খোঁজ না নিয়েই শহরে ‘চাড়া নাচানোর’ হুমকী, বিস্মিত নারায়ণগঞ্জবাসী!
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২১, ০৬:৫৩ পিএম
এবারও মিথ্যার উপর ভর করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। মাসদাইর কবরস্থানে তার পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের কবরে শ্মশানের মাটি দেয়া হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ তোলোন শামীম ওসমান। তিনি কবরের সেই মাটি সরানোর জন্য সিটি করপোরেশনকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটামও দেন।
কিন্তু কিভাবে কবরে মাটি এলো? কে বা কারা এই মাটি দিলো? মাটি শ্মশানের কিনা? এসব বিষয়ে আগে থেকে কোনো খোঁজই নেননি এই এমপি। তিনি মেয়র আইভীকে ঘায়েল করার একটি মওকা হিসাবে নিয়েছিলেন বিষয়টিকে। ফলে তিনি হুমকি ধমকি দিতে থাকেন। কিন্তু তার এই হুমকি ধমকি যে এতো তারাতারি বুমেরাং হবে সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। এবার তিনি মাসদাইর কবরস্থানে দাড়িয়ে নারায়ণগঞ্জে চাড়া নাচায়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন আমার ধৈর্য্যরে পরীক্ষা নেবেন না। আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যে আমার বাবা, মা, ভাইয়ের কবরে যারা শ্মশানের মাটি দিয়েছেন তারা এই মাটি সরিয়ে নেবেন। অন্যথায় আমি নারায়ণগঞ্জে চাড়া নাচায়ে দেবো।
শামীম ওসমানের এই বক্তব্য সোমবার ফেসবুকে লাইভ করা হয়। মূলত তার এই বক্তব্যের পর থেকেই শহরময় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। বিশেষ করে ধর্মপ্রান মুসলমানরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান। কেউ কেউ শামীম ওসমানের বক্তব্য বিশ^াস করলেও অনেকের কপালে ভাঁজ পরে। জানতে চান আসল ঘটনা কি? তবে এর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে। মাসদাইর কবরস্থান মসজিদের মুয়াজ্জিন এবং কবরস্থানের দারোয়ান সামসু পরিস্কার করেন আসলে ওসমান পরিবারের কবরগুলিতে কোথা থেকে মাটি এলো? এছাড়া এই মাটি শ্মশানের মাটি কিনা?
এ ব্যাপারে মাসদাইর কবরস্থান মসজিদের মুয়াজ্জিন পরিস্কার করেই বলেন প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের কবরে বৃষ্টির পানি জমার খবর পেয়ে তারই নিদের্শে নাসির নামক আজমেরী ওসমানের এক অনুগামী এসে কবরে মাটি দেন এবং এই মাটি শ্মশানের মাটি নয় বলেও তিনি জানান। এছাড়া কবরস্থানের দারোয়ান সামসু, যে নাকি ওসমান পরিবারের কবরগুলি দেখাশুনার দায়িত্বেও নিয়োজিত, ওসমান পরিবারের সদস্যরাই এই দায়িত্ব তাকে দেন। সেই সামসু বলেন, জসিম নামক এক ব্যাক্তির পারিবারিক কবরে বৃষ্টির পানি জমার ফলে তিনি এক ট্রাক মাটি আনেন সেই কবর ভরাট করার জন্য। পরে জসিমের আনা মাটি বেশি হয় এবং কবরস্থানের সামনে রেখে দেয়া হয়। তখন আজমেরী ওসমানের অনুগামী নাসির গিয়ে সামসুকে পাঁচশ টাকা দিয়ে নাসিম ওসমানের কবর ভরাট করে দিতে বলেন। তখন সামসু জসিমের আনা মাটি দিয়ে কবর ভরাট করে দেন। এই হলো আসল ঘটনা।
কিন্তু একজন সংসদ সদস্য হয়ে শামীম ওসমান কোনো রকম খোঁজ খবর না নিয়েই কবর স্থানে গিয়ে সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে লম্ফঝম্ফ শুরু করেন। ফেসবুক লাইভেই হুমকি দিতে থাকেন। ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে গেলে চাড়া নাচায়ে দেয়ার হুমকিও দেন। কিন্তু এসব করে শামীম ওসমান কি হাসিল করলেন সেটা বুঝা না গেলেও গতকাল বেশ কয়েকটি পত্রিকার শিরোনাম হয় শামীম ওসমান কবরস্থানে দাঁড়িয়ে মিথ্যা কথা বলেছেন।
একটি পত্রিকা শিরোনাম করে, “মাসদাইর কবরস্থানের সামেন দাঁড়িয়ে শামীম ওসমান সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলেছেন।” অপর একটি পত্রিকা শিরোনাম করেছে, “ঠিকাদার ওসমান পরিবারের লোক, উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা, নির্দেশ দাতা আজমেরী ওসমানের লোক”। অপর একটি পত্রিকার শিরোনাম হলো, “কবরে মাটি ফেলার নির্দেশদাতা কে এই নাসির?”। মূলত এভাবেই গতকাল কয়েকটি পত্রিকা সত্য তুলে ধরে এবং এতে আবারও শামীম ওসমান জনগনের কাছে একজন মিথ্যাবাদী হিসাবে চিহ্নিত হয়ে পরেন।
ফলে গতকাল সারা দিন নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র সাধারণ মানুষের মাঝে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। মানুষ বলতে থাকেন শেষ পর্যন্ত পিতা, মাতা আর বড় ভাইয়ের কবর নিয়েও রাজনীতি করলেন শামীম ওসমান। শুধু তাই নয় মুসলমানদের শেষ ঠিকানায় দাঁড়িয়ে তিনি সারা নারায়ণগঞ্জে চাড়া নাচায়ে দেয়ার হুমকি দিলেন। অহংকার আর কাকে বলে! অথচ তার উচিৎ ছিলো আগে ভালো মতো খোঁজ খবর নিয়ে তারপর কথা বলা। কারণ তিনি কোনো বাচ্চা ছেলে নন। এই বয়সে এসে মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে এভাবে হুমকি ধমকি দেয়ার রাজনীতি তাকে মানায় না বলেই মনে করেন নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ মানুষ।


