Logo
Logo
×

রাজনীতি

দল নয়, দ্বন্দ্বে বড়

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২১, ১০:৪১ পিএম

দল নয়, দ্বন্দ্বে বড়
Swapno

মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কোন ক্রমেই মিটছেনা। দলীয় কোন্দল, স্বেচ্ছাচারিতা আর পারস্পরিক কাঁদাছোড়াছুড়িতে মহানগর বিএনপি বলতে এখন নাম সর্বোস্ব বোঝায়। নেতায় নেতায় প্রতিহিংসা বিভক্তি করেছে কর্মী সমর্থকদের। বিধ্বস্ত মহানগর বিএনপি’র গ্রুপিং লবিং আর স্বেচ্ছাচারিতার আরেক নজির মিলেছে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভার্চুয়াল আলোচনা সভায়।

 

অভিযোগ উঠেছে, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এড.সাখাওয়াত খানসহ বেশিরভাগ নেতাদেরই মহানগরের এসভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি ভার্চুয়াল সভায় সাখাওয়াতসহ অন্যান্য নেতাদের নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন  মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালামসহ তার অনুসারি বেশ কয়েক নেতা। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহানগর বিএনপির আরেকাংশ এবং তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তৃণমূলের অভিযোগ, নিজ বাড়িতে বিএনপিকে আবদ্ধ করে রেখেছেন এড.আবুল কালাম। কর্মসূচি দিলে অসুস্থতা আর কমিটি গঠনের সময় পরচর্চা এই দুই নীতি অবলম্বন করে মহানগর বিএনপির বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছেন এড.আবুল কালাম।

 

তার এসব স্বেচ্ছাচারিতায় দলের ভবিষ্যত অন্ধকার বুঝতে পেরে দেশ ছেড়েছেন সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক  আবদুস সবুর খান সেন্টুও এব্যাপারে বিরক্ত যদিও সেটি প্রকাশ্যে বলতে পারছেননা। এমনকি মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক  এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপুও রয়েছেন বিড়ম্বনায়। মহানগর বিএনপির চেয়ে তিনি বিদিশা ফাউন্ডেশনের প্রোগামে সময় দেয়াকে অধিক ফলপ্রসু বলে মনে করেন। তার ঘনিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনি সভাপতির এসব একঘেয়ামিপনা দেখতে দেখতে বিরক্ত। অনেকটা এড়িয়েই চলেন তিনি এসব। বিশেষ করে, এড.কালামের তত্তাবধানে প্রোগ্রামগুলো নিয়ে তারও রয়েছে অনীহা।

 

যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল তার নেতা নজরুল ইসলাম আজাদের পক্ষালম্বন করলেও এখন তার অবস্থান নেমে যাওয়ায় কিছুটা কালামকে ম্যানেজ করে চলার চেষ্টা করেন। তবে তার কাছের লোকজনরা জানিয়েছেন তিনি আবুল কালামের পিছিয়ে যাওয়া রাজনীতি পছন্দ করেননা। মহানগর বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিতে কেন আমন্ত্রণ জানাতে হবে,সবাই দলের প্রয়োজনেই আসবে। ভার্চুয়াল সভায় কাউকে হেয় করে কোন বক্তব্য দেয়া হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে কেউ আড়ালে কারো সম্পর্কে কিছু বলে থাকলে আমি সেটি জানিনা। রাজপথের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতেও সবার উপস্থিত থাকা দরকার। অসুস্থতার কথা বলে সেখানে বারবার কেউ দায় এড়াতে পারেনা। মূলকথা সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবেই দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, শুধু আমি নই, আরো অনেককে মহানগর বিএনপির ভার্চুয়াল সভায় উপস্থিত থাকতে আমন্ত্র্রণ জানাননি সভাপতি।


মহানগর  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু বলেন, আমাকে ইনভাইটেশন দেয়া হয়েছিল। সাংগঠনিকভাবে আসলে এভাবেই দেয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার দরুণ থাকতে পারিনি,নয়তো থাকতাম। মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টুর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 
প্রসঙ্গত, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় কালিবাজারস্থ মহানগর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালামের সভাপতিত্বে  কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ^র চন্দ্র রায়, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আব্দুস সালাম আজাদ।

 

প্রধানবক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু। মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী আয়সা আক্তার দিনা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. জাকির হোসেন, ফখরুল ইসলাম মজনু, এড. রিয়াজুল ইসলাম আজাদ, এড. রফিক আহম্মেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসমাইল, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবুল কাউছার আশা প্রমুখ। 


প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর মহানগর বিএনপির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান ও একই ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (সাবেক পৌর এলাকা) বিএনপি নেতা নূরে আলম শিকদার বাদী হয়ে বিএনপির গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কমিটি গঠন করায় আদালতে মামলা করেন। পরে ২৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত। মামলার বাদী গোলজার হোসেন শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করায় কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করেন। এরপর থেকে মহানগর বিএনপির সকল কার্যক্রম আরো স্তিমিত হয়ে পড়ে। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের গা ছাড়া ভাবে আদতে মহানগর বিএনপি সাংগঠনিকভাবে কয়েকজনের মিটিংয়ে পরিণত হয়।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন