শামীম ওসমান ধমক খেয়ে চুপ হয়েছেন: রফিউর রাব্বি (ভিডিও)
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২১, ১১:০৯ পিএম
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক ও নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি বলেছেন, “শামীম ওসমান ত্বকীকে একটি মেয়ে ঘটিত কারনে খুন হতে হয়েছে, এমনি লিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছিলো। ধমক খেয়ে চুপ হয়েছে! কারন প্রধানমন্ত্রী বলেছে কারা ত্বকীকে কিভাবে হত্যা করেছে সেটার আদ্দপান্ত সব তার জানা। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট তার কাছেও রয়েছে। ত্বকী হত্যাকারী কাকে কাকে কারা দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে তা তিনি জানেন। সুতরাং নতুন ইতিহাস লিখে লাভ হবে-না।
সোমবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ ৫নং খেয়াঘাটের সামনে ত্বকী হত্যার ৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সাংষ্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোরভাসান কর্মসূচীতে রফিউর রাব্বি এ কথা বলেন।
রফিউর রাব্বি বলেন, “২০১৩ সালের ১৩ই মার্চ যখন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আমাকে নাসিম ওসমান ও আজমেরী ওসমানের টেলি কথোপকথন শোনানো হয়। যখন আমি আজমেরী ও নাসিম ওসমানের টেলিফোনের সংলাপ শুনি তবেই আমি নিশ্চিত হই এটি ওসমান পরিবারের কান্ড! নাসিম ওসমান ও আজমেরী ওসমানের সেই ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ফোনালাপ-টি ছিলো মার্চের ১০ তারিখের। আর এইটি আমি ১৩ তারিখে শুনি। এরপর ১৫ তারিখে শহীদ মিনারে আয়োজিত আমাদের এক সমাবেশে আমি বলি শামীম ওসমানের পরিবার এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। সুতরাং এইটি মনে করার কোনো কারন নেই, যে আমারা কারো কথা শুনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি”।
তিনি বলেন, “শামীম ওসমান সংবাদ সম্মেলন করে কি প্রমাণ দেখাতে পারে ইতিপূর্বে আমারা তা দেখেছি। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে, পাসপোর্ট দেখিয়েছে। সে বিদেশে ছিলো! আমি বলেছিলাম তাঁরা যখন বিদেশে যায় তখন আমি বেশি আতঙ্কিত হই। তখন এখানে লাশ পড়ে! সেই পাসপোর্ট সাংবাদিকরা যখন দেখতে চেয়েছিলো তাঁদের তখন দেখানো হয়েছিলো। আমরা দেখার অপেক্ষায় আছি সে নতুন ফন্দি-ফিকির করে, কি হাজির করে”!
রফিউর রাব্বি বলেন, “৮ বছরে ত্বকী হত্যাকান্ডের অনেক কিছুই মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। শামীম ওসমানের অনুগত দু-একজন যে কথাটি আবার ছড়ানোর চেষ্টা করছে, সেটা হচ্ছে আসলে কি ত্বকী হত্যার কোনো অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়েছে কিনা। অথবা এটা সত্য কিনা! এবং ত্বকী হত্যার পর আজমেরী ওসমানের টর্চার সেলে অভিযানের সময় সেখানে যেই রক্তমাখা প্যান্ট উদ্ধার করা হলো সেইটি ত্বকীর প্যান্ট কিনা? আগষ্ট মাসের ৭ তারিখে আজমেরী ওসমানের টর্চার সেলে র্যাব যখন অভিযান চালায় এইটি দু’একটি চ্যানেল সরাসরি দেখিয়েছে। তখন ঢাকার সংবাদিকরা আমার কাছে জানতে চেয়েছে, যেই রক্তমাখা প্যান্ট পাওয়া গেছে সেটি ত্বকীর কিনা? আমি সাথে সাথে বলেছিলাম আজমেরীর টর্চার সেলে যেই প্যান্ট পাওয়া গেছে সেটি ত্বকীর প্যান্ট না। ত্বকীর প্যান্ট লাশ উদ্ধারের সময় পরনেই ছিলো। এই আজমেরী ওসমানের টর্চার সেলে অসংখ্য শিশু কিশোরকে হত্যা করা হয়েছে। এবং যেটি ধারনা করা হচ্ছে, সেই রক্তামাখা প্যান্ট আশিকের। কারণ আশিককে হত্যা করে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়ার পরে যখন আশিকের লাশ উদ্ধার করা হলো তখন তাঁর পরনে কোনো প্যান্ট ছিল-না। আশিক আমার বোনের ছেলে। কিন্তু আমরা কখনোই বলি নাই উদ্ধার করা প্যান্ট ত্বকীর। তাই এইটা উপস্থাপন করার সুযোগ নেই যে, টর্চার সেল থেকে পাওয়া প্যান্ট ত্বকীর হলে, লাশ উদ্ধারের সময় ত্বকীর পরনে প্যান্ট আসলো কিভাবে”!
