# বারবার অভিযোগ তুললেও প্রশাসন কিছু করছেনা : আবদুল হাই
# আইনের আওতায় আনা উচিৎ : আনোয়ার হোসেন
# তিনি একটি দুষ্ট চরিত্রের লোক : জাহাঙ্গীর আলম
করোনা নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে যাচ্ছেন হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা, নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের সভাপতি এবং শহরের ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল। গত জুমা’তেও করোনার ভ্যাক্সিন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। ‘১০০ ডোজ টিকা নিয়েও সুফল মিলবে না’ বলে মন্তব্য করেন মাওলানা আব্দুল আউয়াল। এর মাধ্যমে তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানকে অস্বীকার এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি বিরোধীতা করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতারা। একই সাথে তার গ্রেফতারও দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘হেফাজত ইসলামের নেতা ও ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল জুমার খুৎবায় বসে প্রতিনিয়তই রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী কথাবার্তা বলে মানুষের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন। করোনার সংক্রোমণ এড়াতে অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশ সরকারও যখন লকডাউন দিয়েছেন, তখন এর বিরোধীতা করে মাওলানা আউয়াল প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন। আউয়াল বলেন, মাক্স পড়ে লাভ নাই! ১০০ ডোজ টিকা নিয়েও লাখ নেই! এগুলো বলার কারণ কী? যেখানে সৌদী আরবেও করোনার সংক্রোমণ এড়াতে হজ্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য তাগিদ দিচ্ছে। করোনার টিকার বিষয়ে সম্মতি দিচ্ছে। সেখানে আব্দুল আউয়াল কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নে এগুলো বলে বেড়াচ্ছে? আর অবাক করার মতো বিষয় হলো, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আব্দুল আউয়ালের বিষয়ে তথ্য থাকার পরও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই বিষয়ে আমি মিটিংয়েও বলেছি। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘সরকার লকডাউন দিয়েছে মানুষকে নিরাপদে থাকার জন্য। আর যেই মাওলানা এটা নিয়ে সমালোচনা করছেন। সরকার বিরোধী কথা বার্তা বলছেন। সে একটি দুষ্ট চরিত্রের লোক। আমরা তার গ্রেফতার চাই। তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হোক। তিনি প্রতিনিয়তই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এবং সাধারণ মুসল্লিদের উস্কে দিচ্ছে। দেশে আবারও হেফাজতের নৈরাজ্যতার ছক আঁকছে। এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নজর দেয়া উচিৎ। তারা যেনে শুনেও কেন চুপসে আছে, তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ মহানগর হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাউলানা ফেরদৌসুর রহমানও ইতিপূর্বে মুসল্লিদের উস্কে দিয়ে নারায়ণগঞ্জে অশান্ত পরিবেশ তৈরী করেছে। সোনারগাঁয়ের মামুনুল কা-ে হেফাজত যেই তান্ডব চালিয়েছে, তাতে নেতৃত্ব দিয়েছিলো ফেরদৌসুর রহমান। নারায়ণগঞ্জেও তিনি প্রায় সময়ই সরকার বিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। এরপরও ফেরদৌসকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। আমরা সুনেছি যে, ফেরদৌসকে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এক সাংসদ তার ছোট ভাই হিসেবে সম্বোধন করেছেন। ধারণা করছি যে, এই কারণেই দেশজুড়ে হেফাজতের উগ্র নেতাদের গ্রেফতার করা হলেও ফেরদৌসকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা আইনের আওতায় আনছেন না।
তবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা না নেয়া হলে বিষয়টি আমরা হাই কমান্ডে জানাতে বাধ্য হবো।’ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেছিলেন, ‘মসজিদের মিম্বারে বসে এসব কথা আমরা প্রত্যাশা করিনা। আমার মতে, এই বিষয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া উচিৎ। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে সরকারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা যারা আছেন, তাদেরকেও এই বিষয়ে নজর দিতে হবে। যারা সরকারের নির্দেশনা মানে না বরং বড় বড় কথা বলে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ। আর মাওলানা আউয়াল সাহেব সরকারের পতন চেয়ে এমন মন্তব্য কেন করছেন তা তদন্ত সাপেক্ষে বেড় করা উচিৎ।’ এদিকে, সরকার বিরোধী বক্তব্য দেয়ায় মাওলানা আউয়ালের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম। যদিও দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।


