Logo
Logo
×

রাজনীতি

মাটি নিয়ে উত্তাপ, নেপথ্যে নাসির

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২১, ০৭:০২ পিএম

মাটি নিয়ে উত্তাপ, নেপথ্যে নাসির
Swapno

# ২নং রেলগেইট এলাকা থেকে আনা হয় পরিস্কার মাটি
# মাটির জন্য কেয়ারটেকারকে ৫০০ টাকা দিয়েছিলো নাসির
# মাটি দ্বারা কবর লেপেছি, মাটি ফেলিনি : নাসির
# ব্লেমগুলো কে দিলো, জানা দরকার : পারভীন ওসমান

 
`শ্মশানের মাটি দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে স্বজনদের কবর' সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারের প্রতি এমন অভিযোগ তুলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান। সংবাদ কর্মীদের কাছে এই বিষয়ে বক্তব্যও রাখেন তিনি। একপর্যায়ে কারো নাম উল্লেখ না করলেও সিটি করপোরেশনকে উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান বলেন, ‘যারা শ্মশানের মাটি দিয়ে তার স্বজনদের কবর ঢেকেছে, তারা ইবলিশ শয়তান।’ তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য।জানা গেছে, কবরস্থানে মাটি ফেলেছেন ওসমান পরিবারেরই এক অনুসারী। ওই অনুসারীর নাম নাসির। সাংসদ শামীম ওসমানের ভাতিজা ও প্রয়াত নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এই নাসির ফতুল্লার ইসদাইর এলাকার বাসিন্দা।

 

কবরে মাটি ফেলার বিষয়ে সিটি করপোরেশন কর্তৃক নিযুক্ত গোরস্থানের কেয়ারটেকার সামসুদ্দিন জানান, মাসদাইর গোরস্থানে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ প্রয়াত নাসিম ওসমানের কবর অনেকটা নিচু হওয়ায় সেখানে বৃস্টির পানি জমে। এই ছবি তুলে কেউ একজন আজমেরী ওসমানের মায়ের (পারভীন ওসমান) কাছে পাঠায়।বিষয়টি ইসদাইরের নাসির দেখতে পেয়ে ছবি তোলেন এবং তা পারভীন ওসমানকে দেখান। পরবর্তীতে নাসির এখানে আসেন এবং আমাকে ডাকিয়ে বলেন, ইমার্জেন্সি কবরে মাটির ব্যবস্থা করতে হবে। তখন এই পুকুর (শ্মশানের পুকুর) কাটেনি। তারপর কবরস্থানের পিছন থেকে মাটি এনে এই কবর উচু করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘এই মাটি এনেছিলো জসিম (পূর্নাঙ্গ পরিচয় জানা যায়নি) ভাই। তার বাবার কবরে পানি উঠেছিলো। তখন ১০০ গাড়ি মাটি দেয়ার কথা ছিলো। ৪৯ গাড়ি মাটি ফেলেছিলো। সেখান থেকে রোলার দিয়ে মাটি এনে কবরে ফেলেছি। এর কিছুদিন পরে বৃষ্টি আসে। বৃষ্টির ঢলে পাশে থাকা মাটি দিয়ে সব ভরে যায়।’ কবরস্থানের তত্ত্বাবধায়ক থাকা এক ব্যক্তি জানান, ‘নাসির মাটি বাবদ কবরস্থানের কেয়ারটেকারকে পাঁচশত টাকা দিয়েছিলো।

 

২নং রেলগেইট এলাকা থেকে কবরস্থানের জন্য আনা নতুন মাটি দিয়েই কেয়ারটেকার শামসুল হক নাসিম ওসমানের কবর উচু করে। অবশিষ্ট কিছু মাটি কবরের পাশে রাখা হয়। এরপর  পার্শ্ববর্তী শ্মশানের পুকুর থেকে উত্তোলণকৃত মাটিও কবরস্থানের পাশে রাখা হয়েছিলো। পরবর্তীতে অতিবৃষ্টির ফলে পাশে থাকা এসব মাটি গড়িয়ে কবরে চলে আসে।’ এদিকে, ওই ঘটনায় শামীম ওসমান সিটি করপোরেশনকে দায়ি করে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী।

 

বিবৃতিতে মেয়র আইভী বলেন, ‘প্রকৃত সত্য হল, জনাব শামীম ওসমানের স্বজনদের কবরে শ্মশানের মাটি ফেলা হয়নি। প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের কবর অপেক্ষাকৃত নিচু। সেখানে পানি জমে থাকার আশংকা করে পারভীন ওসমান তাঁদের পারিবারিক আত্মীয় জনৈক নাসির’কে মাটি ফেলার জন্য পাঠায়। নাসির বাইরে থেকে মাটি এনে শামীম ওসমানের ভাই’সহ স্বজনদের কবর ভরাট করে। এ কাজে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নিযুক্ত কেয়ারটেকার সামসুদ্দিন সহযোগিতা করেছে মাত্র। সত্যকে আড়াল করে শামীম ওসমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের হীন উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। ইতিপূর্বেও একটি প্রভাবশালী মহল হেফাজতে ইসলামের মাধ্যমে একই ভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করেছে, যা নারায়ণগঞ্জবাসী অবগত রয়েছেন।’

 

এদিকে, ২নং রেলগেইট এলাকা থেকে আনা নতুন মাটি দ্বারা নাসিম ওসমানের কবর উচু করণের কার্যক্রম আজমেরী ওসমানের অনুসারী নাসিরের হস্তক্ষেপে সম্পাদন হওয়ার বিষয়টি সামনে আসলে তা নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে নাসির দৈনিক যুগের চিন্তার এই প্রতিবেদকের কাছে দাবী করেন, ‘প্রতিমাসের প্রথম শুক্রবারে আঙ্কেলের (নাসিম ওসমানের) কবর জিয়ারত করাই এবং মসজিদে মিলাদ পড়াই। সেই হিসেবে কবর স্থানে আমার সব সময়ে যাওয়া হয়। প্রায় ৩ মাস আগে আমি মাটি দ্বারা কবর লেপে আসছি। কিন্তু মাটি ফেলিনি। মূলত শ্মশানের মাটি বৃষ্টির পানির ঢলে কবরে চলে এসেছে। আজমেরী ওসমান বা তার মা পারভীন ওসমানের নির্দেশনা ছিলো কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নির্দেশনা বলতে ওনাদের তেমন কোন ‘ইয়া’ ছিলো না। আমরা সব সময়ে করি, তাই নিজেদের দায়িত্ব থেকেই কবরে মাটি লেপে দিয়েছি। কোন মাটি কবরে ফেলা হয়নি।’

 

এদিকে, কবরে মাটি ফালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পারভীন ওসমান দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘সাত-আট মাস বা তারও আগে আমার স্বামীর কবরে পানি জমেছিলো। সেক্ষেত্রে আমরা বলেছিলাম যে, কবরে মাটি ফেলবো। কিন্তু শ্মশানের মাটি ফেলবো আমার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুরীর কবরে! এটাতো প্রশ্নই উঠে না। সত্যিকার অর্থে এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বিষয়টি আমার মাথায়ও নেই। এই ব্লেমগুলো শুনে আমিতো থান্ডার্ড হয়ে যাচ্ছি। এই ব্লেমগুলো আমার নামে বা আমাদের নামে কে দিলো, এটা আমাদের জানা দরকার।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন