Logo
Logo
×

রাজনীতি

আ’লীগ নেতাদের যাতায়াত বেশি তবুও জাপার খবরদারি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২১, ১০:৩১ পিএম

আ’লীগ নেতাদের যাতায়াত বেশি তবুও জাপার খবরদারি
Swapno

যেখানে যা হবার কথা, হচ্ছে তার উল্টো। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একথাটি একেবারে মিলে যায়। কেননা, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বন্দরে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীর তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী সেখানে বেশভালোভাবেই সরব। কিন্তু মহাজোটের কল্যাণে সেখানে এমপি জাতীয় পার্টির।

 

অথচ বন্দর এলাকায় অতীতে জাতীয় পার্টির কমিটি থাকলেও সেই কমিটি বর্তমানে আস্তাকুঁেড়। কিন্তু এরপরেও খবরদারি গুটিকয়েক জাতীয় পার্টির হাতে। সেখানে জাতীয় পার্টির অবস্থা এতোই করুণ যে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সংমিশ্রনে জাতীয় পার্টির আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে আনা হয়। প্রথমে বেশিরভাগ আওয়ামী লীগ নেতারাই সেসবে পা দিলেও এখন তারা অত্যন্ত সতর্ক। 

 


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, সিনিয়র সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক জিএম আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা, জিএম আরাফাত, প্রচার সম্পাদক এড.হাবিব আল মুজাহিদ পলুসহ আরো বেশ কয়েকজন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের হেভীওয়েট নেতারা পুরো বছর জুড়ে বন্দরে নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকেন। 

 


সূত্র জানিয়েছে, তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে সেখানে ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, সেখানে বর্তমান চেয়ারম্যানদেরকেই তিনি সামনের ইউপি নির্বাচনে চান। যদিও তৃণমূল আওয়ামী লীগ থেকে এসব বক্তব্যের বিষয়ে তীব্র আপত্তি এসেছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতারা চাইছেন, সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমেই তারা আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন। এতে কোন ধরণের সিলেকশন রাজনীতিতে তারা যেতে চাচ্ছেননা। 

 


সূত্র জানায়, স্থানীয় ইউপি নির্বাচনগুলোতে পছন্দসই প্রার্থীদের জিতিয়ে দিতেই আওয়ামী লীগে দ্ব›দ্ব ও কোন্দল তৈরির মিশনে নেমেছে একটি চক্র। তারা চাইছে, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য তৈরি করে সেখানে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে। আর ইতিমধ্যেই লাঙ্গলপ্রীতি রয়েছে এমন আওয়ামী লীগ নেতাদের বশে নেয়া হয়ে গেছে। তাছাড়া বন্দর থানা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে যে লুকোচুরি এবং ঐক্য নষ্টের চেষ্টা তা মূলত সামনের ইউপি এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনকেই ঘিরে।

 

স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, সেখানে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী নয়, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি সেখানে। অথচ আওয়ামী লীগের কিছু লোক এবং বিএনপিকে ব্যবহার করে জাতীয় পার্টি সেখানে সুবিধা নিয়ে সাঁকো পার হয়। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা দাবি করেন, মূলত বন্দরে আওয়ামী লীগ নেতাদের যাতায়াত বেশি থাকলেও এখানে অনেক লাঙ্গলমার্কা আওয়ামী লীগার রয়েছেন। যারা একটি পরিবারকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখে। তারা অন্যত্র সুবিধা নেয়ার বিনিময়ে মূলত এই কাজটি করে থাকে। তাছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও মেরুদÐ সোজা করে শেষ অবধি দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনা।ফলে সুবিধা নেয় সেই বিশেষ মহল।

 


বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক কমিটির এক প্রভাবশালী নেতা বলেন, দেখুন বলা হচ্ছে, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয়ে গেছে, কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে। অথচ এখানকার এমনকি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাই দাবি করবেন সেখানে কোন কাউন্সিল হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই যখন যেখানে নীরব থাকেন, কৌশলী কাজটি শেষ করেন ভিপি বাদল।  অথচ জেলা আওয়ামী লীগের ওয়ার্কি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়ার তোয়াক্কা করেননা তারা। বন্দর আওয়ামী লীগ তো বটেই, জেলার উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য তারা নিজেদের দায় এড়াতে পারেননা কোনক্রমেই।

 


তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছে, এবার আশার কথা ভেতরে ভেতরে জেলা, মহানগর ও  স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বেশ সুশৃঙ্খলভাবে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছেন। বলা হচ্ছে এখানে জাতীয় পার্টির এমপি, কিন্তু আদতে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব খুঁজে পেতে বেগ পেতে হবে। যা আছে, নিতান্তই সুবিধাবাদী। আর তাই এবার ইউপি নির্বাচনে যা ইচ্ছা তা করে ছাড় পাওয়া যাবেনা। তারা বলেন, বিস্ময়ের বিষয়, আওয়ামী লীগ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পরও এখানে একটি পক্ষের মদদে একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রয়েছেন যিনি রাজাকারপুত্র। এটি সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র একটি বিশেষ পরিবারের ইন্ধনে।

 


আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীরা দাবি করেন, মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের যেসব ত্যাগী নেতা রয়েছেন তারা সবসময় বন্দরের তৃণমূল কর্মীদের কথা ভাবেন। তাই যখন হাইব্রীডদের লাগাতার উত্থান তখনও ত্যাগী নেতারা তৃণমূলের খোঁজ-খবর রাখেন। এখন যতখানি তৃণমূল কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা নির্বাচনে যাবার সুযোগ না পান তবে তা হবে একরাশ হতাশার।  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন