খতিয়ে দেখা হচ্ছে আড়াইহাজারে বিএনপির চার নেতার কর্মকান্ড
আড়াইহাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২১, ০৩:১১ পিএম
যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে আড়াইহাজার থানা বিএনপির কমিটি। চার মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা পৃথকভাবে কমিটির তালিকা জমার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নানা কৌশলে করছেন লবিং। কমিটি বাগাতে না পারলে তাদের রাজনীতিতে পড়বে ভাটা। মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে নেতাকর্মীরা। এমন আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। তবে তাদের অতীত ফিরিস্তির পাতা যার যতবেশী ভাড়ী। কমিটিতে ঠাঁই পেতে তার জন্য ততবেশী সহজ হতে হবে। দলীয় কর্মকান্ডে যিনি সবর ছিলেন। হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। বিপদে-আপদে নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছেন। এলাকায় থেকে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। এমন নেতৃত্বের খোঁজে দলটির হাইকমান্ড।
জেলা বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, থানা কমিটি ঘোষণা করতে এরই মধ্যে গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষ কমিটি। তারা থানা কমিটিতে পদ-প্রত্যাশীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। কোনো প্রকার সুপারিশ আমলে নেবে না বিশেষ কমিটি।
থানা কমিটিতে লবিং করছেন সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, বিএনপির আন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির (ঢাকাবিভাগীয়) সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার। তারা পৃথকভাবে আড়াইহাজার থানা, আড়াইহাজার ও গোপালদী পৌরসভা কমিটি জমার প্রস্ততি নিচ্ছেন।
তবে কমিটিতে পেতে হলে বিশেষ কমিটি ধারা পরীক্ষা সম্মুখিন হতে হচ্ছে তাদের। খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাদের ফিরিস্তি। এরই মধ্যে নড়েচড়ে বসেছেন তৃণমুলের নেতাকর্মীরা। কমিটিতে ঠাঁই পেতে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা ভিড় করছেন নেতাদের অফিস কিংবা বাড়িতে। শুরু হয়ে গেছে ব্যাপক তোড়জোর। থানা পর্যায়ের নেতারা তৃণমুলের নেতাকর্মীদের দিয়ে যাচ্ছেন আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি। তবে অনেকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন কেউ কেউ। তুলে ধরছেন তাদের অতীতের নানা ব্যর্থতার চিত্র।
আড়াইহাজার থানা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ মিয়া বলেন, থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সুমন আজ পর্যন্ত আমাকে কোনো মিটিংয়ে ডাকেনি। তার রাজনীতিতে সম্পর্কে আমার খুব একটা ধারণা নেই। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিয়ষক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তার পেছনে যারা রাজনীতিতে জড়িত রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বির্তকিত। তাই আমাদের মতো অনেক সিনিয়র নেতা তার কাছ থেকে দূরুত্ব বজায় রেখে চলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সাবেক এমপি আঙ্গুরের রাজনীতিতে সম্পর্ক জানতে চাইলে বর্ষিয়ান এই নেতা বলেন, আঙ্গুর দলের জন্য সঠিক পথে কাজ করে না। কাজ করলে হয়তো ভালো করতে পারতেন। তার সঙ্গে হাতেগোনো মাত্র কয়েকজন ব্যক্তি নিয়ে দলীয় রাজনীতি করে যাচ্ছেন। পারভীন আক্তার সম্পর্কে তিনি বলেন, পারভীনের অবশ্যই জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনি দলের এই র্দুসময়ে তিনবার দলীয় মনোনয়ন পেলে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি তৃণমুল থেকে উঠে এসেছেন। তিনি নেতাকর্মীদের গুরুত্বটা কাছে থেকে বুঝেন। তিনি উপজেলা সদরে বসেই নিজ দলীয় কার্যালয়ে রাজনীতিতে ভুমিকা রাখছেন। সুমন ও আঙ্গুরের অধীনে দুইটি কার্যালয় রয়েছে। তাতে ১২ বছর ধরে ঝুলছে তালা। অপরদিকে আজাদের কোনো কার্যালয় আড়াইহাজার সদরে নেই।
আড়াইহাজার উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিতে একটি পরিবর্তন সময়ের দাবী। এ পর্যন্ত যারাই দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেছেন। তারা নিজেদের আঁখেরগোচানো ব্যতিত দলের জন্য কোনো কিছুই করেনি। তিনি বলেন, পারভীন আক্তার তৃণমুল থেকে উঠে এসেছেন। তার রাজনীতিতে একটি গুণগত পরির্বতনের আভাস পাওয়া যায়। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভাবেন। দলীয় সমর্থন পেয়ে কয়েকবার স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এতে তার ব্যাপক জনসর্মথন লক্ষ্য করা গেছে। তাকে নেতাকর্মীরা সব সময় কাছে পাচ্ছেন। সিনিয়র এই নেতার অভিযোগ, আড়াইহাজার থেকে যারা দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশা করছেন। তারা একদিকে ঢাকায় বসবাস করছেন। অন্যদিকে এলাকায় সর্বদা গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে জড়িত। এতে দলের ভার্বমূতি নষ্ট করাসহ দলের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলাবক্স মোবাইল ফোনে বলেন, সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর এলাকায় আসে না। তার সাথে দেখা করতে চাইলে ঢাকায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। তিনি আরও বলেন, আড়াইহাজারে আঙ্গুর ও সুমনের অধীনে দুইটি পার্টি অফিস রয়েছে। কিন্তু বিগত ১২ বছর ধরে অফিসে ঝুলছে তালা। তবে হামলা ও মামলা থাকা স্বত্বেও পারভীন আড়াইহাজার উপজেলা সদরে বসেই তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখছেন। ১২ বছর ধরে নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন অনোয়ার হোসেন অনু ও স্ত্রী আমাদের পাশে রয়েছেন। হামলা-মামলার শিকার কর্মীদের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।
আড়াইহাজার পৌরসভা বিএনপির নেতা রুপচান বলেন, সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর একজন জনপ্রিয় নেতা। তিনি অতীতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। তার নেতৃত্বে থানা কমিটি আসলে দলের জন্য ভালো হবে। উদ্ধার হবে আমাদের হারানো ভার্বমূতি।
থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক জহির বলেন, একজনযোগ্য ব্যক্তি মাহমুদুর রহমান সুমন। থানা কমিটি তার নেতৃত্বে আসলে রাজনীতিতে একটি গুণগত পরির্বতন আনতে পারবেন। তার বাবা মরহুম খসরু থানা বিএনপির একজন কর্ণধার। তিনি নিজের হাতে থানা বিএনপিকে গঠন করেছেন। তার হাত ধরে অনেকেই বিএনপির রাজনীতিতে অভিষেক হয়েছেন।
থানা যুবদলের আহবায়ক জুয়ের আহমেদ বলেন, নজরুল ইসলাম আজাদ একজন নির্যাতিত নেতা। তিনি আন্দোলনে ব্যাপক তৎপর রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি হামলার শিকার। থানা বিএনপির রাজনীতিতে তার নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবী।


