পিতার অঢেল সম্পদ ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সংস্পর্শে এসে রাতারাতি বিএনপি’র নেতা বনে যাওয়া এক ব্যক্তির নাম জাকির খান। প্রকাশ্যে হত্যা, মারপিটসহ নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে নিজস্ব ক্যাডার ও লোকজন নিয়ে শোডাউন করে তিনি পরিণত হয়েছিলেন ত্রাশে। তাই ভক্তরা জাকির খানকে ডাকতেন শহরের ‘কিং খান’ নামে। মূলত খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার নিয়ন্ত্রণে এসেছিলো বিসিকের ঝুঁট সেক্টর, শহরের বিশাল পরিবহন সেক্টরসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ-সব অর্থনৈতীক অঞ্চলগুলো।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে জাকির খানের বিশাল এই সাম্রাজ্য পরিচালনায় ছিলো, অসংখ্য ক্যাডার বাহিনী ছাড়াও তার আত্মীয়-স্বজন আর বি.এন.পি’র বিভিন্ন নেতাকর্মীরা। ফলে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নানান বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য বি.এন.পি ও আওয়ামীলীগ, দুই সরকারের আমলেই তাকে বেশ কয়েকবার কারাগারে যেতে হয়। কিন্তু তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, ২০০১ সালের পর জাকির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হয়। তাই তৎকালীন সময়ে তিনি কারাগারে থাকুক অথবা কারাগারের বাহিরে; মূলত উভয় স্থানেই জাকির খানের ছিলো ব্যাপক প্রভাব। তবে এই সববিছুই থমকে যায় ২০০৩ সালে, যখন নগরীর মাসদাইরে আততীয়ের গুলিতে নিহত হয় ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার। মূলত সেই মামলায় আসামি করা হয় জাকির খানকে। তাই এর কিছুদিন পর জাকির খান বিদেশে পাড়ী জমান। এতে তার রাজনৈতীক ও অর্থনৈতিক স্তম্ভ একেবারেই দুর্বল হয়ে যায়।
এদিকে নির্ভরশীল সূত্র থেকে যানা গেছে, বর্তমানে বেগম জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূল আলম খন্দকারের ছোট ভাই সাব্বির আলম খন্দকার খুন হওয়ার পর জাকির খান দেশত্যাগ করলেও এরপর তিনি বেশ কয়েকবার দেশে এসে বি.এন.পি’র রাজনীতিতে সক্রীয় হতে চেয়েছিলেন। আর এখনো সেটাই চান। তবে আইনী জটিলতায় জাকির খানের দেশে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে গেছে। কিন্তু জাকির খান দেশে এসে রাজনিতীতে সক্রীয় হতে না পারলেও, নিজের ঘনিষ্ঠ জনদের নানা ভাবে রাজনীতি ও বিভিন্ন জায়গায় সক্রীয় রাখছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
যেমন, গত বছর নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি তৈরী হলে সেখানে জাকির খানের সবচেয়ে কাছের লোক হিসেবে পরিচিত নাজির আহম্মেদকে সহ-সভাপতির পদ দেয়া হয়েছে। যদিও নাজির আহম্মেদ বি.এন.পি’র রাজনীতিতে সরব নয়। কারণ জাকির খানের মতো বেশ কয়েকটি বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য তাকেও বাধ্য হয়ে লোকচক্ষ্যুর আড়ালে থাকতে থাকতে হয়। তবে সামাজিক বিভিন্ন কাজে নাজির আহম্মেদকে জাকির খানের পক্ষ্যে কাজ করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে নাজির আহম্মেদের মতো জাকির খানের এক সময়ের অন্যতম সহযোগী বদিউজ্জামান বদু, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আকরাম প্রধান, মৎস্যজীবী দলের নেতা পারভেজ মল্লিকসহ অসংখ্য নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সাথে জড়িত থেকে রাজনীতি করছে। সেইসঙ্গে জাকির খানের চাচা মনির খানকেও বি.এন.পি’র নানা কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করতে দেখা যায়।
তাছাড়া, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বি.এন.পি’র সিনিয়র নেতাকে জাকির খানের সমর্থক ও ঘনিষ্ঠ জনদের নিয়ে পৃথক ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করতেও দেখা যায়। আর নারায়ণগঞ্জ শহরের বেশ কয়েকজন প্রবীণ বি.এন.পি নেতাদের মতে, জাকির খান নিজে দেশে এসে রাজনীতি করতে না পারলেও তার এক সময়ের সহযোগীরা বিভিন্ন ভাবে রাজনীতি ও বিভিন্ন জায়গাতে এখন সক্রীয়। মূলত এটি জাকির খানকে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি’র রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার একটি চেষ্টা বলেও মনে করছেন তারা।