তিনি বলেন, “তারা বলছেন আমি দাখিল করা এজাহারে বলেছি, মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে গণজাগরণের এই আয়োজনের জন্য তারা হত্যা করেছে এবং পরবর্তীতে তাঁদের নাম আমি বলেছি, এইটি সঠিক নয়। কারন আমি সেই মামলার মধ্যে স্পষ্ট করে বলেছি, আমার অতীত-বর্তমান বিভিন্ন সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক কর্মকান্ড ও চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে এখানে গড়ে ওঠা আন্দোলনে আমার ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে...। এই এজাহারে আমি কারো নাম উল্ল্যেখ করি নাই। কারন আমি চাইনি এটি নিয়ে রাজনীতি হোক। আমাকে অনেকেই বলেছে এই হত্যাকান্ড ওসমান পরিবারের নির্দেশেই হয়েছে; কিন্তু আমি হুট করে কারও নাম বলি নাই। কারন আমি মনে করতাম এর জন্য যথেষ্ট প্রমানের প্রয়োজন রয়েছে। আমি যদি অনুমানে কোনো কিছু বলে দেই, তাহলে এই হত্যাকান্ডের বিচার বাধাগ্রস্থ হবে”।
রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর চেষ্টা চলছে দাবি করে রফিউর রাব্বি বলেন, “শামীম ওসমান রাজাকারকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বানিয়ে দেবে? এতবড় সাহশ তাঁর হয় কিভাবে? সে কি মনে করছে, নারায়ণগঞ্জের কেউ পড়াশোনা জানে না? সে মাইক লাগিয়ে প্রশাসনের সামনে একটা বলে দিবে সেটা সত্যি হয়ে যাবে? রাইফেল ক্লাবের অস্ত্র লুট হয় নাই। আমাদের এখানে যখন ১২৪ জনের শান্তি বাহিনীর কমিটি গঠন করা হয়, তখন চাষাঢ়া অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোলাম রাব্বানীকে। সে নন্দী পাড়ার হিন্দুদের বাড়ি দখল করেছে। কিন্তু এখন তাকে মুক্তিযদ্ধের পক্ষে আনতে হবে। কেন আনতে হবে? কারন এই রাজাকারের সন্তান কাজল হচ্ছে ওসমান পরিবারের অন্যতম সহযোগী! এই কাজলকে এখন সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। আসলে এই পরিবারের সাথে সব খারাপ লোকের সম্পর্ক। বঙ্গবন্ধুর খুনী কিসমতের আপন ভাই কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু। এই শকুর সাথে কার সম্পর্ক? ওসমান পরিবারের সম্পর্ক। সুতরাং যতো রাজাকার আছে খুনী আছে সব এদের সাথে সম্পর্ক। এদিকে ত্বকী হত্যার সাথে যেই ১১ জনের নাম এসেছে সেই ১১ জনের মধ্যে শামীম ওসমানের বিয়াইয়ের ভাতিজা জ্যাকিও রয়েছে। সেও জড়িত এই হত্যাকান্ডের সাথে”।
অনুষ্ঠানে এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ সাংষ্কৃতিক জোটের সভাপতি ভাবাণী সংকর রায়, ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল, সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


