Logo
Logo
×

রাজনীতি

আওয়ামী প্রার্থীকে জাপার টোপ!

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২১, ১০:১২ পিএম

আওয়ামী প্রার্থীকে জাপার টোপ!
Swapno

ইউনিয়ন পরিষদকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টিকে সুবিধা দিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আওয়ামী প্রার্থীদের টোপ দেয়া। যদিও আওয়ামী লীগের মতো শক্তিশালী দলের মনোনয়ন কোন ব্যক্তিবিশেষ করে দিতে পারেনা, তবুও এমন টোপ দেয়াই শুরু করেছে জাতীয় পার্টির নেতারা। সূত্র জানিয়েছে, মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনীত হওয়ার সবুজ সংকেত পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মজিবুর রহমান। বন্দর আওয়ামী লীগের বর্তমান জাতীয় পার্টি সমর্থিত কমিটি এবং স্বয়ং জাতীয় পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান তাকে এ বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে বলে জানায় সূত্র।

 

সূত্র আরো জানিয়েছে, এবারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে মজিবুর রহমানকে সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে বলেছেন তারা। বিষয়টি বন্দরের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন এমন ব্যক্তিরাই এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় ছিলেননা। এর আগে গত মাসের ২৩ তারিখ শুক্রবার মজিবুরের পরিবার ও সমর্থকদের সাথে জাতীয় পার্টি সমর্থিত চেয়ারম্যান মাকসুদের নেতৃত্বে মারামারির ঘটনায় জাতীয় পার্টি সরাসরি মাকসুদ চেয়ারম্যানের পক্ষে বিভিন্ন বিবৃতি দিলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে মজিবুরের হয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি।

 

এমনকি সেদিন অপহরণ করা হয়েছিল মজিবুরের ছোট ভাই সিরাজুলকে। অপহরণের পর রাত সাড়ে বারোটার দিকে বন্দর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লা সানু এবং বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার সাহার প্রচেষ্টায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় বন্দর থানায় উভয় পক্ষ হতে পাল্টাপাল্টি মামলাও দায়ের করা হয়। যার মামলা নং- ২৩(৪)২১ ও ২৪(৪)২১।


 
সূত্র জানায়, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ তৃণমূলের সাথে না মিশে এমপি ও তার দল জাতীয় পার্টিকে তুষ্ট রাখতেই পছন্দ করেন বেশী। আর সেকারণেই তারা বন্দরের বিভিন্ন কমিটিতে তাদের আজ্ঞাবহ লোকদের নেতৃস্থানীয় পদে বসাতে সবসময় তৎপর থাকেন। আর এবারের উপজেলা আওয়ামী লীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না দেয়া হলেও উপজেলার এইসব জাতীয় পার্টি ঘেঁষা নেতারা চাচ্ছেন ইউনিয়ন পর্যায়ের নতুন কমিটিকে তাদের আজ্ঞাবহদের নিয়ে সাজাতে। কিন্তু এতে বাধ সাধে তৃণমূল এবং জেলা ও মহানগর কমিটির বেশ কিছু আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। এরফলে বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে।

 

সূত্র আরো জানায়, মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মাকসুদ চিহ্নিত রাজাকার পুত্র হওয়ায় এবং এলাকায় তার আধিপত্য বিস্তারে ও বর্তমানে তার নেতিবাচক বিভিন্ন কর্মকান্ডে তার উপর বিরক্ত বর্তমান এমপি ও বন্দর জাতীয় পার্টিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এছাড়াও তার কর্মকান্ডে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগসহ  বন্দর উপজেলার যারা কট্টর আওয়ামী লীগ করেন সে ধরণের নেতৃবৃন্দ। আর তাতে করে এই ধরণের ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কিছুটা কাছে আসার জন্য অনেকটা বাধ্য হয়েই এই ধরণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা যায়।


 
সূত্র আরো জানায়, বন্দরের সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বিষয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বেশ কিছু লেখালেখি হয়। আর তাতে করে আরো সজাগ হন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ। তারা তাদের মতামত ব্যক্ত করতে থাকেন। তারা স্থানীয় পরগাছা আওয়ামী লীগ যারা নাকি আওয়ামী লীগের চেয়ে জাতীয় পার্টির নেতাদের কাছে ভাল থাকতে বেশী পছন্দ করেন তাদেরকে বয়কটের কথা, এক যুগেরও বেশী সময় ধরে বন্দরে আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্যের অভাবের কথাসহ প্রকাশ করেন তাদের মনের ভিতর লুকিয়ে রাখা কষ্টের কথা। এসব ঘটনার পর থেকেই ঘুরতে থাকে উপজেলা আওয়ামী লীগ তথা জাতীয় পার্টি কৌশল।

 

তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কট্টর পন্থীরা মনে করেন শুধু মুসাপুর না, বন্দরের প্রতিটি পর্যায়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে মূল্যায়ণ করতে হবে। জাতীয় পার্টির উপর ভর করা ছেড়ে আওয়ামী লীগকে তাদের নিজেদের স্বকীয়তায় ফিরে আসতে হবে। পরিহার করতে বিএনপিসহ সুবিধাভোগিদের, যারা শুধু ভাগাভাগিসহ ও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের উপর ছড়ি ঘোরানোর লোভে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চড়ে বেড়াচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, এই পরিস্থিতিটি আসলে এমন, কথায় বলে, মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কাকে দেবেন তা একমাত্র নির্ধারণ করবেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন