এবারও বিনা ভোটেই চেয়ারম্যান হতে চান তারা!
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২১, ০৮:৫১ পিএম
আবারও বিনা ভোটেই থেকে যাওয়ার চিন্তায় বিভোর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চার ইউনিয়নের চার চেয়ারম্যান। তারা হলেন, কাশীপুরের চেয়ারম্যান সাইফ উল্লাহ বাদল, বক্তাবলীর চেয়ারম্যান শওকত আলী, এনায়েতনগরের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান এবং ফতুল্লার চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন। এই চার চেয়ারম্যানের মাঝে আবার ফতুল্লার চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন হলেন একেবারেই ফাও চেয়ারম্যান।
কারণ তিনি কখনো চেয়ারম্যান নির্বাচনই করেননি। তিনি মেম্বার থেকে চেয়ারম্যান হয়েছেন। কারণ এই ইউনিয়নটিতে গত পঁচিশ বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাচনই হচ্ছে না। এই ইউনিয়নের মেম্বাররাও অনেকে বেঁচে নেই। তাই মেম্বার থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়ে এক যুগের বেশি সময় ধরে এই স্বপনই চেয়ারম্যান। এবারও এখানে নির্বাচন হচ্ছে না এবং তিনিই চেয়ারম্যান হচ্ছেন। ফলে এই স্বপনের এলাকা সবচেয়ে অবহেলিত। ফতুল্লা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা হচ্ছে এবং রাস্তাঘাট ভাঙ্গা।
এদিকে কাশীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফ উল্লাহ বাদল বিগত নির্বাচনে জোর করে চেয়ারম্যান হয়েছেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ। তাদের অভিযোগ হলো কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিগত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওমর আলী। কিন্তু ওমর আলীর পরিবার পরিজনকে ভয়ানক চাঁপ দিয়ে তাকে বসে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তাই কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে বিগত নির্বাচনে জোর করে চেয়ারম্যান হয়েছেন সাইফ উল্লাহ বাদল। তাই এবারও তিনি একই কায়দায় থেকে যাবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এবার এমনিতেই বিএনপি ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে না। তাই সহজেই এবার বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হতে পারেন সাইফ উল্লাহ বাদল।
অপরদিকে বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলীর বেলায়ও একই কথা প্রযোয্য। বিগত নির্বাচনে এই ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আকবর আলী সুমন। কিন্তু তাকেও জোর করে বসিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই এবারও একই কথা শোনা যাচ্ছে। বিএনপি এবার নির্বাচন করবে না। আর আওয়ামী লীগ থেকে শওক আলীর বিপক্ষে দাঁড়ানোর কেউ নেই। তাই তিনিই আবার আসছেন বলে মনে করেন বক্তাবলী ইউনিয়ন এলাকার মানুষ।
অপরদিকে এনায়েতনগর ইউনিয়নে গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা হলেও এখানে সকাল নয়টার মধ্যেই সকল কেন্দ্র দখল করে নেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নয়টার পর বিএনপি আর জাতীয়পার্টির প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে নির্বাচন বয়কট করার ঘোষণা দেন। তাই এবার আর তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর আগ্রহ কেউ দেখাচ্ছে না। ফলে তিনিই আবার হচ্ছেন এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।
তবে এসব ইউনিয়নের জনগণ মনে করেন পূরোই জোরজবরদস্তি চলছে। এসব ইউনিয়নে নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হয় তাহলে এই চেয়ারম্যানরা একজনও জয়ী হতে পারবেন না। কিন্তু এবারও ভোট না হওয়ারই সম্ভাবনাই বেশি। বিনা ভোটেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন তারা।


