কোভিড-১৯ বা নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে সকল প্রকার জনসমাগম এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সাথে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলগুলো সাংগঠনিক ভাবে অনেকটা নিরব রয়েছে।
অথচ, লকডাউনের আগে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ছিলো বেশ উত্তপ্ত। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মধ্যে নেতৃত্ব, কর্তৃত্ব, কমিটি ও সিটি নির্বাচনসহ ইউনিয়ন নির্বাচন নিয়ে ছিলো এই উত্তাপ। বিশেষ করে ইসলামী দল হেফাজত ইসলামও ছিলো সরব। জাতীয় পার্টিও ছিলো কমিটি গঠন নিয়ে ব্যস্ত। এমনকি বিএনপিও সাংগঠনিক ভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠেছিলো। জেলার আহবায়ক কমিটি আসার পর পৌর ও থানা কমিটিগুলো গঠনে বিএনপি নেতারা পুরোদস্তর কাজ করছিলো।
কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কথা সংক্রমণ এড়াতে গত ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করে রাষ্ট্র। এরপর জনসমাগমেও আসে নিষেধাজ্ঞা। ফলশ্রæতিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও হেফাজতে ইসলামসহ অন্যান্য দলগুলো আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যা এখনো বহাল। ফলে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন মিইয়ে গেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই দৈনিক যুগের চিন্তাকে জানিয়েছেন, করোনার কারণে দলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। কেন্দ্র থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত জেলায় আওয়ামী লীগের যেকোন ধরনের সমাগম, কমিটি গঠনের কার্যক্রমসহ অন্যান্য বিষয়গুলো স্থাগিত থাকবে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হাই রাজু দৈনিক যুগের চিন্তাকে জানিয়েছেন, তাদের থানা ও পৌর কমিটি গঠনের কার্যক্রম পুরোদস্তর চলমান ছিলো। বিভিন্ন থানায় উপ-কমিটির লোকজন আসা যাওয়া করার মাধ্যমে কার্যক্রম চালাচ্ছিল। কিন্তু করোনার কারণে আনুষ্ঠানিক ভাবে তা বন্ধ রয়েছে। যদিও হেফাজত ইসলামের সৃষ্ট তান্ডবে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা হওয়ায় গ্রেফতার এড়াতে তারা আগে থেকেই আত্মগোপনে ছিলো।
নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ আছে। লকডাউন শিথিল হলেও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে এখনো কেন্দ্র থেকে কোন নির্দেশনা আসেনি।
তবে, ঈদের পরই হয়তো সাংগঠনিক কার্যক্রম চালু হবে। করোনার প্রকোপ না বাড়লে এতোদিনে আমাদের জেলা, মহানগর ও অন্যান্য থানা-ইউনিয়ন কমিটিগুলো গঠন হয়ে যেত। কিন্তু করোনার কারণে তা হচ্ছে না। তবে, আমাদের কমিটিগুলো গুছানো ছিলো। করোনার কারণে আনুষ্ঠানিক ভাবে তা করা যাচ্ছে না। ঈদের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটিগুলো করা হবে।’


