Logo
Logo
×

রাজনীতি

আওয়ামী লীগে ঐক্য, বিএনপি’র নিষ্ক্রিয়তা

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২১, ০৮:৩১ পিএম

আওয়ামী লীগে ঐক্য, বিএনপি’র নিষ্ক্রিয়তা
Swapno

#আইভী-শামীম-সেলিম-আবদুল হাই-আনোয়ার হোসেনের দুরুত্ব কমেছে


# কালাম-সাখাওয়াত-তৈমূর-মামুন-দীপু ভূঁইয়ার মুখ দেখাদেখি বন্ধ


# শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করার সুযোগ পেয়েছে আওয়ামী লীগ


#দ্বন্দ্ব কমানোর উপায়ন্তর খুঁজে পাচ্ছেনা বিএনপি



নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক চর্চা যতখানি দেখা যায় তা শুধু আওয়ামী লীগেই। বিএনপি’র রাজনীতিতে ভাটা দীর্ঘদিনের। সেটি যেন আরো বেড়েছে। করোনার কারণে এমনিতেই সকল সেক্টরে ধস নেমেছে। রাজনীতিবিদরাও সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারছে না। তবে এরমধ্যেই নারায়ণগঞ্জে এক বিরল ঘটনা ঘটেছে। যা দেখে আপাত স্বস্তির ঢেকুঁর ছেড়েছে নারায়ণগঞ্জের মানুষ। বংশানুক্রমে চুনকা পরিবার আর ওসমান পরিবারের দুরুত্বের কথা নারায়ণগঞ্জ ছাপিয়ে সারা বাংলাদেশের মানুষ জানে। তবে সেই দুরুত্ব যখন কোন কিছুতেই কমছিলোনা তা আসলো কেবল শোকের মধ্য দিয়ে।

 

সূত্র জানিয়েছে, গত ২৬ জুলাই বিকেলে  মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলী আহম্মদ চুনকার সহধর্মিণী এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মা মমতাজ বেগম মৃত্যুবরণ করেন। এই সংবাদ শুনেই ছুটে আসেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ এমপি সেলিম ওসমান। মেয়রের মায়ের জানাযায় অংশগ্রহণ করেন।  এমপি সেলিম ওসমানের সাথেও দীর্ঘদিন ধরে দুরুত্ব তৈরি হয়েছিলো মেয়র আইভীর।বেশ কয়েকবার আহবান জানিয়েও মেয়রের সাথে আর শেষতক বসা হয়ে ওঠেনি তার। এরমধ্যে বছরের শুরুতে বেশ কয়েকটি সভায় নানাজনকে সিটি করপোরেশনের প্রার্থী হওয়ার আহবান জানান সেলিম ওসমান।

 

তবে সেসব কথাকে কথার কথা হিসেবেই প্রমাণ করে মেয়রের মায়ের মৃত্যুতে ছোট বোনের পাশে ছুটে আসেন এমপি সেলিম ওসমান। তখনো কোন সাড়াশব্দ করেননি এমপি শামীম ওসমান। অনেকে ভেবেছিলেন শামীম ওসমানের রাগ হয়তো কমবার নয়। এনিয়ে নানা সমালোচনাও তৈরি হয়। শামীম ওসমান এলেন। তবে একবার নয়, দুইবার। স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি বলে জানান এমপি শামীম ওসমান। মেয়রের মায়ের কবর জিয়ারত করে মেয়র আইভী ও তার পরিবারকে সমবেদনা জানাতে ছুটে যান ছোট বোনের বাড়িতে। শুধু তাই নয়, মেয়র আইভীর মায়ের দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শামীম ওসমান। শোক কীভাবে  শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে তাই যেন পরখ করলো নারায়ণগঞ্জবাসী।

 

এখানেই শেষ নয়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এড, খোকন সাহা, সহসভাপতি বাবু চন্দনশীল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামসহ অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতা যারা মেয়র আইভীর সাথে দুরুত্ব বজায় রেখে চলছিলেন তারাও এক হলেন শোকে। এছাড়া বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাও মেয়র ও তার পরিবারকে সমবেদনা জানাতে তার বাড়িতে যান। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে অন্তত ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা সমবেদনা জানাতে মেয়র আইভীর বাসায় যান। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে যে দুরুত্ব তৈরি হয়েছিলো সেটি অনেকটাই ঘুঁচে গেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সামনের রাজনীতিতে কী হবে তা ভবিষ্যতেই জানা যাবে।  

 


তবে অপরদিকে এক হবার কোন উপলক্ষ্যই যেন খুঁজে পাচ্ছেনা বিএনপি। উল্টো ক্ষণে ক্ষনে গ্রুপিং আর দ্বন্দ্বে সর্বশান্ত মহানগর ও জেলা বিএনপি। সাবেক সাংসদ ও মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সিনিয়র সহসভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খানের দ্বন্দ্ব যেন ফুরোবার নয়। তাদের বলয় তৈরি করেছে আরো কয়েকটি বলয়। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল নেই বছর খানেকের উপর, তিনি রয়েছেন আমেরিকায়। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টু, যুগ্ম সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ অন্যন্য নেতারাও যেন নিজেদের মেলে ধরতে পারছেননা। এমনকি করোনার সময় সেভাবে মানুষকে সহযোগিতার হাতও বাড়াতে পারছেননা। আদালতের আদেশে আরো বেশ আগে থেকেই কোমায় রয়েছে মহানগর বিএনপি। গেলো বছর দুয়েক হলো মহানগর বিএনপি মানে হাতে গোনা আট দশ জনের একটি কমিটি। জেলা বিএনপিও রয়েছে আইসিইউতে। প্রেস রিলিজে কাজ সারেন জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ। কালেভাদ্রে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন হলেও সেটি মারামারি বাধিয়ে ভন্ডুল করে দেন নিজেরাই। তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়েছে রূপগঞ্জে।

 

গত ৮ জুলাই রূপগঞ্জে সেজান গ্রুপে অগ্নিকান্ডে নিহত হন ৫১ শ্রমিক। অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে তৈমূর ও দীপু ভূঁইয়ার গ্রুপে মারামারি বাধিয়ে দেন। এমনই হ-য-ব-র-ল অবস্থা তৈরি হয়েছে জেলা বিএনপিতে। সাংগঠনিক কার্যক্রমেও নেতায় নেতায় চলছে বিভেদ। এই ব্যাধি যে সহজে সারবার নয়, তা নিজেরাই বলেন বিএনপির নেতারা। এসব সমস্যার সমাধান না হলে বিএনপির নিষ্ক্রিয়তা আরো প্রলম্বিত হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন