বন্দর ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২১, ০৮:৪৫ পিএম
সব জল্পনা কল্পনা জেরে ফেলে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রকৃত এবং ত্যাগী নেতাদের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মাঠে নামা শুরু করেছে তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীগণ। যারা প্রাথী হতে উৎসাহী তারা বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীর দাবী, এবার তারা কোন ভুঁইফোড়, আওয়ামী লীগার কিংবা যারা পরগাছার ন্যায় দলীয় নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন না করে অন্য দলের উপর নির্ভর করে তাদেরকে তারা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান না।
এরই মধ্যে তৃণমূল নেতৃবৃন্দ তাদের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে পরামর্শসহ এই প্রতিদ্বন্ধিতায় কাদের রাখা যায় সে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর পর তারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে যোগাযোগ করবে। প্রয়োজন হলে তারা সম্মিলিতভাবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকসহ জেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।
বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমির উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন। এখানকার তুণমূল আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ তাদের সভাপতি, সম্পাদক কিংবা এখানকার দলীয় বনেদী নেতৃবৃন্দের যারাই নির্বাচনে দাঁড়াতে চায় তাদের একত্রিত করে চেষ্টা করবেন একজনকে নির্বাচনের প্রার্থী করতে যাতে কোন চক্রান্তের কাছে তাদের মাথানত করতে না হয়। বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এহসানউদ্দিন আহমেদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ এবং জাকির হোসেন পনির। এখানকার আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ নির্বাচনের খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করে দিয়েছেন। কে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন, কাকে প্রতিদ্বন্ধী করলে নির্বাচনে জয়ী করা সহজতর হবে সে বিষয়ে চুরচেরা বিশ্লেষণ শুরু করে দিয়েছেন। মোট কথা এখানে এবার প্রকৃত আওয়ামী লীগের কাউকে তারা নির্বাচিত করতে তারা জোটবদ্ধ হতে শুরু করে দিয়েছেন। মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, সভাপতি মজিবুর রহমান।
এখানকার তৃণমূলের কথা এখানে কোন অবস্থাতেই এই পদটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া করা যাবে না। তারাও প্রয়োজনে উপজেলা কমিটির সাথে সাথে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলবেন। কীভাবে এবং কাকে এখানে আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা যায়। ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ, ইউনিয়ন সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম ও সম্পাদক আব্দুল আলী ভ‚ঁইয়া। এখানকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে অসন্তোষ আছে। তারা চান এখানে সম্পুর্ণ জাতীয় পার্টিমুক্ত আওয়ামী লীগ থেকে চেয়াম্যান নির্বাচিত হোক।
তাই তারা নিজেদের মধ্যে শলাপরামর্শ শুরু করে দিয়েছেন। কারা কারা নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক তাদের তালিকা তৈরী করছেন এবং এর মধ্য হতে যাকে যোগ্য মনে হবে তার নামই তারা প্রস্তাব করবেন। এ জন্য তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে সূত্র জানায়। মদনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, ইউনিয়ন সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অহিদ ভ‚ঁইয়া ও সম্পাদক নাজিম উদ্দিন। তারাও এখানকার চেয়ারম্যানকে জাতীয় পার্টিমুক্ত দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন তৃণমূল।
সূত্র জানায়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকটি নতুন কমিটির ঘোষণার সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। তাই এখানে বিভিন্ন পদে বসতে অনেক আগ্রহীই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন না। আর এর জন্যও তারা দায়ি করছেন জাতীয় পার্টির নগ্ন থাবাকে। তাদের ধারণা এই সব কমিটিগুলোর মধ্যেও যারা স্থানীয় এমপির আনুগত্য তাদেরকে পদে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই অনেকেই উপজেলা আওয়ামী লীগের উপর ভরসা করতে না পেরে ধর্ণা দিতে চেষ্টা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে। তাই যারা এইসব পদে বসতে আগ্রহী তাদের অনেকেই আবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে প্রকাশ্যে আসতে চাচ্ছেন না। তবে তারাও চাচ্ছেন জাতীয় পার্টির দাদাগিরির হাত থেকে রক্ষা পেতে।
তারা জানান, নির্বাচনে সবারই অংশগ্রহণ করার অধিকার আছে। সে হিসেবে জাতীয় পার্টি, বিএনপি এবং স্বতন্ত্র প্রর্থী হিসেবেও নির্বাচনে অনেকেই প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের দল থেকে যারা অন্য দলের লেজুরবৃত্তি করে যারা শুধু নিজেদের আখের গোছাতে গিয়ে দলীয় কর্মীদের তুচ্ছ করে দলের স্বার্থ বিসর্জন দেয় আমরা এমন কোন আওয়ামী লীগের নামদারী নেতাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই না। তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করেন না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে, বঙ্গবন্ধু কন্যার উন্নয়নের প্রচার না করে তারা শুধু জাতীয় পার্টির সাথে আঁতাত করে নিজের স্বার্থ গুছাতে ব্যস্ত থাকেন। এ ধরণে নেতাদের আমরা বিসর্জন দিব।
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীতার বিষয়ে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, করোনার কারণে বর্তমানে সরকার সকল ধরণের রাজনৈতিক কার্যক্রমসহ নির্বাচন বন্ধ রেখেছেন। সংক্রমণ কমে গেলে আমাদের আওয়ামী লীগ থেকে এখানে যারা প্রার্থী হতে চায়, আমরা সকল নেতৃবৃন্দ মিলে একসাথে বসে আলাপ আলোচনার সাপেক্ষে সেই কয়জনের নাম লিস্ট করে কেন্দ্রে পাঠাবো। আমরা চাচ্ছি তৃণমূল থেকে প্রকৃত যে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, যারা আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা কেন্দ্রে আমরা তাদের নামই পাঠাবো। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বন্দরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকবেই। যদি জাতীয় পার্টি বা বিএনপি তাদের প্রার্থী দেয় তো দেবে। যদি কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে চায় দাঁড়াবে। এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। বন্দরের ৫টি ইউনিয়নেই যোগ্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকবে এবং সেখানে নৌকা যাকে দেয়া হবে আমরা সকলে তার পক্ষেই কাজ করে যাবো।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ রশীদ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি বৃহত্তম দল। এখানে চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য অনেকেই চিন্তা ভাবনা করে। আমরা আওয়ামী লীগের সকল নেতৃবৃন্দ একসাথে বসে প্রার্থীদের তালিকা তৈরী করবো। দলের একটা নির্দেশনা আছে। তৃণমূলের সকলকে তো আর নমিনেশন দেয়া যাবে না। কেন্দ্র থেকে আমাদের যেভাবে বলা হবে আমরা সেভাবেই কাজ করবো এবং অবশ্যই আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের প্রাধান্য দিতে চেষ্টা করবো।


