Logo
Logo
×

রাজনীতি

অন্যের টাকার পোষ্টার জুয়েলের জাতীয় পার্টি ঘেঁষা দুলাল

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২১, ০৭:৫৩ পিএম

অন্যের টাকার পোষ্টার জুয়েলের জাতীয় পার্টি ঘেঁষা দুলাল
Swapno

# সিদ্ধিরগঞ্জে সিব্বির, রাজুর কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছে জুয়েল, এমনকি মাছ ব্যবসায়ীর টাকায় পোষ্টার ছাপিয়েছে সে : দুলাল


#জীবনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেনি, জাতীয় পার্টি থেকে এসে সেক্রেটারি হয়েছে : জুয়েল


#চারবছরেও দেয়া যায়নি কোন থানা কমিটি


সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্বে অনলে পুড়ছে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ। দীর্ঘ চারবছরেও থানাসহ ওয়ার্ডকমিটিগুলো না হওয়ার পেছনে মূল সমস্যা এই দ্বন্দ্ব। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিএনপি-জামাতমার্কা হাইব্রীডদের কমিটিতে স্থান পাইয়ে দিতে চাচ্ছেন এমন অভিযোগ সাধারণ সম্পাদকের।

 

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল মাদকসহ ধরা পড়ার পর সেই সমস্যা থেকে উদ্ধার করাসহ তার কাউন্সিলর হওয়ার পেছনে অনেক দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি সভাপতি জুয়েল হোসেনের। তবে পাল্টা অভিযোগ আরো আছে কাউন্সিলর দুলালের। তিনি দাবি করেন, সিদ্ধিরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগে বিচ্ছৃঙ্খলার পেছনে মূল নাটের গুরু সভাপতি। তাছাড়া এখন বন্দরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য এলোপাথারি প্রোগ্রাম ডাকছেন সভাপতি।

 

এছাড়া সম্প্রতি ২৩নং ওয়ার্ডে সভাপতির ঈশারায়  স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনুষ্ঠান যেই ছেলে আয়োজন করেছে তার পুরো গোষ্ঠি বিএনপির। পেশায় মাছ ব্যবসায়ী সেই ছেলের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন সভাপতি। এমনকি ২৭ ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারে যে পোষ্টার সভাপতি লাগিয়েছেন তার পৃষ্ঠপোষকও সেই ছেলে। সিদ্ধিরগঞ্জের রাজুকে কয়েকবছর নানা সুবিধা নেয়ার বদৌলতে ঘুরিয়েছেন এমনকি সিব্বিরকে বাদ দেয়া আবার নেয়া সবকিছুতেই সভাপতি জুয়েল হোসেনের খারাপ রাজনীতির অংশ। উল্টোদিকে সভাপতি জুয়েল হোসেন বলছেন, জাতীয় পার্টির পিছন পিছন ঘোরা দুলাল কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেনি। হঠাৎ করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে এখন নিজেকে বড় নেতা জাহির করার সুযোগ খুঁজছেন। আসলে তার দল সম্পর্কে কোন ধারণাই নাই।  

 


মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান যুুগের চিন্তাকে বলেন,  স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি করা নিয়ে আমার বসাই হয়নি। গত দুইবছর আগে এমপি শামীম ওসমান আমাকে ও জুয়েলকে খসড়া কমিটি করার কথা বলেছিলেন সেন্ট্রালে জমা দেয়ার জন্য। স্বেচাসেবক লীগের কমিটি হওয়ার সময় আমাকে সে বন্ধুত্বের দাবি নিয়ে বলেছিলো, তোমার অনেক আগে থেকে আমি যেহুতু রাজনীতি করি সেহুতু অনেককে অনেক ধরণের আশ্বাস দিতে হয়। যার কারণে আমি তাকে প্রাধান্য দেই। আমি মাত্র ৮/১০ জনের নাম দিয়েছি ৭১ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে।

 

