স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে গণসংহতির সমাবেশ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২১, ১০:২৭ পিএম
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সমাবেশ করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতি আন্দোলন।
শুক্রবার (১৯ মার্চ) বিকেলে চাষাঢ়ার শহীদ মিনারে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলসহ দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।
এছাড়া গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সম্মন্বয়কারী তরিকুল সুজনের সভাপতিত্বে ও জেলা ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি ইলিয়াস জামানের সঞ্চালনায় এ সময় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বি, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সম্মন্বয়কারী অঞ্জন দাস ও মশিউর রহমান রিচার্ড।
সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ একটি জাতীয় যুদ্ধ ছিলো, যার মধ্যদিয়ে আমরা একটি রাষ্ট্র পেয়েছি। ১৯৭১ সালে ত্রিশ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনীময়ে এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমরা স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পুর্তি উপলক্ষে আজকের এই সমাবশে দাড়িয়ে বাংলাদশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বৃটিশ আমল থেকে শুরু করে পুরো পাকিস্তান আমল ব্যাপী যারা রক্ত দান করেছেন এবং পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যার শিকার হয়েছেন সেই শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। একই সাথে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতীক নেতৃত্বকে শ্রদ্ধা জানাই যারা দেশের মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন ও অবদান রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে দাঁড়িয়ে আমরা দেশের অর্জন, দেশের প্রাপ্তি এবং দেশের নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এখানে আলোচনা করতে পারতাম। কিন্তু আজকে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে দাঁড়িয়ে আমাদের আলোচনা করতে হচ্ছে, বাংলাদেশ আদৌ টিকে থাকবে কিনা! দেশের রাজনৈতীক প্রক্রিয়া প্রায় নাই করে দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে মানুষের প্রতিবাদের কন্ঠ রোধ করা হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাচ্ছি’।
রফিউর রাব্বি বলেন, ‘যেই লক্ষে আমদের মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো, তার কোনটাই এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন ঘটেনি। বৃটিশরা যেভাবে আমাদের শোষণ করার জন্য আইন তৈরী করেছিলো সেই আইনটি পশ্চিমারা পাকিস্তান আমলে যেমন পরিবর্তন করেনি, ৭১ সালের পর আমাদের শাসকগোষ্ঠিরাও সেই আইন পরিবর্তন করেনি। যার ফলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনতার পর এই পঞ্চাশ বছরে যেমন হওয়া দরকরা ছিলো তেমনটি হয়নি। তাই এর বিরুদ্ধে আন্দোলনই হচ্ছে আমাদের জন্য সবচেয়েয়ে জরুরী’।
তরিকুল সুজন বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে ৮ বছর ধরে ত্বকী হত্যার বিচার থেমে আছে। এই বিচার কারা বন্ধ করে রেখেছে, সেটা নারায়ণগঞ্জবাসী জানে। আমাদের বিচার ব্যবস্থা এটি ভয়ঙ্কর অবস্থাতে আছে। এছাড়া চাল, ডাল ও তেলের দাম বাড়ছে কিন্তু মানুষের একটি টাকাও বেতন বাড়েনি। মূলত এতে মানুষ হীমশিম খাচ্ছে। যা বাংলাদেশের মানুষ কোনো দিন চায়নি’।


