নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজনীতিতে কে বেশি শক্তিশালী? সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী নাকি সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এক সময় শামীম ওসমান ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আর এবার তার অনুগত আবু হাসনাত শহীদ বাদল হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। শামীম ওসমান যখন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তখন গোটা জেলায় তার একটি বিশাল প্রভাব ছিলো। কিন্তু দিন বদলেছে। এখন আর তার সেই প্রভাব নেই।
শুধু তাই নয়, কেবল মাত্র ফতুল্লা ছাড়া আর কোথাও শামীম ওসমানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং সেই ক্ষেত্রে সারা জেলায় মেয়র আইভীর বেশ মজবুত অবস্থান রয়েছে। তিনি এখন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি। সারা নারায়ণগঞ্জের হেভীওয়েট নেতারা রয়েছেন মেয়র আইভীর পাশে। এদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হলেন, রূপগঞ্জের এমপি ও মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর, আড়াইহাজারের শক্তিশালী এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, সোনারগাঁয়ের সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত, ফতুল্লার শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহেম্মদ পলাশ এবং আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দীপু।
এছাড়া জেলার নেতাদের মাঝে আরো রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরজু রহমান ভুইয়া, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা শহীদ উল্লাহ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান প্রমুখ। এছাড়া জেলা এবং মহানগরের সিনিয়র দুই নেতা আবদুল হাই এবং আনোয়ার হোসেন রয়েছেন নিরপেক্ষ অবস্থানে। তাই দেখা যায় মেয়র আইভী এই জেলার রাজনীতিতে খুবই মজবুত অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন। জানা গেছে, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর মেয়র আইভীবে খুবই সম্মানের চোখে দেখেন। নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকরা যখনই মন্ত্রী গাজীর নেয়ামত।
তিনি সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তখনই প্রসঙ্গক্রমে তিনি মেয়রের প্রসংশা করে বলেছেন মেয়র আইভীতো নারায়ণগঞ্জ শহরবাসীর জন্য অশেষ আইভীর প্রশংসা করে বলেছেন আইভী সৎ, ন্যায়পরায়ন এবং নিষ্ঠাবান। তার কোনো তুলনা হয় না। মন্ত্রীর স্ত্রী তারাব পৌরসভার মেয়র হাসিনা গাজীও সব সময় মেয়রের ব্যাপক প্রশংসা করে থাকেন। অপরদিকে নজরুল ইসলাম বাবু এমপির সাথে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বিরোধও বেশ পূরোনো। নজরুল ইসলাম বাবু শামীম ওসমানের দাম্ভিকতাকে একেবারেই পছন্দ করেন না। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক বাবুর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি ওই সাংবাদিকদেরকে বলেন, আপনারা শামীম ওসমানের অপকর্মের বিরুদ্ধে লিখুন। শামীম ওসমানের পক্ষে লিখলে একেবারে পঁচে যাবেন আর তার বিরুদ্ধে লিখলে গোল্ড হয়ে যাবেন। এতেই বুঝা যায় তিনি শামীম ওসমানকে কতোটা অপছন্দ করেন। বিপরিতে তিনি মন্ত্রী গাজীর মতোই মেয়র আইভীর প্রশংসা করে থাকেন।
অপরদিকে সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতের সাথেতো শামীম ওসমানের সাপে নেউলে সম্পর্ক। কারন শামীম ওসমান অযাচিত ভাবে সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে থাকেন। তিনি কায়সার হাসনাতকে ডিসটার্ব করছেন। তাই কায়সার হাসনাত বরাবরই মেয়র আইভীর পাশে রয়েছেন। অপরদিকে ফতুল্লার জনপ্রিয় শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ বিগত প্রায় দুই যুগ ধরে শামীম ওসমানের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। ফতুল্লায় শামীম ওসমানের মাথা ব্যাথার প্রধান কারণ হলেন এই কাউসার আহম্মেদ পলাশ। পলাশকে ঘায়েল করতে শামীম ওসমান সংসদে বক্তব্য দেয়া থেকে শুরু করে এমন কোনো চেষ্ঠা নেই যা তিনি করেননি। কিন্তু পলাশ নিজের পথে অবিচল রয়েছেন। আর এই পলাশ রয়েছেন মেয়র আইভীর পাশে।
এছাড়া শামীম ওসমানের ডান হাত হিসাবে পরিচিত ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দীপু। এই দীপু আরো অনেক আগে থেকেই শামীম ওসমানের সঙ্গ ছেড়ে আইভীর সঙ্গে রাজনীতি করছেন। সঙ্গে থাকতেই শামীম ওসমানের নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের বিপক্ষে ছিলেন আনিসুর রহমান দীপু। কিন্তু শামীম ওসমান কিছুতেই ভুল পথ ছেড়ে সঠিক পথে ফিরে না আসায় তাকেই ছেড়েছেন দীপু। তিনি আরো আগে থেকেই মেয়র আইভীর কাজের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। ফলে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে খুবই মজবুত অবস্থানে রয়েছেন মেয়র আইভী। আওয়ামী লীগের সব হেভীওয়েট নেতারাই রয়েছেন মেয়রের পাশে।


