সেলিম ওসমানকে আব্দুল হাই’র পরোক্ষ চ্যালেঞ্জ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২১, ০৭:৩৮ পিএম
# উড়তে থাকা জসিমউদ্দিনকে মাটিতে নামালেন হাই
# নৌকার মনোনয়ন কেনার মতো টাকা কারো হয়নি
# এমপি’র ঘোষণার পর পোষ্টারে সয়লাব গোগনগর
চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্নপূরণ ঝুলে রইল জসিমউদ্দিনের। এক অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমানের ঘোষণার পর আনন্দে হাবুডুবু খেয়ে উড়ছিলেন জসিমউদ্দিন। ভেবেছিলেন তিনিই হচ্ছেন আগামীতে গোগনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। জসিমের উপস্থিতিতে সেলিম ওসমান যেখানে তাকে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন সেখানে তাঁরই উপস্থিতিতে তাকে মাটিতে নামিয়ে আনলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই।
আব্দুল হাই জসিমের সামনেই স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর বাইরে কারও ক্ষমতা নেই। যারা দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে বিবেচনা করে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। আর মনোনয়ন বেচা-কেনা হয়। নৌকার মনোনয়ন কিনে আনার মতো টাকা কারও হয়নি।’ এই ঘোষণার মধ্যে দিয়ে সেলিম ওসমানকেই পরোক্ষ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিলেন আব্দুল হাই। জসিমউদ্দিনের হান্ড্রেড পারসেন্ট শিউর মনোনয়ন এখন ঝুলে গেলো।
কেননা চলতি বছরেরর ১২ ফেব্রুয়ারি গোগনগরে পুরান সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায সেলিম ওসমান বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামীলীগ নেতা জসিম উদ্দিনকেই চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি চান। তিনি বলেন, ‘আপনারা হয়তো ভাবতে পারেন আমি নির্বাচন বন্ধ করতে চাই। কিন্তু চেয়ারম্যানের দরকার হয় সংসদ সদস্যের। কারণ চেয়ারম্যানরাই এলাকার মানুষের দাবি নিয়ে সংসদ সদস্যের কাছে প্রস্তাবনা দিবেন আর সংসদ সদস্য চেয়ারম্যানদের সাথে নিয়ে এলাকার সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন।
জসিম উদ্দিন আমার উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো জানেন। জনপ্রতিনিধি কোন মার্কা না, একজন মানুষ। নৌকা হচ্ছে একটি চিহ্ন। মানুষ সঠিক হলে কোন দলই আটকায় রাখতে পারবে না। জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের সেবা করলে জান্নাতবাসী হবে আর সেবা না করলে জাহান্নামবাসী হবে। সেই মানুষটি কে হবে তা আপনারা ঠিক করে দিবেন। তবে এমন মানুষকে ঠিক করবেন না যার এক সংসার জাপানে এক সংসার আরেক দেশে আবার শুনি এখানেও আরেকটা সংসার আছে। যারা মানুষের টাকা দিয়ে শহরে বড় বড় অট্টালিকা গড়ে এমন মানুষকে ঠিক করবেন না। আপনারা যদি আমাকে একজন সঠিক মানুষ দিতে চান তাহলে জসিম উদ্দিনকে পাস করাবেন। সেই সাথে বর্তমান পরিষদের সকল মেম্বারদেরকেও আবারো পাস করাবেন। আমার একজন মানুষ চাই সেই মানুষটির নাম জসিম উদ্দিন। আমরা জাতীয় পার্টি গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দিলাম।’ এই ঘোষণার পরপরই আর কাউকে আমলে নেননি জসিমউদ্দিন।
তবে গোগনগর ইউনিয়নটির সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত নওশেদ আলীর ভাই ফজর আলী এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর হোসেন সওদাগর। তারা প্রত্যেকে আবার নৌকা প্রতীক প্রত্যাশা করছেন। গতকাল রোববার (২০ জুন) গোগনগর ইউনিয়নের সৈয়দপুর ফকিরবাড়ীতে জসিম উদ্দীন আহমেদের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডর বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্টানে আসা সকলেই আগামী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জসিম উদ্দীন আহমেদকে মনোনয়ন দেয়ার দাবী জানালে জেলা সভাপতি আব্দুল হাই স্পষ্ট জানিয়ে দেন আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভাবনার কথা।
তিনি বলেন, ‘নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর বাইরে কারও ক্ষমতা নেই। যারা দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে বিবেচনা করে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। আর মনোনয়ন বেচা-কেনা হয়। নৌকার মনোনয়ন কিনে আনার মতো টাকা কারও হয়নি।’ একথা বলার পর জসিমউদ্দিন অনেকটাই চুপসে যান বলে উপস্থিত অনেকে জানিয়েছেন। স্থানীয়রা বলেন, আব্দুল হাইয়ের কথায় এটুকু স্পষ্ট নির্বাচন ছাড়া এমনি এমনি কারো পিছে ঘুরে চেয়ারম্যান হওয়া যাবেনা। প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর জনসমর্থন আদায় করেই এখানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হবে। আব্দুল হাইকে স্পষ্ট কথা বলার জন্য এলাকাবাসী ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, সেলিম ওসমান জসিমউদ্দিনের কথা বলার পরপরই জসিমউদ্দিন পুরো এলাকা পোস্টার ব্যানার দিয়ে ভরে ফেলেছেন। যে কেউ এলাকায় আসলে মনে করবে, জসিমউদ্দিন মনে হয় ইতিমধ্যেই চেয়ারম্যান হয়ে গেছেন। যেভাবে উড়ছিলেন সেখান থেকে জসিমউদ্দিনকে মাটিতে নামিয়ে আনলেন আব্দুল হাই। এটুকু পরিষ্কার জনসমর্থন নিয়েই গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হতে হবে যে কোন প্রার্থীকে।


