মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেছেন, রাজনীতি এখন আর ভাল লাগে না। নোংরা হয়ে গেছে রাজনীতি। এই রাজনীতি আর করতে ইচ্ছে করে না। সর্বত্র মিথ্যাচার আর মিথ্যাচার। নারায়ণগঞ্জে আগের সেই রাজনীতিটা নাই। মিথ্যায় ভরে গেছে। তাও আমাদের দলের দু’একজনের মিথ্যাচারে কারণে জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন সেলিম ভাইয়ের ডিও লেটারের কারণে একনেক থেকে পাস হলো কদমরসুল সেতু, আর নারায়ণগঞ্জের একজন জনপ্রতিনিধি বললেন, উনি কদমরসুল সেতু করে দিচ্ছেন। ছিঁ ছিঁ ছিঁ ছিঁ। কতবড় একটা মিথ্যের আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক মিথ্যে বক্তব্যের ফুলঝুড়ি ছাড়েন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য, বাদ দিতে হবে।
শুক্রবার (৫ মার্চ) বন্দরে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান।
খোকন সাহা আরো বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি, বিশাল সম্পদ থাকার পরেও সেলিম ভাই একটা খামারের টাকায় চলেন। আর বাকি টাকা এই জনগণের পেছনে খরচ করেন, নীরবে দান করেন। করোনার আগে ও পরে হাজার লোকের অন্ন যুগিয়েছেন তিনি। তিনি নিজের টাকায় উন্নয়ন করেন, আমিত্ব আমিত্ব ভাব উনার মধ্যে নাই। আর অনেকেই নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন করে বলেন, আমি করেছি, আমি করেছি। রাজনীতিতে আমিত্ব বাদ দেন। সেলিম ওসমানকে অনুসরণ করেন কীভাবে উন্নয়ন করতে হয়।
তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম ওনি (মেয়র আইভী) বলেছেন, সম্পত্তি ওনার নানায় কিনেছে, এত বড় সত্য গোপন। ওনাকে বলতে হবে ৩৮৩ শতাংশ সম্পত্তির ৫৭ শতাংশ ওনার নানা কিনেছেন ১০ হাজার টাকা দিয়ে। বাকী সম্পত্তি গেল কোথায়? এটা বলেন না কেন? একটা দলিলে আপনার নানা কিনেছেন ৫৭ শতাংশ, আপনার মা, ভাই, প্রভূ দাদা ও মামারা কিনেছেন এই সত্যগুলো অন্তত স্বীকার করেন।
খোকনসাহা বলেন, মাহতাবউদ্দিন সাহেব মারা গেছেন অনেক আগে, কেন তাকে দেবোত্তর সম্পত্তির ৩৮৩ শতাংশ’র দায়ভার দিচ্ছেন। এতে আপনার গুনাহ হবে, পাপ হবে। জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবেন আপনি। আপনার নানা কিনেছে ৫৭ শতাংশ জমি। যদি মিথ্যে বক্তব্য দেই আগামীকাল থেকে আর রাজনীতি করবো না।
তিনি বলেন, আপনার নানা ৫৭ শতাংশ, আপনার মা ৬০ শতাংশ। আপনার ভাইয়েরা সম্ভবত ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ, আপনার চাচাও কিনেছে। এখন বলছেন যে, আমার নানার থেকে ওয়ারিশ পেয়েছেন আমার মা। সেটা দোষ নেই। কিন্তু আপনার মা যে কিনেছে ? আপনার নানাতো আপনার মাকে দেয়নি। যারা অবৈধভাবে বিক্রি করেছে ১০ হাজার টাকায়, তারা আপনার নানাকেও দিয়েছে আপনার মাকেও দিয়েছে, অপনার ভাইকেও দিয়েছে। চাচা-চাচী, মামাকেও দিয়েছে। এইটা হচ্ছে সত্য। ঐ বয়স্ক লোকটা মাজহাবউদ্দিন সাহেব উনিতো ভাল মানুষ ছিলেন। ঐ লোকটার কাধে কেন চাপায়।
তিনি বলেন, আমার দেখা ৫০ বছরের রাজনীতিতে ওসমান পরিবার একটা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান থেকে সৎ রাজনীতিবিদ সৃষ্টি করা হয়।
তিনি আরো বলেন, এত বাড়াবাড়ি ঠিক না, সত্যের পথে আসেন ন্যায়ের পথে আসেন। সাংবাদিক ভাইদের দেখলাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করছেন। কেন করেছেন? কারণ ওনার পরিবারের পক্ষ হতে তিনচারটা সাংবাদিক ভাইদের নামে ডিজিটাল আইনে মামলা করা হয়েছে। আমি দেখবো সাংবাদিক ভাইদের ডিজিটাল আইনে মামলা দিয়ে কী আপনি করতে পারেন। ভুয়া মামলা করেছেন, এটা আমি প্রমাণ করব।
তিনি আরো বলেন, আর বিরুদ্ধেতো মামলা করছেনই। আমি ত্রিশজন জুনিয়র সৃষ্টি করেছি। আমার জুনিয়র বন্ধুরা আমাকে মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বললে আমি বলেছি না, মামলা করার দরকার নাই। মেয়র ভুল করতে পারে আমরা ভুল করতে পারি না।
তিনি বলেন, অনেক কিছুই বলব। দুই একটা পত্রিকায় লেখা, লেখতে থাকেন। আপনাদের সবাইকে বলতে চাই, আপনাদের বিরুদ্ধে আমি আইসিআইটি এ্যাক্টে মামলা করবো না। বলে দিব, ৭২ সনে মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও ব্যাংক লুট করেছিল আমি সব বলে দিব। বেশী বাড়াবাড়ি করবেন না। লুটেরার দল লুটেরার গোষ্ঠী যারা আছেন, আমি সব বলে দিব। এই শহরের ৫০ বছরের ইতিহাস আমি জানি।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বাবু চন্দনশীল, সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, বন্দর আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএ রশীদ, সাধারণ সম্পাদক কাজিমউদ্দিন প্রধান, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু প্রমুখ।


