দীর্ঘ ১৩ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে দলীয় ভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। একই পরিনতি যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য সহযোগি সংগঠনগুলোর। তবে, গত পহেলা জানুয়ারি জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি আসার পর কিছুটা চাঙ্গা হয়ে উঠে বিএনপি। কেন্দ্র ঘোষিত কয়েকটি সভায় বিএনপির কর্মসূচি নজর কেড়েছিলো সবার। এরপর জেলার আওতাধীন থানা ও পৌর কমিটিগুলো গঠনে সরব হয় বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কমিটি। এতে তৃণমূলেও চাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছিলো।
কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আগ্রাসন এবং হেফাজতের তান্ডবে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে- এমন অভিযোগে দায়েরকৃত একাধিক মামলার পর আবারও ব্যাকফুটে চলে যায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীরা। এই অবস্থায় সামনে চলে এসেছে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। যা আগামী ৩০ মে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে পালিত হবে। বিগত সময়গুলোতে দেখা গেছে, দিবসটি বড় পরিসরে পালন করতো বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য সহযোগি সংগঠনগুলো।
তবে, মামলায় জর্জরিত বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনগুলো ব্যাকফুটে থাকায় কি হবে এবার? সেই প্রশ্নই তৃণমূলের। নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছেন, এই দিবসটি উদযাপনের মধ্যদিয়েই তারা আবারও নিজেদের সাংগঠনিক ভাবে জানান দিতে চাইছেন। এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালনের জন্য আমরা আজ (গতকাল) প্রস্তুতি সেরেছি। আগামী ৩০ তারিখ সকাল থেকে আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করবো। দোয়া ও মিলাদ তো আছেই, একই সাথে গরিব দুস্থদের জন্য খাবার বিতরণ করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মসূচি থাকবে।
সরকার যেন কোন ভাবে আমাদের কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, আমরা সেই আহবান জানাচ্ছি।’ কর্মসূচির বিষয়ে আহবায়ক কমিটির সকলকে অবগত করা হয়েছে কিনা?- ‘এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সকলের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েতো জানানো সম্ভব না। এটা কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি। কেন্দ্র থেকেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপরও আমি থানা পর্যায়ের নেতাদের জানিয়ে দিয়েছি কর্মসূচির বিষয়ে।’
এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হাই রাজু দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজতের তান্ডবের ঘটনায় আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর মধ্যে রাখা হয়েছে। এখনো সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপি-নেতাকর্মী শূন্য হয়ে আছে। তবে, আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী আমরা প্রতিবছরই আনুষ্ঠানিক ভাবে পালন করে থাকি। তাই এবার করোনার জন্য সংগত কারণেই বিগত সময়ের মত অত বড় পরিসরে পালন না করা গেলেও অল্প পরিসরে হলেও পালন করবো। প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নেতাকর্মীরা শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করবে। আশা করি এর মাধ্যমে আমাদের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও সাংগঠনিক ভাবে চাঙ্গা হবে।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাশুকুল ইসলাম রাজিব দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘মাত্র ২দিন বাকি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমাদের জেলার নেতৃবৃন্দরা এই বিষয়ে কোন ম্যাসেজ আমাকে দেয়নি। আহবায়ক-সদস্য সচিবের কাছ থেকে কোন নির্দেশনা এখনো পাইনি। অনেকের কাছে দল এবং পদবী এখন পার্ট টাইম জব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বড় বড় পদে থেকেও দলের সাংগঠনিক কাজ নিয়ে ভাবার সময় পায় না। আসলে এই মুহুর্তেই আমাদের চাঙ্গা হওয়ার সময় ছিলো। যেই নেতারা বলছেন, মামলার কারণে তারা পিছিয়ে আছে, তারা অযুহাত দাঁড় করাচ্ছে। কারণ এর আগেও আমরা মামলা হামলার মধ্যে থেকেও সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় ছিলাম। তবে, দলীয় ভাবে জেলা বিএনপি কিছু করবে কিনা? তা যেহেতু আমি নিশ্চিত নয়, সেহেতু তারা কিছু না করলেও আমি আমার উদ্যোগে হলেও আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করবো।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই শ্রদ্ধার সাথে স্বাধীনতার ঘোষক বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী বড় পরিসরে পালন করে থাকি। এবছরও আমরা প্রস্তুতি সেরেছি। আমাদের ১০টি ইউনিট কমিটির সাথে কথা হয়েছে। আমরা এই দিবসটি বরাবরের মতই পালন করে যাবো। তার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া সহ গরিব দুঃখিদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি, দিবসটি যেন আমাদের পালন করতে দেয়া হয়। কারণ তারা যদি ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে গরিব দুঃখিরা তাদের হক থেকে বঞ্চিত হবে। তাই আশা করছি, প্রশাসন এই কর্মসূচিতে বাধা দেবে না।’
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪০ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ৩দিন ব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সেই লক্ষ্যে (আজ) আমাদের প্রস্তুতি মূলক সভা হয়েছে। সভায় ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দরা ছিলেন। আর তিন দিনের কর্মসূচির মধ্যে ৩০ মে থানাগুলোতে মিলাদ, দোয়া ও গরিবদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ৩১ মে জেলায় কর্মসূচি পালন এবং ৫ জুন পথশিশুদের মাঝে খাবার ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ সহ ২০ হাজার বৃক্ষ রোপন করা হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে অবশ্যই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক ভাবে আরো চাঙ্গা হয়ে উঠবে বলে বিশ্বাস করি।’ এদিকে, বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নানা কারণে ব্যাকফুটে থাকা নেতাকর্মীরা শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালনের মাধ্যমে সাংগঠনিক ভাবে চাঙ্গা ও ঘুড়ে দাঁড়ানোর লক্ষস্থির করেছেন।


