# টেন্ডার সম্রাট জি.কে শামীমকে দলে আনতে চেয়েছিলেন তারা
# সুবিধাভোগীরা তৎপর রয়েছে : আনোয়ার হোসেন
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখন দুই ঘরনার নেতাদের অবস্থান। এক দল ত্যাগী এবং আরেক দলের ত্বকমা হাইব্রিড। হাইব্রিড বলতে ত্যাগীরা বোঝাচ্ছেন, যারা বাইরে থেকে দলে এসে সুবিধাভোগে লিপ্ত। তবে, এসব সুবিধাভোগীদের ঠাঁই মিলছে দলে ঘাপটি মেরে থাকা কতিপয় নেতাদের হাত ধরেই। স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে অর্থ বৃত্তের প্রাচুর্য্যে মোড়ানো ব্যক্তিদের দলে আনার প্রয়াস দেখা যায় স্বর্থন্বেষী ওই মহলের মাঝে। দেশের আলোচিত টেন্ডার স¤্রাট জি.কে শামীম এর অন্যতম উদাহরণ হয়ে থাকছে নারায়ণগঞ্জের ত্যাগী নেতাদের কাছে।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে র্যাবের অভিযানে ধরা পরে আলোচিত টেন্ডার স¤্রাট জি.কে শামীম। র্যাবের ওই অভিযানের আগে জি.কে শামীমের নাম সেভাবে কেউ না যেনে থাকলেও গ্রেফতারের পর বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল। অর্থাৎ জি.কে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর বেশকিছু ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এসব ছবিতে দেখা যায়, জি.কে শামীমের সাথে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এক সাংসদের আন্তরিক মুহুর্ত। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথেও জি.কে শামীমের আরো একটি ছবি প্রকাশিত হয়।
এতে দেখা যায়, সাধারণ সম্পাদক বাদল অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকাবস্থায় সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সাথে বাদলকে দেখতে সেখানে উপস্থিত হয় জি.কে শামীম। এসব ছবি ভাইরাল হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সহ গোটা দেশে প্রশ্নবিদ্ধ হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানও। এবার সেই প্রসঙ্গে কথা বলেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিরষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন।
গত ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক সভায় আনোয়ার হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জে এখন আওয়ামীলীগের ছড়াছড়ি। এদের মধ্যে সুবিধাভোগীরা তৎপর রয়েছে সকলের মাঝে। জি.কে শামীমের মত লোকদের আওয়ামীলীগে পদ দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল তারা। জি.কে শামীম যখন হাসপাতালে ভর্তি হয়, তখন অনেক বড় বড় নেতা হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিল তাকে দেখার জন্য। এখন তিনি জেলে, নেতাদের ভিড়ে ঐ নেতারা এখন গা-ঢাকা দেয়া অবস্থায়। তাই আমি বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া নেতা-কর্মীদের মধ্য থেকে মূল্যায়ন করুণ। নিজের আখের গোছানোর জন্য আওয়ামীলীগের পদ-পদবী ব্যবহার করবেন না।
অভিযোগ উঠেছিলো, জি.কে শামীমের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাঁকে জেলা আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট করতে চেয়েছিলো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একটি মহল। অর্থাৎ আগে থেকেই আলোচিত জি.কে শামীমের সাথে সক্ষতা ছিলো তাদের। জিকে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর যাদের কয়েকটি ছবি ভাইরাল হয়। অনেকেরই মন্তব্য, জি.কে শামীমের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণও করা হয়েছিলো। তবে, জেলা আওয়ামী লীগেরই ত্যাগী নেতাদের প্রতিবাদে তা আর হয়ে উঠেনি।
তবে, টেন্ডার সম্রাট জিকে শামীম জেলা আওয়ামী লীগের পদে আসতে না পাড়ায় তা আল্লাহর রহমত বলে মনে করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এর আগে মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রয়াত রোকন উদ্দিন আহম্মেদের স্মরণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আনোয়ার হোসেন বলেছিলেন, ‘সুবিধা ভোগি নেতাদের বদান্যতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলো জি.কে শামীম। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে তা হয়নি।
যদি জিকে শামীম দলে ঢুকে যেত, তাহলে সারা বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তিটা কোথায় যেত। সে আমাদের কিছু নেতার বদান্যতায় দলে ঢুকে সারা বাংলাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতো। সে টেন্ডারবাজী করতো আর মোটা অংকের টাকা কিছু নেতাদের হাতে ঢুকিয়ে দিতো। খারাপ মানুষের কারণে এখন ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসতে চায় না। এর জন্য আমাদেরই কিছু নেতা দায়ি। অনেকে আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে অপকর্ম করে আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তি নষ্ট করছে।’


