মোদি বিরোধী আন্দোলনে হরতাল ও মাওলানা মামুনুল হক ইস্যুতে সৃষ্ট তান্ডবের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে পৃথক ১৩টি মামলা রুজু হয়। এসব মামলায় হেফাজত তো বটেই আসামী হয়েছে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মামলার পর গ্রেফতার এড়াতে এসব দলের নামি-বেনামি আসামীরা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। প্রায় দেড় মাস যাবত ঘর-বাড়ি ছেড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে দিক-বিদিক।
এই অবস্থায় শেষের পথে পবিত্র মাহে রমজান মাস। ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলিম ধর্মালম্বিদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এই উৎসবে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতাদের মাঝে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। গ্রেফতার এড়াতে ঘর-বাড়ি, পিতা-মাতা ও স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাইরে অবস্থান করছেন। এই অবস্থায় পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়াটা দুরহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আসন্ন ঈদুল ফিতরে নিরানন্দ ঈদের শঙ্কায় ভুগছেন বিএনপি নেতারা।
জানা গেছে, এসব মামলায় বিএনপির সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন, তার ছেলে কাউন্সিলর সাদরিল, বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হাই রাজু, মনিরুজ্জামান রবি, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মন্তু, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর প্রধান, যুবদল নেতা টিএইচ তোফা, অকিলউদ্দিন ভূইয়া, জুয়েল প্রধান, লিয়াকত হোসেন লেকু, কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন, বিএনপির প্রয়াত নেতা আলী হোসেন প্রধান, ইমাম হোসেন বাদল, আইয়ুব আলী মুন্সী, মোশারফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম দেওয়ান, মুফতী রুবেল, শাহআলম মানিক, রিপন, সালাউদ্দিন, আকরাম, মালেক ওরফে গাট্টা মালেক, মান্নান ডাক্তার, গোলাম কিবরিয়া, তৈয়্যব হোসেন, কামাল হোসেন, মনির হোসেন, মো. সোহেল, মোঃ জুয়েল, ফয়সাল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রওশন আলী, মহানগর ছাত্রদলের সেক্রেটারী মমিনুর রহমান বাবু, ছাত্রদল নেতা সাগর, জামায়াত নেতা বশিরউল্লাহ, মাসুম বিল্লাহ, শিবিরনেতা রাসেলসহ আরো অনেকেই রয়েছেন আসামীর তালিকায়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমরা একটা উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য উৎকণ্ঠা এবং উদ্বেগের কারণ। বর্তমানে আমাদের বিরুদ্ধে যেই মামলা মোকদ্দমা, এটা বর্তমান সরকারের জুলুম নির্যাতনের বর্হিপ্রকাশ। তারা সর্বদাই মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। এই অবস্থায় আমরা আমাদের পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবো কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি।’
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হাই রাজু দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘সরকার বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনকে ভয় করছে। সেই ভয় থেকেই তারা মামলা দিয়ে দাবিয়ে রাখতে চাইছে। পাশাপাশি যেই লকডাউন চলছে, সেটা নামমাত্র লকডাউন। যাতে করে জনগণ যেন তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মাঠে নামতে না পারে। আর এই অবস্থায় মামলার আতঙ্কে ঘর ছেরে বাইরে বাইরে থাকাটা নেতাকর্মীদের জন্য অবশ্যই কষ্ট দায়ক। ঈদের মধ্যেও পরিবার থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন।’
জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘হেফাজত ইসলামের ঘটনায় বিএনপি ও সহযোগি দলের নেতাদের বিরুদ্ধে যেই মামলা দিয়েছে, এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বিএনপির উপর সরকারের যেই নির্যাতন নিপীড়ণ ছিলো, এটা এখন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সবমিলিয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে।’
মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা বলেন, ‘এই উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রায় ১৫ বছর ধরেই চলছে। হেফাজতের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদেও নামে মামলা দেয়া হয়েছে। রমজান মাস চলছে, ঈদ এসে গেছে। এই অবস্থায় আমরা কেউই পরিবার পরিজনের সাথে ঘরে থাকতে পারছি না। জাতীয়তাবাদী আদর্শে যারা বিশ্বাস নিয়ে যারা রাজনীতি করছে, তারা সকলে এখন নিজ নিজ পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহর কাছে মাগফেরাত কামনা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।’
মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাগর প্রধান বলেন, ‘আমাদের কোণঠাসা করতে সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার ভয় পেয়ে জনগণের দল বিএনপিকে দাবিয়ে রাখতে মামলা দিয়েছে। পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করাচ্ছে। এই অবস্থায় বিএনপিসহ যুবদল ও অন্যান্য সহযোগি দলের নেতারা গ্রেফতার আতঙ্কে ঘর-বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমিও আমার পরিবারকে সময় দিতে পারছি না। সবছেড়ে বাইরে অবস্থান করতে হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসজুড়ে এই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরেও আমরা পরিবারের সাথে মিলিত হতে পারবো না। হয়তো সামনের ঈদের আনন্দ আমাদের ভাগ্যে নেই।’


