# দুই বছরের কমিটিতে ১৬ বছর পার
# যুবলীগের নেতারা মুলদলে, গ্যাপ পূরণ করছে ফতুল্লার নেতারা
ফতুল্লার নেতাদের উপর ভর করে টিকে আছে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের অস্থিত্ব। জেলা যুবলীগের ব্যানারে কোন কর্মকান্ড নেই অনেক আগে থেকেই। জেলা যুবলীগের শীর্ষ নেতারা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে আসিন হয়েই যুবলীগের রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। এরপর থেকেই জেলা যুবলীগকে বাঁচিয়ে রাখতে যে ক’জন নেতা কাজ করছেন তাদের বেশীর ভাগ নেতাই ফতুল্লার। ফতুল্লার নেতারা নারায়ণগঞ্জে গিয়ে যুবলীগের হয়ে নানা কর্মকান্ড করছেন। শহরের রাজপথ প্রকম্পিত করছেন। যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বাষির্কীতেও প্রথম সাড়িতে থাকেন ফতুল্লার নেতারা।
জানা গেছে, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতির পদে থেকে মুলদলের রাজনীতিতেই ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। তাই তিনি যুবলীগে আর থাকছেন না বলে ইতিপূর্বে তার বক্তব্যে প্রকাশও করেছেন। একই ভাবে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ন পদে আছেন। তিনিও মূলদল নিয়ে ব্যস্ত। জাকিরুল আলম হেলাল ও শাহ নিজামও যুবলীগ থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ন পদে আছেন। তারা প্রত্যেকেই মূলদলের রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত।
এরপর থেকে জেলা যুবলীগের ব্যানারে ওইসব নেতাদের দেখা যায় না। তবে যুবলীগকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব নিয়েছেন যে ক’জন নেতা তাদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোঃ শরীফুল হক, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফাইজুল ইসলাম, কাঠেরপুলের আজমত আলী, তল্লার জানে আলম বিপ্লব, ফতুল্লা তক্কার মাঠের সানোয়ার হোসেন জুয়েল, কুতুবপুরের আবদুল খালেক ও আবদুল মালেক অন্যতম। তবে, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানী এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজনও যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে আছেন।
তথ্য বলছে, জেলা যুবলীগের মেয়াদ ফুড়িয়ে গেছে অনেক আগেই। কিন্তু তারপরও জেলা যুবলীগ নতুন করে গঠন নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। জেলা যুবলীগের শীর্ষ নেতারা মূল দলে চলে গেলেও নতুন করে জেলা যুবলীগ গঠনের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। অথচ এক সময় নারায়ণগঞ্জ যুবলীগ রাজপথ প্রকম্পিত করতেন। জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে চাঙ্গা রাখতে জেলা যুবলীগই যথেষ্ট ছিলো। কিন্তু বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে জেলা যুবলীগের গুরুত্বপূর্ন পদে থাকা নেতারা মূল দলের গুরুত্বপূর্ন পদে চলে আসায় তারা যুবলীগ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। তাই তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে যুবলীগকে আরো গতিশীল করে তুলতে কমিটি গঠনের বিকল্প নেই।
এদিকে যুবলীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের নেতৃত্ব এহসানুল হক নিপু, শরীফুল হক এবং ফাইজুল ইসলামের হাতে তুলে দেয়া প্রয়োজন। তারা জেলা আওয়ামী লীগের নানা কর্মকান্ড সফল করতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে অংশ নিয়ে থাকেন। যে কারণে জেলা যুবলীগের নেতৃত্ব পাওয়ার দাবিদার তারা। অন্যদিকে, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়াত আলম সানি এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজনকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের শীর্ষ পদে আনা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন যুবলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাহলে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবলীগ আবারও সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বোদ্ধা মহল।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলনে আবদুল কাদির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হন অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল। বৈরি সময়ে ওই সম্মেলনে ছিল আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের অবস্থান। এছাড়াও সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা জাকিরুল আলম হেলালকে করা হয় সিনিয়র সহ-সভাপতি, আসিফ হোসেন মানুকে সহ-সভাপতি ও শাহ নিজামকে করা হয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল বলছেন, যথা সময়ে তথা দ্বিবার্ষিক পক্রিয়ায় কমিটি গঠনের ধারাবাহিকতা থাকলে ২০০৫ সালের পর গত ১৬ বছরে অন্তত ৮টি কমিটি আসতো জেলা যুবলীগে। এক্ষেত্রে আট কমিটিতে উঠে আসার সুযোগ ছিলো নতুন নতুন নেতৃত্ব। এতে নেতৃত্ব বিকশিত হওয়ার যেমন সুযোগ ছিলো, তেমনি গতিশীলও হতে পারতো জেলা যুবলীগ। কিন্তু কমিটি বিড়ম্বনায় তা হয়ে উঠেনি। আর কবে নাগাদ কমিটি হবে, তা হলফ করে বলতেও পারছেন না নেতারা। যদিও, কমিটি হওয়ার বিষয়ে আলোচনা শোনা যাচ্ছে শহরে।


