিও দেরীতে হয়েছে, সামনের দিকে সবাইকে নিয়ে আরো ঘন ঘন বসা হবে। জরুরি সভায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।’
এদিকে সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ বিরতি দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভাকে নিয়ে উচ্ছসিত ছিল কমিটির নেতৃবৃন্দ। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্য দেয়ার সময় উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন কথা বললে এতে রাগ করেন জাহাঙ্গীর আলম। তখন জাহাঙ্গীর আলম তাকে শালীনতা বজায় রাখার কথা বলেন। জাহাঙ্গীর আলমের সাথে একমত প্রকাশ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। এসময় সাধারণ সম্পাদক এড.আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদল চুপ ছিলেন।
কোন কথা প্রসঙ্গে সভায় কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিলো, বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন সভাপতি আব্দুল হাই ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম দুজনই। সূত্র জানায়, জেলা আওয়ামী লীগের এই জরুরি সভায় তিনটি বিষয় ব্যতিত অন্যান্য বিষয়ে সকল নেতৃবৃন্দকে কথা না বলার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে সূত্র জানিয়েছে, সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ানের বক্তব্যটিও উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে স্পর্শ করেছে। সূত্র জানায়, দীর্ঘ ২১ মাস ধরে কেন সভার জন্য অপেক্ষা করতে হলো এটি আলোচনায় এসেছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভা কেন কেন্দ্রের নির্দেশনা দেয়ার আগে করা গেলনা। অনৈক্যের কারণটি নিয়ে কথা তোলার চেষ্টা করেছেন অনেক নেতৃবৃন্দ।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সভায় সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ঘিরে নানা অপপ্রচারের বিষয়েও কথা বলেছেন অনেক নেতা। এছাড়া কেন দলীয় কর্মসূচিতে স্বল্প সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করে সেটি নিয়েও কথা হয়। সূত্র জানায়, সভায় এক নেতা বলেছেন, মুখে মধু, অন্তরে বিষ নিয়ে একই দলে রাজনীতি করা কেমন ঐক্যের রাজনীতি। সাংগঠনিক পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা বলেন, জেলা কমিটি গঠনের পর সাংগঠনিক পদের কাজ কি সেটি নিয়ে কোন কথা হয় নাই। আড়াইহাজার, বন্দর, রূপগঞ্জ, ফতুল্লা, সোনারগাঁয়ে যেসব কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে সেখানে সাংগঠনিক সম্পাদককে সঠিক প্রক্রিয়ায় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়া হয়নি। আর যার কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রমে জেলা আওয়ামী লীগ পিছিয়ে পড়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, সভায় নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত মন্ত্রী, এমপিগণ, সিটি করপোরেশন মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রদের ভাবর্মূতি যাতে দলীয় কোন ব্যক্তির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার সুপারিশ করা হয়। কেউ এতে জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থার জোরালো দাবি জানানো হয়। ঐক্যবদ্ধভাবে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর দাবিও জোরেসোরে তোলেন কমিটির বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দ।
জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় গৃহিত কর্মসূচিগুলো হলো, আগামী ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা । ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর জম্মশত বার্ষিকী পালন উপলক্ষে জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ১৬ই মার্চ বিকেল তিনটায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিশাল বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। এবং ১৭ই মার্চ সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে জমকালো আতশবাজি ফোটানো ও চাষাঢ়া শহীদ মিনারে প্রাঙ্গণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।
এছাড়া আগামী ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় শহীদদের স্মরণে দলীয় কার্যালয়ে বিশেষ দোয়া ও মোমবাতি প্রজ্বলন। এছাড়া ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকাল দশটায় দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং আলোচনা সভা ও সন্ধ্যায় সমগ্র জেলা ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আতশবাজি ফোটানো হবে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের তত্ত্বাবধানে। এবং সন্ধ্যায় চাষাঢ়া শহীদ মিনারে প্রাঙ্গণে গণসংগীতের অনুষ্ঠানের আয়োজন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদলের সঞ্চালনায় জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা, খবির উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল কাদির, আদিনাথ বসু, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক সুন্দর আলী, একেএম আবু সুফিয়ান, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এড. নুরুল হুদা, মহিলা সম্পাদিকা মরিয়াম কল্পনা, শিক্ষা ও মানব বিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌসী আলম নীলা, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক খালিদ হাসান, বন ও পরিবেশ সম্পাদক রানু খন্দকার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নুর হোসেন, ধর্ম সম্পাদক ইসহাক মিয়া, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আলমাছ ভূঁইয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইফুল আলম, উপ-প্রচার নাসির উদ্দিন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. নিজাম আলী, উপ-দপ্তর সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সদস্য হালিম শিকদার, শামসুজ্জামান ভাষানী, এড. ইসহাক, মজিবুর রহমান মন্ডল, বিএম কামরুজ্জামান ফারুক, আমজাদ হোসেন, মির্জা সোহেল খান, মোজাহিদুর রহমান হেলো সরকার, শীলা রানী পাল, খন্দকার আবুল হোসেন টুকু, শাহজালাল মিয়া, সাদেকুর রহমান, মো. শহীদুল্লাহ।