এরপর থানা কমিটিগুলো করার জন্য সভাপতি আমার সাথে কোনক্রমেই বসে নি।আমি এমনও বলেছি সিদ্ধিরগঞ্জ ও সদরের কমিটিগুলো দেয়ার ক্ষেত্রে তোমার প্রাধান্য থাকলেও আমার সমস্যা নেই। কিন্তু বন্দরে সে যাচ্ছেতাইভাবে নানা প্রোগ্রাম করছে তাতে আমাকে এব্যাপারে কোন কিছুই জানায়নি। বন্দরের কমিটি করার ক্ষেত্রেও আমি কোন নাম বলিনি তাহলে আমি কীভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নাম বলি। আমার বিরুদ্ধে সভাপতি যেসব কথা বলে সেসবের অন্তরালে কী ছিল তা সবাই জানে। আমি দুইবার কাউন্সিলর হয়েছি আমি মাদক  ব্যবসা করলে মানুষ আমাকে ভালো বলবে কী না  সেই বোধশক্তি আমার আছে।  

 


দুলাল বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জে জহিরকে থানা সেক্রেটারি বানাবে বলে দুই তিন বছর ঘুরিয়েছে। সিব্বিরকে নিয়েও যত বাড়াবাড়ি এবং সুবিধা নেয়াও এটা ছিল তার প্ল্যান। রাজুকেও পিছনে রাখার পেছনে তার প্ল্যান। আবার আমি কখনোই কোন বিতর্কিত লোকের নাম প্রস্তাব করিনি। আমি কারো নামই বলেনি। ২৩নং ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারে যে কাউসারকে নিয়ে প্রোগ্রাম করেছে সে এবং তার পরিবার হচ্ছে বিএনপির। যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই পাওয়া যাবে আমার তথ্য সঠিক কি না! বিএনপির লোক দিয়ে স্বেচ্ছাসেব লীগের প্রোগ্রাম হতে পারেনা। ৫নং ঘাটে কাউসার ও তার পরিবার মাছ ব্যবসা করে। সেখানকার ভালো ভালো মাছ কোথাও যায়। সভাপতির ব্যানার ফ্যাস্টুনের টাকাও দিয়েছে ওই কাউসার যেখানে আমার কোন ছবিই ছিলোনা। বন্দরের ৯টা ওয়ার্ডে যদি আমার প্রাধান্য থাকে তবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আমার প্রাধান্য বেড়ে যাবে এই ধারণা থেকেই সভাপতি এমনটা শুরু করেছে। আমি বারবার বলছি চারবছর হয়েছে আমাদের কমিটি দিয়েছে এখন একটি কমিটিও না দিতে পেরে যাওয়াটা আমাদের জন্য ব্যর্থতার।

 


মহনগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমি ছাত্ররাজনীতি করেই এই পর্যন্ত এসেছি। দুলাল তো আগে কোন দলের সাথে সেভাবে সক্রিয় ছিলনা। জাতীয় পার্টিটা সে হাল্কা করতো। আমার অভিজ্ঞতার চেয়ে তার অভিজ্ঞতা অনেক কম। ও তো বন্দরের ৯টা ওয়ার্ডের মালিকনা। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যারা জড়িত তারাই যেন কমিটিতে আসে। আমি কোন অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দেইনি। আমি গত কয়েকমাস যাবৎ দুলালের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন আছি।

 

আর্থিক সুবিধা নিয়ে কমিটিতে স্থান দেয়ার চেষ্টা করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজু অনেক আগে থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জে সেক্রেটারি। সিব্বিরের কাছ থেকেও আমি কোন সুবিধা নেইনি। এসব কথা যারা বলেন তাদের কাছে যদি কোন প্রমাণ থাকে তবে দিক আমি রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেবো। বাজে টাকার অভ্যাস আমার নেই। আমার পেছনে কোন দুর্গন্ধ নাই। দুলালের বিপদে আমি কী করেছি তা ভালো করেই জানে। ও এ্যারেস্ট হওয়ার পর আমি অনেক কিছ্ইু করেছি।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন