Logo
Logo
×

রাজনীতি

জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতেও ‘ডাবল জিরো’ জেলা বিএনপি

Icon

শাহজাহান দোলন

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২১, ০৭:৩৮ পিএম

জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতেও ‘ডাবল জিরো’ জেলা বিএনপি
Swapno

গত মে মাসের ৩০ তারিখ, ছিলো বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। কিন্তু দলের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পালন করা হয়নি কোনো কর্মসূচী। তাই এতে জেলা বিএনপিরই কয়েকজন নেতা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, বিএনপির যে কোনো কর্মসূচীর চেয়ে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি কর্মসূচী বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এমন একটি দিনকে কেন্দ্র করেও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে, কেন কর্মসূচী পালিত হয়নি সেটি বুঝে আসছেনা।

 

এদিকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, বর্তমানে জেলা বিএনপিতে যে সকল শীর্ষস্থানীয় নেতারা আছেন, তারা চাইলে অবশ্যই জেলা বিএনপির ব্যানারে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একটি কর্মসূচি পালন করা যেতো। তবে সিনিয়র নেতারা যেহেতু চায়নি তাই আমরা একত্রিত হতে পারিনি। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কমিটির প্রধান এড. তৈমূর আলম খন্দকারের দাবি, আমাদের অধিকাংশ নেতারাই এখন পুলিশের মামলা হামলার ভয়ে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে আছে। তাই আমরা চাইলেই তো একটি কর্মসূচী পালন করতে পারিনা।

 


হতাশা প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাশুকুল ইসলাম রাজিব  এ বিষয়ে বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেহেতু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা তাই আমাদের দলের যে কোনো কর্মসূচীর চেয়ে তার মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচী বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে গত ৩০ মে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে কোনো কর্মসূচী রাখা হয়নি। আমি এর জন্য খুবই বিব্রত এবং হতাশা প্রকাশ করছি। তাছাড়া এখন যারাই জেলা বিএনপির নেতৃত্বে রয়েছে তাদের উচিৎ ছিলো, এই দিনটিকে কেন্দ্র করে একটি কর্মসূচী দেওয়া। কিন্তু এখন আমাদের মধ্যে বেশির ভাগ নেতারাই পারটাইম (আংশিক) রাজনীতি করছে, অর্থাৎ আগে ব্যবসা পরে রাজনীতি।  তাই দলের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকেও কেউ গুরুত্ব দিতে চায়না। বরং সবাই যার যার মতো কর্মসূচী পালন করে। এতে মূলত সংগঠনের ঐক্য নষ্ট হয়।

 


নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি বলেন, আসলে আমাদের জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে যারা এখন গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন তাদের অনেকেই মামলা হামলাকে ভয় পায়। তাই জিয়াউর রহমানের মৃত্যুার্ষিকীতে তারা একটি কর্মসূচী দিতে পারেনি। ভেবেছে রাস্তায় দাড়ালেই হয়তো পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে। মূলত এরা বিএনপির রাজনীতির নামে ব্যবসা বাণিজ্য করতে এসেছে। তাই অনেক সময় আমরা চাইলেও একসাথে কোনো কর্মসূচী দিতে পারিনা।    

 


জেলা যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, মূলত আমাদের জেলা বিএনপিতে বর্তমানে যেসকল সিনিয়র নেতারা আছেন, তারা চাইলে অবশ্যই একটি কর্মসূচী দেয়া যেতো। কারণ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হচ্ছে আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা। আর তার হাত ধরেই আমাদের এই পর্যন্ত আসা। তাই জেলার সিনিয়র নেতারা চাইলে আমরা মামলা হামলার ভয় থাকা সত্তেও সেই কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করতাম । কিন্তু এই কর্মসূচিটা যেহেতু আমরা পালন করতে পারিনাই, তাই এটা খুবই হতাশার একটি ব্যাপার। আমরা এর জন্য লজ্জিত। 

 


জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব রহমান যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের জেলা বিএনপি’র আহবায়ক তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, তার রূপসীর বাড়িতে যেতে। সেখানে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠান হবে। আমরা ভেবেছি, সেটাই জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি এই দিনটিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু বৈরী পরিস্থিতির কারণে সেখানে সেটি সম্ভব হয়নি। তবে সিনিয়র নেতারা চাইলে জেলা বিএনপির ব্যানারে আমরা একত্রিতভাবে একটি কর্মসূচি দিতে পারতাম। কিন্তু সেটি হয়নি। এটি দুঃখজনক। 

 


এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক এড. তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আমাদের নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন বিভিন্ন মামলার জন্যে পালিয়ে পালিয়ে থাকে। তাই আমরা চাইলেও একটি কর্মসূচী দিতে পারিনা। পুলিশ এসে হয়রানি করে, বাধা দেয়। তাই কোনো জায়গায় দাঁড়াতে পারিনা। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা বিভিন্ন জায়গায় পৃথক ভাবে যেসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি সেখানেও পুলিশ ও ছাত্রলীগসহ যুবলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছে। তাই আমাদের মধ্যে যারাই বলে এই দিনে কেনো জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনা কর্মসূচী দেয়া হলোনা, তাদের আমি বলেতে চাই আপনারা মোবাইল রাজনীতি বন্ধ করুন। রাজপথে নেমে দেখুন, বর্তমানে বিএনপির কোনো কর্মসূচী পালন করা কতোটা কষ্টকর বিষয়।    

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন