নিজেকে এক অতি সাধারণ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করা কামরুল ইসলাম বাবু। গত ঈদুল ফিতরকে ঘিরে সিটি করপোরেশন এলাকাজুড়ে ব্যানার ফেস্টুন সাটিয়ে নিজেকে ‘এক অতি সাধারণ মানুষ’ হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি। নির্বাচনে আসার আভাসটা তখনই পাওয়া গেলেও গত ২ জুন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা পরিস্কার করেন নগরবাসীর কাছে ‘অপরিচিত’ এই ব্যক্তি।
শুধু কী তাই? কখনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না থাকা এই ব্যবসায়ী নিজেকে ‘অতি সাধারণ মানুষ’ হিসেবে উপস্থাপন করে আশাবাদব্যাক্ত করেছেন নৌকা প্রতীক পাওয়ার! তাই কামরুল ইসলাম বাবুকে নিয়ে আওয়ামী লীগ অঙ্গন থেকে শুরু করে নগরীর সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যেও জেগেছে কৌতুহল, উঠেছে প্রশ্ন, হচ্ছে নানামুখি আলোচনাও। যেখানে পোড় খাওয়া রাজনৈতিক নেতারাও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে মুখ খুলছেন না, সেখানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না থেকেও নৌকা প্রতীক পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করায় কারো কারো কাছে তা হাস্যরসের খোরাক হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন খোদ আওয়ামী লীগের নেতারাই।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ আলোচনায় আসা এই ‘অতি সাধারণ’ কামরুল ইসলাম বাবু কার ভরসায় নৌকা প্রতীক প্রত্যাশা করেন? আওয়ামী লীগের কোন অসাধারণ মহল রয়েছে তার পেছনে? কামরুল ইসলাম বাবুকে ঘিরে এমন প্রশ্নই এখন আওয়ামী লীগ নেতাদের মুখে। তবে, শহরে কান পাতলেই শোনা যায়, নতুন মুখ কামরুল ইসলাম বাবুর পেছনে নারায়ণগঞ্জের এক প্রভাবশালী মহল রয়েছে। যারা আড়ালে থেকে বাবুকে সামনে দাঁড় করিয়েছেন। ইতিপূর্বে যে মহলটি মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে ইস্যু তৈরী করে বিষদগারে মেতেছিলেন, কৌশলগত কারণে ওই মহলটিই বাবুর পেছনে আড়ালে থেকে ঢাল হয়ে আছেন বলে দক্ষিন মেরুপন্থী নেতারা মত প্রকাশ করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আওয়ামী লীগ নেতা দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগেরই একটি মহল রয়েছে, যারা সিটি করপোরেশনের চেয়ার দখলে বরাবরই মরিয়া হয়ে থাকে। ওই মহলটি ইতিপূর্বে মেয়র আইভীকে হটাতে প্রকাশ্যে ও গোপনে নানা ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়। এবার পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে অখ্যাত এক ব্যক্তিকে নির্বাচনের মাঠে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। তাও আবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অথচ, তাকে আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মীই চেনেন না। মূলত মেয়র আইভী বিরোধী ওই মহলটি অখ্যাত ওই ব্যক্তিকে দিবালোকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত নন, এমন কোন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তত নারায়ণগঞ্জের মেয়র হিসেবে বেছে নেবেন না।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বোদ্ধামহল বলছেন, ‘উত্তর মেরুর নীতি নির্ধারকরা সিটি করপোরেশনের মাঠ ধরে রাখতে ইতিপূর্বে ভিপি বাদল ও খোকন সাহাকে সামনে এনে আলোচনায় রেখেছিলেন। মেয়র আইভী বিরোধী প্রতিটি ইস্যুতে ভিপি বাদল ও খোকন সাহাকে ব্যাপক সরবও দেখা গিয়েছিলো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র আইভীর তুলনায় গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে শামীম ওসমান অনুসারী ভিপি বাদল ও খোকন সাহা যে ঢের পিছিয়ে আছেন, তা অনুধাবন করে কৌশল পরিবর্তন করা হয়েছে। ভিপি বাদল ও খোকন সাহাকে সিটি নির্বাচনের টার্গেট থেকে আপাতত মাইনাস করা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।’
বলা হচ্ছে, সম্প্রতি আলোচনায় আসা মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাসী ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বাবু নারায়ণগঞ্জের ওই প্রভাবশালী মহলের ইশারায় নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন। কিন্তু প্রেক্ষাপট অনুযায়ী আপাতত তা গোপন রাখতে চাইছেন। যদিও তা সচেতন মহলে পরিস্কার হয়ে উঠেছে বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন। এদিকে, মেয়র পদে নির্বাচন করার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানান দেন কামরুল ইসলাম বাবু। আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না থাকা ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে বলেন, ‘আমি দলের তথা আওয়ামী লীগের প্রতীক প্রত্যাসা করবো কিংবা প্রতীক না পেলেও সমর্থন। কিন্তু পদ নিয়ে নয়, আমি অপরিণত ও কাঁচা রাজনীতিক, পাকা ও পরিণত হলে এই শহরের সাংগঠনিক দায়িত্ব নিতে একদিন প্রস্তুত হয়ে যাবো।’


