বন্দরে আ’লীগের সুবিধাবাদীদের নির্মূলে একাট্টা তৃণমূল
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২১, ০৯:২৪ পিএম
বন্দর আওয়ামী লীগের শুধু উপজেলা কমিটি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান কিংবা নাসিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নয়, বরং ইউনিয়ন কমিটি থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও নাসিকের ওয়ার্ড পর্যায়ের সকল কমিটিকে একটিভ করতে এবার মাঠে নেমেছে তৃণমূল। প্রয়োজনে সমাজের বিভিন্ন ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা আওয়ামী লীগের নামের উপর ভর করে নেতা সেজে দলকে বিসর্জন দিয়ে, দলের সুনাম নষ্ট করে শুধু অর্থ-বিত্ত ও মাতাব্বরি করছে, তাদেরকে হঠাতে একজোট হয়ে মাঠে নামছে তৃণমূল। আর এজন্য প্রয়োজনে এ সকল পুরোনো কমিটিকে ঢালাওভাবে সাজাতে এবং আওয়ামী লীগের নামদারি পরগাছাদের বাদ দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
এ দাবিটি তারা জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পৌছাতে উদ্যোগ নিচ্ছেন। তাদের দাবি এখন আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা মনে করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্তে¡ও এখানে একাধারে এক যুগেরও বেশী সময় ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে। তাই বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ের ভালবাসা, বঙ্গবন্ধুর রক্তের বিনিময়ে গড়ে উঠা আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এখানকার প্রকৃত ত্যাগী ও যাদের হৃৎপিÐের স্পন্দনে আওয়ামী লীগ তাদেরকে দলে রেখে বাকিদের নির্বাসনে পাঠাতে হবে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, বন্দর আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এখন পরগাছা আওয়ামী লীগের অত্যাচারে ফুঁসে উঠছে। একাধিক নেতা জানান, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানেও এখন আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে কিছু স্থানীয় স্বার্থবাজ নেতা সভাপতি, সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদ আঁকড়ে ধরে টু পাইস কামিয়ে নিচ্ছেন। শুধু তাই নয় স্থানীয় জাতীয় পার্টি ও বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতাদের সাথে রেখে যারা প্রকৃত অর্থে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা তাদের উপর স্টিম রুলার চালাচ্ছে তারা। কিছু কিছু মসজিদ কমিটিসহ বেশ কিছু সামাজিক সংগঠনে এক ভাই সভাপতি আরেক ভাই সম্পাদক পদ আঁকড়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। আবার কোথাও ওয়ার্ড কমিটির সম্পাদক মসজিদ বা সাংস্কৃতিক কোন কমিটির পদ জোরপুর্বক আকড়ে ধরে আছেন কেউ কেউ। আবার কোথাও দেখা যায় সুবিধা হাতছাড়া না করার জন্য একই পরিবারের ৩/৪ ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই আওয়ামী লীগের ওসমান পরিবারের পক্ষের সাথে মিশছে এক ভাই মেয়রের পক্ষের লোকের সাথে মিশছে আবার এক ভাই জাতীয় পার্টির সাথে মিশছে। আর তাদের বেস্টনী হয়ে আছে জাতীয় পার্টি কিংবা বিএনপির বিভিন্ন নাশকতার মামলার আসামীগণ এবং তা জেনেও উপরের সারির নেতৃবৃন্দ ছত্রছায়া দিয়ে যাচ্ছেন তাদের।
তৃণমূল মনে করেন, তারা সমাজের মধ্যে এমনভাবে চলা ফেরা করে যেন কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী তার দেহরক্ষী নিয়ে চলাফেরা করছেন। আর এতে করে এসকল সংগঠন বা সমাজের মানুষ তাদের কাছে কোন প্রকার কৈফিয়ত চাওয়ার সাহস দেখাবে না। তারা গায়ের জোরে সেখানকার সাধারণ মানুষসহ যারা এসিড টেস্টেও আওয়ামী লীগকে ছাড়বেন না তাদের উপরও ছড়ি ঘুরায়। আর যেহেতু এখানকার উপজেলা আওয়ামী লীগও জাতীয় পার্টির আস্থাভাজন, তারাও তাদের পদ ও আধিপত্য ধরে রাখার জন্য নিজের দলের লোকের উপর অন্যদলের আক্রোশেও নিজের আজ্ঞাবহ নেতাকর্মী ছাড়া কারো পক্ষে যান না, কখনো কখনো বিপক্ষেও যান তারা তো স্থানীয় পর্যায়ের এ ধরণের নেতৃবৃন্দকে সাপোর্ট দিবে এটাই স্বাভাবিক।
তাই তৃণমূল এবার আর কোন ভুল করতে নারাজ। তাদের দাবি উপজেলা পর্যায় থেকে বন্দরের প্রতিটি কমিটিতে প্রকৃত ও নির্ভেজাল নির্বাচন দিলে একনিষ্ঠ আওয়ামী লীগের কর্মীদের কাছে তারা কোন পাত্তাই পাবে না। আমি সভাপতি আর তুই সম্পাদক এভাবে ঘোষণা দিয়ে কমিটি করা বন্ধ করতে হবে, তাহলে শুধু তৃণমূল নয় পুনজ্জীবিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, স্বার্থক হবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রম।


