Logo
Logo
×

রাজনীতি

শক্ত অভিভাবকের ভূমিকায় হাই ও আনোয়ার

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২১, ০৪:১৯ পিএম

শক্ত অভিভাবকের ভূমিকায় হাই ও আনোয়ার
Swapno

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুই অভিভাবক আবদুল হাই এবং আনোয়ার হোসেন। একজন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, অপরজন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। একজন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং অপরজন বর্তমান চেয়ারম্যান। জেলা ও মহানগরে দলের সব নেতাকর্মীদের অভিভাবক এই দুই নেতা। দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করাও তাদের দায়িত্ব। আওয়ামী লীগের কেউ যদি তার করা অপকর্মের মাধ্যমে দলের ক্ষতি করেন সেটা দেখার দায়িত্বও তাদের। নিজেরা প্রতিরোধ করতে না পারলে দলের কেন্দ্রে রিপোর্ট করবেন তারা।

 

তারা কি তাদের উপর অর্পিত এই দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করছেন? নাকি এই দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করছেন? তারা কি ন্যায় নীতির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন? নাকি অপশক্তির বা অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন? এসব বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সচেতন মহলের সাথে আলাপকালে অনেকেই জানান আওয়ামী লীগের এই দুই সভাপতি সঠিক পথেই রয়েছেন। তারা কাউকে তোয়াজ করে রাজনীতি করেন না। ন্যায়সঙ্গত কথা বলতে কাউকে ছাড় দেন না। এমন কি কেউ যদি দলের ভাবমূর্তি ক্ষতি হয় এমন কথা বলেন তাহলে সেটার প্রতিবাদ করতেও তারা ছাড়েন না।

 

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান যে মনগড়া বক্তব্য দিয়েছেন বেশ সাবলিল ভাষায় শামীম ওসমানের বেফাঁস বক্তব্যকে প্রত্যাখান করেছেন এই দুই নেতা। একটি টেলিভিশনের টকশোতে শামীম ওসমান বলেছেন তার দলে যেমন ত্যাগী নেতা রয়েছেন আবার দুর্নীতিবাজও রয়েছেন। কারো নাম না বলে শামীম ওসমান বলেছেন নারায়ণগঞ্জের তার দলের কে বা কারা নাকি বিদেশে শত শত কোটি টাকা পাচার করছে, আবার শত কোটি টাকার বাড়ি বানাচ্ছে। শামীম ওসমানের এই বক্তব্য সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আবদুল হাই ও আনোয়ার হোসেন দুইজনেই তার এই বক্তব্যকে প্রত্যাখান করেছেন।

 

আবদুল হাই বলেছেন শামীম ওসমান যে অভিযোগ করেছেন সেই সম্পর্কে শামীম ওসমানই ভালো বলতে পারবেন। আবদুল হাইয়ের জানা নেই নারায়ণগঞ্জের কোনো নেতা বিদেশে টাকা পাচার করছেন কিনা বা কেউ শত কোটি টাকার বাড়ি বানাচ্ছেন কিনা। তিনি আরো বলেছেন তার নিজের এক কোটি টাকাও নেই। এই ধরণের কথায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষতি হয় বলেও তিনি মতামত ব্যক্ত করেন। অপরদিকে আনোয়ার হোসেন এ বিষয়ে আরো জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন শামীম ওসমান এমন কথা বহুদিন ধরেই বলছেন। কিন্তু শামীম ওসমানের কাছে এসব কথার কোনো প্রমাণ নেই।

 

তিনি আরো বলেন নারায়ণগঞ্জে দলের কেউ শত কোটি টাকার বাড়ি বানানোর কথাও সঠিক নয়। তিনি পরিস্কার করে বলেন বাড়িতো আমি বানিয়েছি, আইভী বানিয়েছে, শামীম ওসমানও বানিয়েছে। কেউ অল্প টাকায় রুচিসম্মত বাড়ি বানায় আবার কেউ সেটা পারে না। তিনি শামীম ওসমানের এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে মতামত ব্যাক্ত করেন। যদি প্রমান থাকে তাহলে তিনি সেটা আইনশৃংখলা বাহিনীকে জানাতে পারেন বলেও তিনি মতামত ব্যাক্ত করেন।


এদিকে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করেন শামীম ওসমান কারো নাম না বললেও তার আক্রমনের নিশানা যে আইভী সেটা বুঝেন সবাই। এই দুই নেতাও বুঝছেন বলে সবাই মনে করেন। বুঝেই তারা এই জবাব দিয়েছেন। তাই অনেকে মনে করেন মেয়র আইভীর সঙ্গে যে তাদের খুব ভালো সম্পর্ক তাও নয়। বরং আইভীর সঙ্গে তাদের এক ধরনের দূরত্বই রয়েছে। কিন্তু তারপরেও তারা যা বলেছেন সেটা ন্যায়নীতির পক্ষে বলেছেন। তারা সেটা দেখেননি যে তাদের বক্তব্য কার পক্ষে গেলো।

 

তাই তারা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে যথাযথ অভিবাবকের দায়িত্বই পালন করেছেন বলে আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করেন। কারন শামীম ওসমান নিজেও জানেন তিনি যা বলছেন তার কোনো প্রমান তার হাতে নেই। তিনি হয় বুঝে মিথ্যা বলছেন, না হয় তিনি মানষিক বিভ্রান্তিতে আছেন। সর্বশেষ শামীম ওসমান বলেছেন তিনি নাকি ঈদের পর আরো কার কার মুখোশ উম্মোচন করবেন। শামীম ওসমানের এই বক্তব্যের পরও কেউই তাকে পাত্তা দিতে চাইছেন না। বরং শামীম ওসমান নিজেই নানা দোষে দোষী বলে অনেকে মন্তব্য করছেন। তাই আগামী দিনগুলিতেও আবদুল হাই এবং আনোয়ার হোসেন দলের স্বার্থের প্রশ্নে শক্ত অভিভাবকের ভূমিকায়ই থাকবেন বলে আওয়ামী লীগের তৃণমূল সহ নারায়ণগঞ্জের সাধারন মানুষও মনে করেন। 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন