মার্চ মাসটা যাইতে দেন, আমি নামবো মাঠে : শামীম ওসমান (ভিডিও)
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২১, ১১:১৩ পিএম
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, আল্লাহর কাছে শুধু ধৈর্য্য চাই। কিছু কিছু জিনিস আমার সহ্য হচ্ছেনা। মার্চ মাসটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাই কিছু কথা বলবোনা। অনেক কিছু দেখতাছি, কিচ্ছু বলিনা। শুধু দেখি। আল্লাহ মসজিদে আঘাত আসলে আমাদের চুপ করে থাকলে হবেনা, জবাব দিতে হবে। কিছু আলেম প্রতিবাদ করেছে আল্লাহ তাদের কবুল করুক, আবার অনেক চুপ করে বসে আছেন, আল্লাহ তাদের তৌফিক দিন। বাগে জান্নাত মসজিদ আমার বাড়ির সামনে, ছোটবেলায় আমি সেই মাঠে খেলছি। এটা আগে কবরস্থান ছিল। আমি দেখছি সেইখানকার পর্চায় লেখা আছে একটা মসজিদ, একটা মাদ্রাসা হইছে। পর্চায় লেখা আছে এজায়গাটি শুধুমাত্র ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হবে। তাই হয়েছে, একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা হয়েছে। আমার বড় ভাই সেলিম ওসমান সেখানে টাকাও দিয়েছেন। মাদ্রাসা ভালো রেজাল্টও করেছে। নারায়ণগঞ্জে এক মহিলা আছে। ওই মহিলা গিয়ে বললো মসজিদটাও ভাঙতে হবে, মাদ্রাসাটাও ভাঙতে হবে। মসজিদ, মাদ্রাসা উঠাইয়া কি করবেন? এখানে পার্ক করবেন। একটা গড়া জিনিস, ৩/৪ কোটি টাকা দিয়া মসজিদ হইছে। টাকাটা হচ্ছে জনগণের ট্যাক্সের টাকা। যদি এটা বুঝতাম আমার বিশাল রাজপ্রসাদ আছে, আমার এক ভরি স্বর্ণও নাই। মার্কেট করে কি করবেন, নিচের তলায় দোকান থাকবে, দোতলায় মসজিদ থাকবে। এরপর কি বলছে সেটা আমি একজনের কাছ থেকে শুনছি, নিজে শুনি নাই। কিন্তু আমি ধরমু। আমি বলছি, ৭০০ কোটি মানুষ একদিকে আছে, আমি একলা আছি একদিকে মসজিদ, আর মাদ্রাসায় খালি হাত দিয়া দেহাক। আমার জবাব যখন আমারে দিতে হবে, আমি দিমুনা!
শনিবার (২০ মার্চ) রাতে আলীরটেক ইউনিয়নের ডিগ্রিরচর গ্রামে ওলামা পরিষদ আলীরটেক ইউনিয়নের উদ্যোগে ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মডেল মসজিদ প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৫৬০টি মসজিদ একসাথে সারাবাংলাদেশে করতেছেন। নারায়ণগঞ্জে মন্ডলপাড়ায় একটি মডেল মসজিদ হওয়ার কথা। ৮৩ শতাংশ জায়গা আছে, কার? ওয়াকফর। সেখানে ৫৪৮ বছরের পুরোনো মসজিদ। ওই মহিলার কাছে ওয়াকফ প্রোপারটির এক ভদ্রলোক ফোন করলে বললেন সামনের জায়গাটা দেন,এটা আমি করবো। উনারা বললেন, বোন এখানে হাত দিয়েননা। এটা আল্লাহর সম্পত্তি। ভদ্রলোক বিদেশ চলে গেলে, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের টেন্ডার হয় নাই। রেলওয়ের অর্ধেক জায়গা আর ওয়াকফার অর্ধেক জায়গার মধ্যে তারা জোর করে ঢুকে পড়লো। আসলে সেখানে উদ্দেশ্য কি? ওই একই উদ্দেশ্য, সেখানে নাকি তিনি গাড়ির পার্কি বানাবেন! আসলে