Logo
Logo
×

রাজনীতি

আঠারো মাসেও শেষ হয়নি ৩ মাসের বেঁধে দেয়া সময়

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২১, ০৭:০২ পিএম

আঠারো মাসেও শেষ হয়নি ৩ মাসের বেঁধে দেয়া সময়
Swapno

বন্দর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য ৩ মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর বন্দরের মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে এমএ রশীদকে সভাপতি ও কাজিমউদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। অথচ পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য ৩ মাস সময় বেঁধে দেয়া হলেও প্রায় ১৮ মাস অতিবাহিত হলেও সেই কমিটি গঠন করতে সক্ষম হয়নি বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ।

 

তবে জেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাই আপত্তি তুলেছেন, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ব্যাপারে। কোথা  থেকে কমিটি আসে, কোথা থেকে কমিটি যায় এটা কেউ জানেনা। এটা কীভাবে ঘোষণা করা হয়? সেই সম্মেলনে এই কমিটিকে পুর্ণাঙ্গ রূপ দেয়ার জন্য  সে সময় সভাপতি এমএ রশীদের কোন প্রতিদ্ব›দ্বী ছিল না। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে মহানগর শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি কাজিম উদ্দিন ও মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালামের নাম প্রস্তাব করা হয়।

 

পরে জানা যায় সমঝোতার মাধ্যমে সরে দাঁড়ান এমএ সালাম। ফলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন কাজিম উদ্দিন। সেই সম্মেলনে জেলা কমিটির জেলা সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল (ভিপি বাদল) উপস্থিত থাকলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না জেলা কমিটির বন্দরের উপরের সারির কোন নেতা। পরে সেখানে কানাঘুষায় শোনা যায় যারা নাকি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সমর্থক যারা সেখানে তাদের আধিপত্য ছিল। আর এ কারনেই এমএ রশীদের কোন প্রতিদ্বন্ধী ছিল না। সেই সম্মেলনে বিকেলে ভোট কিংবা সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও সকালের অধিবেশনে অনেকেই তাদের বক্তব্যে এমএ রশীদকে সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদের বিষয়টি নিয়েও তারা নির্বাচনে যেতে রাজি হননি। এমএ সালামের সাথে সমঝোতা করেছেন। অর্থাৎ সভাপতি পদে এমএ রশীদকে এবং সাধারণ সম্পাদক পদে কাজিমউদ্দিনকে মনোনীত তারা আগেই করে রেখে ছিলেন।

 

তারা যেহেতু এমপি এবং জাতীয় পার্টির আজ্ঞাবহ, তাই তৃণমুলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা তাদেরকে মানাসিকভাবে মেনে নিতে পারেননি। পক্ষান্তরে সভাপতি ও সম্পাদকও তাদের মনের মতো করে তাদের কথায় যারা জ্বি-হুজুর করবে তথা জাতীয় পার্টির আজ্ঞাবহ লোকদেরকে পুর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাখতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে তৃণমূল আওয়ামী লীগের একটা শক্ত অবস্থান আছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে। তাই তৃণমূলও ছেড়ে কথা বলছে না আর এ কারণেই উপজেলা আওয়ামী লীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে এত সময় নিচ্ছে। যাতে বন্দরের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নামটা ব্যবহার করতে না পারে। তাতে দলীয় ও প্রশাসনিকভাবে তাদের দুর্বল করে তাদের উপর ছড়ি ঘোরানো সহজ হবে।

 

সূত্র জানায়, তৃণমূলের অনেকের সাথেই কথা বলে জানা যায়, তারা এই মুহুর্তে নাম প্রকাশ করতে রাজি নন। কারন কমিটিতে কাকে নিবে এবং কাকে নিবে না সেটা এখনো চুড়ান্ত হয়নি। এখানে বিভিন্ন দেনদরবারের বিষয় আছে। তাই এখন নাম প্রকাশ করে এই উসিলায় কারো খড়গের বলি হতে চান না। তবে এটাও নেতৃত্বদানকারি আওয়ামী লীগের একটা কৌশল বলে জানান তারা। তৃণমূল মনে করেন, যতদিন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠন না হবে ততদিন কমিটিতে থাকার লোভে তার মুখ বন্ধ রাখবে। কমিটি গঠন হয়ে গেলে তো নিশ্চিত হওয়া যাবে কে দলে আছে, আর কে নেই। তখন কথা বলতে কারো সমস্যা হবে না। 


এ বিষয়ে কথা বলার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের সাথে কথা বলার জন্য চেষ্টা করলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড.আনিসুর রহমান দীপু বলেন, ওয়ার্ড কমিটি নির্বাচিত করবে ইউনিয়ন কমিটি, আর ইউনিয়ন কমিটি নির্বাচিত করবে থানা কমিটি। উচ্চতর এক্সিকিউটিভ কমিটি বসে আলাপ আলোচনা করে কোন আপত্তি থাকলে এগুলো শুনানি করে কমিটিগুলো হয়। কোন বিশেষ প্রার্থীর ব্যাপারে কারো আপত্তি থাকলে সেটি যাচাই বাছাই হয়। আশ্চর্য্যজনক হলেও সত্য নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ এব্যাপারে মূল্যমাত্র প্রাধান্য দেয়া হয় নাই। কোথা  থেকে কমিটি আসে, কোথা থেকে কমিটি যায় এটা কেউ জানেনা। যদি কেউ আপত্তি দিয়ে থাকে, সেখানে শুনানি কিংবা আলোচনা থাকার কথা, অনিয়মের প্রশ্ন রয়েছে কিনা তা জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির ওয়ার্কি সভায় আলোচনা হওয়ার কথা। সমাধান হওয়ার পর থানা কমিটি অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু এমনটি হয়নি। 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান বলেন, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলই হয়নি। আমার হোস্ট থানা, আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, এখানে কবে কাউন্সিল হয়েছে সেটি আমি নিজেই জানিনা। বন্দর থানার কাউন্সিল কবে হয়েছে সেটি আমি জেলা আওয়ামী লীগের মিটিংয়েও জানতে চেয়েছি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে। আমি তাদের বলেছি, এটা কি আমার সাংগঠনিক ব্যর্থতা? নাকি জানার অধিকারই নাই। আমার বক্তব্য হচ্ছে, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল এখনো হয়নি। কারণ রানিং সেক্রেটারি ছাড়া সমস্যার সমাধান না করে ৩নং যুগ্ম সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি বানিয়ে সভাপতি কিভাবে কি করছে, যেগুলো গঠনতন্ত্রই মানেনাই। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এবং জেলা আওয়ামী লীগেরও কেউ জানেনা কবে কাউন্সিল হয়েছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন