‘সন্ত্রাসমুক্ত নগরী গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি’ : গোপালগঞ্জে মেয়র আইভী
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২১, ১১:০৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘আমাদের হানিফ ভাই যখন ঢাকার মেয়র ছিলেন, তখন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মেন্যুফেস্টুনে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার একটি দাবি উঠেছিলো। সেই সুবাদে আমি বলবো স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আমরাও সবগুলো পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। এমন কোনো জেলা বা ইউনিয়ন নেই যেখানে ইউনিয়ন হচ্ছে না। আমি আরো আট-দশটা জেলার মতোই স্বাভাবিক সাধারণ নারায়ণগঞ্জ জেলা চাই। এবং সব ধরণের নাগরিক সুবিধা দিতে চাই। সেই নাগরিক সুবিধার মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেছেন, শিশু বান্ধব নগরী গড়তে হবে। সন্ত্রাসমুক্ত নগরী গড়তে হবে এবং সাধারণ মানুষকে সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। আর আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।
শনিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং বেশ কয়েক বছর ধরে আলোচনায়। নারায়ণগঞ্জেও আলোচিত হয়েছে। আমাদের বাচ্চারা যাতে বিপথগামী না হয় সেজন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।’
এর আগে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভী। পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সশ্রদ্ধ চিত্তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করছি। বঙ্গবন্ধু একটা দেশ দিয়েছেন। তাঁরই কন্যার নেতৃত্বে এদেশ এগিয়ে চলছে। যিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার।’
নাসিক মেয়র আইভী বলেন, ‘সিটি গভর্নেন্স ও উন্নয়নে নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। সিটি গভর্নেন্স অনেক আগের দাবি ছিল। প্রয়াত মেয়র হানিফ খান এই দাবি করেছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহারে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার জন্য দাবি উঠে এসেছে। এর আগে কিন্তু কোনো দলের জাতীয় ইশতেহারে এটি লেখা ছিল না। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সব জায়গায় কাজ করে যাচ্ছেন। এমন কোনো ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড নাই যেখানে উন্নয়ন হয় নাই।’
মেয়র আরো বলেন, ‘এটি এক দিনে হয়ে যাবে না, এটি সম্ভব নয়। আমরা কিন্তু সেই লক্ষে এগিয়ে চলছি। জাপানী দাতা সংস্থা জাইকার সহযোগিতায় আমাদের প্রজেক্ট চলছে যা সিটি গভর্নেন্স নামে পরিচিত। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে কীভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, কীভাবে অন্যান্য সংস্থাকে সাথে রেখে কাজ করা যায় এবং ভবিষ্যতে এককভাবে সিটি করপোরেশনগুলো কীভাবে কাজ করতে পারে সে জিনিসগুলো এখানে রয়েছে। আশা করি যখন এই যোগ্যতাটুকু অর্জন করে ফেলবো প্রতিটি সিটি করপোরেশনে সিটি গভর্নেন্স আজকে না হোক আগামী দশ বছর পরে হলেও অবশ্যই হবে।’
এসময় মেয়রের সাথে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবুল আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক মিয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রানু খন্দকার, নারী বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নূর হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. নিজাম আলী, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য মো. শহীদুল্লাহ, শামসুজ্জামান ভাষানী, ইউসুফ ভূইয়া ননী, মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি কামরুল হুদা বাবু, সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরবৃন্দ।


