Logo
Logo
×

রাজনীতি

একের পর এক ব্যর্থ হচ্ছেন শামীম ওসমান!

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২১, ০৭:১৭ পিএম

একের পর এক ব্যর্থ হচ্ছেন শামীম ওসমান!
Swapno

# ওপেন সিক্রেট হয়ে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জবাসীর নজর কাড়তে সক্ষম হচ্ছেনা


 

স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে নাসিকের বর্তমান মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে একটি মহল একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আর এই ষড়যন্ত্রের পেছনে যে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানই কলকাঠি নাড়ছেন এটি সকলের কাছেই এখন ওপেন সিক্রেট।

 

জানা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ এনে আইভীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেন শামীম ওসমান। এরপর একে একে মসজিদ-মাদ্রাসা দখলের ইস্যু ও হকার ইস্যুসহ আইভীকে জড়িয়ে মন্ডলপাড়ার একটি ওয়াকফ এস্টেটের জায়গা দখলের অভিযোগ সামনে আনেন ষাটোর্ধ্ব এই সাংসদ। মূলত তিনি এসবের সাথে সরাসরি জড়িত না থাকলেও তার সাঙ্গপাঙ্গদের মাধ্যমেই এগুলো করিয়েছেন।

 

এদিকে সর্বশেষ (চলতি বছরের ৯ আগস্ট) মাসদাইর কবরস্থানে গিয়ে নিজের পিতা-মাতার কবরে সিটি করপোরেশন শ্মশানের মাটি ফেলেছেন বলেও ঠুনকো এক অভিযোগ উপস্থাপন করেন তিনি। কিন্তু নিজস্ব লোকজন দিয়ে সাংসদের রটানো একের পর এক আইভী বিরোধী ষড়যন্ত্র এখন আর নারায়ণগঞ্জবাসীর নজর কাড়তে সক্ষম হচ্ছেনা। কারণ এখানকার স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের মতে, শামীম ওসমান কোন ভালো কাজের জন্য নয়, বরং নিজের রাজনৈতীক স্বার্থ হাসিলের জন্যই আইভী বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। পাশাপাশি আইভীর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত শামীম ওসমানের দাঁড় করানো প্রায় প্রতিটি ইস্যুই ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

 

সূত্র জানায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত জিউস পুকুর নামে শত কোটি টাকা মূল্যের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠে মেয়র আইভী ও তাঁর নিজ পরিবারের সদস্যদের উপর। সেদিন জিউস পুকুর পাড়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত, মেয়র বিরোধী সমাবেশে উপস্থিত হয় কয়েক‘শ হিন্দু নারী-পুরুষ। কিন্তু সেই সমাবেশে মেয়রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে দেখা যায়, একটি বিশেষ গোষ্ঠির (শামীম ওসমানের অনুসারী) সদস্যদের। তারা সেদিন আইভীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে উষ্কে দিয়ে তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ করেন। তাই সেদিনের সমাবেশ কোন সম্প্রদায়ের মঙ্গলের জন্য নয়, বরং শামীম ওসমান এর মাধ্যমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছেন বলেই ধারনা অনেকের। ফলে এটি তখনই শামীম ওসমানের একটি ব্যর্থ ইস্যুতে পরিনত হয়েছে।  

 

এদিকে, গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর চাষাঢ়ার বাগে জান্নাত মসজিদের সামনে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে আরো একটি সমাবেশ করেন নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের নেতারা। জানা যায়, এরা হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী হলেও শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই সর্বমহলে পরিচিত। সমাবেশে ওলামা পরিষদের নেতারা বাগে জান্নাত মাদ্রাসা উচ্ছেদ করে সেখানে পার্ক নির্মানের অভিযোগ করেন আইভীর বিরুদ্ধে। এর জন্য সিটি নির্বাচনে মেয়রকে জবাব দেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন ওলামা পরিষদের নেতাকর্মীরা। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, যেখানে মাদ্রাসা ভেঙে পার্ক নির্মানের অভিযোগ করা হয়েছিলো মেয়রের বিরুদ্ধে; সেখানে উল্টো নাসিকের জায়গাই দখল করে রেখেছে মাদ্রাসা কমিটি। সুতরাং ওলামা পরিষদ আয়োজিত আইভী বিরোধী সেই সমাবেশের যৌক্তিকতা ও হেফাজত নেতাদের নৈতীকতা নিয়ে তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলো। তাই শামীম ওসমানের এই ইস্যুটিও ব্যর্থ হয়।

 

অন্যদিকে, গত বছরের ২৭-ফেব্রুয়ারি বিকেলে শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত রাইফেল ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে মেয়রের বিরুদ্ধে ওয়াক্ফ এস্টেটের জমি দখল ও মসজিদ ভেঙে বাণিজ্যিক ভবন তৈরীর লিখিত অভিযোগ পেশ করেন মন্ডলপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে মন্ডলপাড়া জামে মসজিদের সেক্রেটারি বলেছিলেন, মেয়রের নির্দেশে ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে ওয়াক্ফ এস্টেটের নিজস্ব সম্পত্তিতে জোরপূর্বক উচ্ছেদ চালিয়ে ১১টি ঘর ফেঙে ফেলা হয়। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে করা হয়েছে। কিন্তু এরপর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূলত সেই জায়গাতে সরকারি অর্থায়ণে একটি মডেল মসজিদ নির্মিত হবে। তাই সেখানে সিটি করপোরেশন ও আইভীর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন