তান্ডব চালিয়েছে হেফাজত, গ্রেফতার হয় বিএনপি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৩৮ পিএম
গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের সকাল সন্ধ্যা হরতালের নামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতার ঘটনায় পুলিশ ও র্যাবের দায়ের করা পৃথক ৬ টি মামলায় এ পর্যন্ত বিএনপি, জামাত ও হেফাজতের অন্ত্যত অর্ধশত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকেই ২৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বিএনপির ১২ জন। জামায়াতের ৩ জন এবং হেফাজতের রয়েছে ১৩ জন নেতাকর্মী।
এছাড়া রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ এবং আড়াইহাজারেও এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হেফাজতের ডাকা হরতালে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং নাশকতার ঘটনায় বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেনা সংগঠনটির নেতারা। তাদের মতে বিএনপি নেতাদের মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। যদিও পুলিশের দাবি সুষ্ঠু তদন্ত এবং স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই বিএনপি নেতাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের এতে ফাঁসানো হচ্ছে। এই মামলা অতীতের গায়েবি মামলা ধারাবাহিকতা।’
বিএনপি নেতাকর্মীদের আটকের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘হেফাজতের হরতালে আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিলোনা সেইসঙ্গে এতে বিএনপি কোনো সমর্থনও করেনি। সেদিনের ঘটনায় পুলিশ যেসব ভিডিও ফুটেজ পেয়েছে সেই ফুটেজেও কোনো বিএনপি নেতাকর্মীদের ছবি ছিলোনা। তবে সরকার যেহেতু অনেক আগে থেকেই বিএনপিকে তাদের কঠিন প্রতিপক্ষ মনেকরে, তাই আমাদের রাজনৈতীক ভাবে কোনঠাসা করার জন্যই, পুলিশ এই মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার কর্যক্রম পরিচালা করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাশুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হেফাজতের নাশকতায় ঘটনায় আমাদের বিএনপির নেতাদের কোনো রকমের সংশ্লিষ্টতা নেই। তবুও সরকার তাদের পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে বিএনপির নেতাদের উপর মিথ্যা মামলা চাপিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করাচ্ছে। এর আগেও হেফাজত ২০১২ এবং ২০১৩ সালের যখন সারাদেশে নাশকতা করেছে তখনও বিএনপি নেতাদের উপর মামলা ও তাদের গ্রেপ্তার করেছে সরকার। এটা তাদের রাজনৈতীক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তাই সরকারের বোঝা উচিৎ বিএনপি নেতাদের উপর আর কতো নির্যাতন করবেন? আল্লাহর কাছ থেকেও কিন্তু গজব আসে!’
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি বলেন, ‘আমাদের বিএনপি নেতাদের সরকার তাদের কঠিন প্রতিপক্ষ ভাবার পাশাপাশি আমাদের কার্যক্রমে তারা ভয় পায়। তাই হেফাজতে ইসলামের নাশকতার ঘটনায় বিএনপি নেতাদের ঘায়েল করার চেষ্টায় মেতেছে তারা। এতে তাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে পুলিশ বাহিনী। অথচ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত পুলিশ সদস্যদের বোঝা উচিৎ তাদের মূল দ্বায়িত্বটা আসলে কোথায়। তাই আমরা অবশ্যই এর প্রতিবাদ কববো, শুধু তারেক রহমানের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি।’
কিন্তু নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের নাশকতার ঘটনায় এ পর্যন্ত যেসব বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের সবাইকেই সঠিক প্রমাণ এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনা হয়েছে দাবি করে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো বিএনপি নেতাদেরই বিনা কারণে গ্রেপ্তার করিনি। যারা যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের সকলের নাশকতায় সাথে যুক্ত থাকার সত্যতা এবং প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।’
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধীতা করে সারাদেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালন করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে সেদিন নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রীতিমতো তান্ডব চালায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর হেফাজতের ইসলামের নেতাকর্মীরা। এ সময় হেফাজত কর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকাজুঁড়ে অগ্নি-সংযোগসহ বিভিন্ন ছোটবড় যানবাহনে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এতে পুলিশ ও হেফাজতকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সেইসঙ্গে এ সময় সাংবাদিক, পুলিশ ও হেফাজতের অর্ধশতাধীক সদস্য আহত হয়। তাই এই ঘটনায় ২৯ মার্চ রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশ ও র্যাব বাদী হয়ে ৬ টি পৃথক মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৪৩ জনের নাম উল্লেখকরে অজ্ঞাতনামা আরো ২ হাজার ৬০০ জানকে আসমী করা হয়।


