এবার চেয়ারম্যান, সামনে উপজেলা চেয়ারম্যান
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২১, ১০:৪৬ পিএম
বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার একশতভাগ নিশ্চয়তা দিলেও আসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে দেড়শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েছেন কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান। গতবার তাকে স্থানীয় মুরুব্বীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বর্তমান চেয়ারম্যান এমএ রশীদকে চেয়ারম্যান হওয়ার একটি সুযোগ করে দিতে বলেছেন বলে জানান তিনি।
এর আগে ২০১৪ সালে বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির এই দেলোয়ার হোসেন প্রধান ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচনে আরো অংশ গ্রহণ করেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আতাউর রহমান মুকুল, আওয়ামী লীগ তথা ওসমান পরিবারের সমর্থিত প্রার্থী এমএ রশীদ এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বন্দরের মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এমএ সালাম। সে সময় আতাউর রহমান মুকুল ১৯ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী দেলোয়ার হোসেন প্রধান পেয়েছিলেন ১১ হাজার ১৩২ ভোট।
তখনকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ সালাম ১০ হাজার ৮৮১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন এবং তৎকালীন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ পেয়েছিলে নয় হাজার ৭৬১ ভোট। সে সময় এমএ রশীদকে তাদের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে তার জন্য ভোট চেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। সেই নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সাইফুল ইসলাম এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি সমর্থিত মাহমুদা বেগম। তবে ২০১৯ সালের জুনে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এককভাবে এমএ রশীদ প্রার্থী ছিলেন। তখন তার কোন প্রতিদ্বন্ধি না থাকায় তিনি চেয়ারম্যান পদে সিলেকশন হয়ে যান।
উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের বিষয়ে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান বলেন, নির্বাচনে আমার দল কোন বিষয় নয়, আমাকে দেখে জনগণ আমাকে নির্বাচিত করবে। তারা মার্কাকে কোন ভোট দিবে না, ব্যাক্তিকে গুরুত্ব দিবে। তিনি বলেন, এর আগের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আমরা জাতীয় পার্টি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ থেকে তিনজন প্রার্থী নির্বাচন করেছি। তখন বিএনপি প্রার্থী আতাউর রহমান মুকুল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। গত বছর আমরা কেউ নির্বাচন করিনি, তাই রশীদ ভাই চেয়ারম্যান হয়েছেন।
দেলোয়ার প্রধান বলেন, সে সময় মুরুব্বিরা বলেছে ওনি বুড়া মানুষ, এর আগেও দুইবার নির্বাচন করেছে, এইবারও প্রার্থী হয়েছে। এবার যদি নির্বাচন হয় আর তাতে যদি সে পরাজিত হয়, তাহলে সে মারা যাবে। সেই সুবাদে মুরুব্বিরা কওয়ায় আমরা তাকে সুযোগ দিয়া গেছি। সে সুযোগ পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। এবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আবার নির্বাচন করবেন কিনা! এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচন যে করব সেটা একশত পঞ্চাশভাগ নিশ্চিত। ইউনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যানতো নির্বাচন করবোই, কিন্তু উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অবশ্যই করব। পাস করব এ কথা বলি না, কিন্তু নির্বাচন অবশ্যই করব।
বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও বন্দর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম.এ রশীদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘ওর ব্যাপারে কোন মন্তব্য করাই ঠিকনা। উনি যতটুকু মাপের মানুষ ঠিক ততটুকু কথা তিনি বলবেন। নিশ্চয়ই উনার দিক থেকে চিন্তা করেই বলেছেন। বন্দর উপজেলার সবাই জানে, গত উপজেলা নির্বাচনে কোন প্রতিদ্বন্ধী হয় নাই। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। উনি কোন মাথা খাটিয়ে এমন কথা বলেন সেটা বলা খুব মুশকিল।’


