দীর্ঘ ৫৩ মাস কার্যালয়হীন না:গঞ্জ বিএনপি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২১, ০৯:২৪ পিএম
দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল ও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করা বিএনপির জেলা কিংবা মহানগর কার্যালয় নেই প্রায় ৫৩ মাস অতিবাহিত হতে চলেছে।
দীর্ঘ এ সময়ে জেলা বিএনপি নেয়নি কোনো অস্থায়ী কার্যালয়। তবে জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের বাসভবনের নীচতলায় মজলুম মিলনায়নে জেলার কার্যক্রম ও মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের বাসায় একটি কক্ষে মহানগর বিএনপির অস্থায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার নারায়ণগঞ্জে এত দীর্ঘ সময়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম একটি রাজনৈতিক দল কার্যালয় ছাড়া চলছে। নেতাকর্মীরা বিষয়টি এখন আর মানতে নারাজ। আর তাই ঘরোয়া দাওয়াত ও অনুষ্ঠানগুলো তারা বর্জন করেই চলছেন।
এদিকে মহানগর বিএনপির মূলধারা থেকে বেরিয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মার্কেটের তৃতীয় তলায় নিজস্ব কার্যালয়টি রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করছেন। সেখানে তিনি তার অনুগত নেতাকর্মীদের নিয়ে বসে দলীয় বৈঠক ও সভা করেন। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি কার্যালয়টি ভেঙে দেওয়া হয়। এর আগে আদালতে কার্যালয়টি না ভাঙতে মামলা করেছিল বিএনপি। সে মামলায় জয়ী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) কার্যালয়টি ভেঙে ফেলে। বর্তমানে সেখানে বহুতল ভবন তৈরীর কাজ চলছে, সেটি সম্পন্ন হলে সেখানে বিএনপির অনুরূপ কার্যালয় বুঝিয়ে দেবে নাসিক।
মামলায় পরাজিত হয়ে উপায় না পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা নাসিক মেয়র আইভীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অস্থায়ী কার্যালয়ের জন্য বললে আইভী তাদের অস্থায়ী কার্যালয়ের জন্য স্থান দেখতে বলেন। তবে দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর পার হলেও সে স্থান ঠিক করতে পারেনি জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমন অবস্থায় কার্যালয়হীন নেতাকর্মীরা নেতাদের বাড়ি বাঁ হোটেল ছাড়া নিজেদের বসার বা আলোচনার কোনো স্থান পাচ্ছেন না।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন জানায়, ২০১৩ সালের মার্চে জেলা বিএনপির কার্যালয় ও এর নিচতলায় অবস্থিত দোকান মালিকদের অনেক আগেই বলা হয়েছে সেখানে নয় তলাবিশিষ্ট মার্কেট ভবন করা হবে। এর মধ্যে এখানকার ভবনে নিচতলায় যেসব দোকান মালিকেরা রয়েছেন তাদের নতুন ভবনের নিচতলায় অনুরূপ আকৃতির দোকান দেওয়া হবে।
এছাড়া দ্বিতীয় তলায় থাকা জেলা বিএনপির কার্যালয়টিও অনুরূপ আকৃতির করে দেওয়া হবে। কারণ বিএনপি কার্যালয় ও দোকান মালিকেরা আগেই পজিশন কিনে নিয়েছেন। এ কারণেই তাদের কেনা পজিশনের আকৃতি অনুযায়ী নতুন ভবনে জায়গা দেওয়া হবে। চার তলার পর করা হবে আবাসিক ফ্ল্যাট। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আমি তো হাইকোর্টে পর্যন্ত গিয়েছিলাম এ কার্যালয়ের জন্য। এখন মজলুম মিলনায়তনে অস্থায়ীভাবে চলছে দলটির কার্যক্রম। দ্রুত সিটি করপোরেশন আমাদের কার্যালয়টি বুঝিয়ে দেবে প্রত্যাশা করছি। এ ব্যাপারে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে নেতাকর্মীরা চাইলে আমরা বড় পরিসরে হয়তো একটি অস্থায়ী কার্যালয় নিতে পারি, বলেন তৈমুর।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, আপাতত অস্থায়ী কার্যালয় আমরা নিয়েছি কালিরবাজারে। সেখান থেকে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করি আমাদের দলীয় কার্যালয় দ্রুত আমরা বুঝে পাবো।