দোকান বানাইলেই তো লাভ আর লাভ। নারায়ণগঞ্জে এতো আলেম, আওয়াজ নাই। ভারতে কি হইলো তা নিয়া কত কি? আউয়াল সাহেবের সব কথার সাথে আমি একমত না। কিন্তু তাকে আমি শ্রদ্ধা করি। আউয়াল সাহেবের কথা রেকর্ড করতে গিয়াই যদি এতো কথা কয়, ইদেশি, বিদেশি, ভাইস্যা আইছি নাকি! সেখানে একটা কথা বললো, মাদ্রাসা নাকি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান! মাদ্রাসা চলে মানুষের দানে, সেখানে কোরআন শিক্ষা হয়।
শামীম ওসমান বলেন, করোনার সময় ফোন দিলে গরীব মানুষকে গালি দেয়। ওয়াকফ সম্পত্তি যেমন রেজিষ্ট্রি হয়না তেমনি দেবোত্তর সম্পত্তিও রেজিষ্ট্রি হয়না। ৭১ সালে কয়েকধরণের মুক্তিযোদ্ধা ছিল। কে অরজিনাল, কে ভূয়া আমি দেখছি।এতো সম্পদ আসে কোত্থাইকা। অনেক কথাবার্তা বলে অনেকে। এমন কোন গালি নাই আমারে দেয়না। এবার আমি জবাব দেবো। জবাবটা ডকুমেন্ট দিয়ে দিবো।
হকার ইস্যু নিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ভোটের সময় আরে বাপরে বাপ, নাটক কী? গরীব মানুষের সাথে জড়াইয়া ধইরা ছবি তোলে। তখন গরীবের ঘামের কোন গন্ধ নাই। ভোট শেষ, রাস্তার পারে হকার আছে, পিডাও ব্যাডাগো ধইরা। এমন জোরে মারো যাতে পিডের চামড়া উইঠ্যা যায়। আল্লাহ স্বাক্ষী আমি সেইদিন দেখলাম, পুলিশের দোষ দেই না। চাপ থাকে, রাস্তার পাশে হকার বসতে পারবেনা। আমি দেখতাছি, উপর থাইকা মারতাছে, ভাবলাম বাইরামু! আমি জানি বাইরোইলে কি হইবো। আমি শামীম ওসমান রাস্তায় পাড়া দিলে শহরে কী হইবো আমি জানি। ১০ হাজার লোক এক লাখ লোক হইতে সময় লাগবোনা। আমি সেইদিন বেইমানি করছি, আমি যাই নাই। আন্দোলনডা করাইলো কমিউনিস্টরা। গরীবের জন্য জান দিয়া লায় কমিউনিস্টরা। ওই মঞ্চেও থাকে, আবার এই মঞ্চেও থাকে। মইধ্যে খানে মাইর খাইলো হকাররা। আমার কাছে তখন অসহায় লাগছিল, তাই দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ছি, আল্লাহর কাছে মাফ চাইছি। গরীব মানুষের হাঁকে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।
শামীম ওসমান বলেন, এই মাসটা শেষ হইতে দেন, আমি নামবো মাঠে ইনশাল্লাহ। মসজিদ, মাদ্রাসায় হাত দিতে হইলে আমার বুকের উপর দিয়ে গিয়ে হাত দিতে হবে, এর আগে পারবেননা।
শামীম ওসমান বলেন, দেশটাকে নিয়ে অনেক খেলা হচ্ছে, ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। গভীর ষড়যন্ত্র। আপনারা ফাঁদে পা দিবেননা।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ছিলেন, হবিগঞ্জের মাদরায়ে নূরে মদিনার মহাপরিচালক আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, পীরজাদা মবিন উদ্দিন আহমেদ নওশীন মিয়া, মাওলানা আব্দুল খালেক শরিয়তপুরী, মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মাওলানা হারুনুর রশিদ। সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল সাত্তার সরকার।


