নারায়ণগঞ্জে বিএনপির ১০টি ইউনিট কমিটি গঠনের কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক চলছে প্রকাশ্যেই। ইউনিট কমিটি করতে গিয়ে দায়িত্বশীল কতিপয় নেতা গ্রুপিং করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে অযোগ্যদের কমিটিতে জায়গা করে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ নতুন নয়। তা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা।
সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন কমিটি থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় থাকা নেতারা ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, পছন্দের পদগুলোতে একাধিক প্রার্থী থাকায় জেলার প্রায় প্রতিটি থানায় এবং পৌরসভায় বিএনপি নেতাদের মধ্যে চলছে অর্ন্তদ্বন্দ্ব। অর্ন্তদ্বন্দ্বের ফলেই প্রতিপক্ষের নেতাকে ঘায়েল করতে নানা কৌশল আঁটছে নিজ দলের নেতাকর্মীরাই। আগামীতে এই দ্বন্দ্ব আরো প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কেননা ইতিমধ্যেই বাদ পড়ার শঙ্কায় থাকা নেতারা হুশিয়ারী উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, অযোগ্যদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়া হলে তারা পাল্টা কমিটি গঠনের মত বিদ্রোহ করতে বাধ্য হবেন। এমনটা হলে খাদের কিনারায় থাকা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ভবিষ্যত আরো ভয়াবহ হওয়ার সম্ভাবনাই দেখছেন বোদ্ধামহল।
অথচ, এক সময় আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপি নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ কাঁপাতেন। নেতায় নেতায় অর্ন্তদ্বন্দ্ব ও বিভক্তির ফলে বর্তমানে তা কেবলই অতীত। তাইতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ত্বকমা পড়েছে ডুবন্ত জাহাজে। অভিযোগ রয়েছে, দলের বর্তমান ও ‘সাবেক’ নেতারা বলয় কেন্দ্রীক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে করেছে কয়েক খন্ডে খন্ডিত। ফলে, মাঠের রাজনীতিতে ক্রমশই দূর্বল হয়ে পড়েছে দলটি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি সিন্ডিকেটের কব্জায় পড়েছে। এই সিন্ডিকেট কেন্দ্রীক রাজনীতির কারণে নিজ দলের নেতারাই এখন একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের মূলে রয়েছে কয়েজন নেতা।
তাদের মধ্যে আহবায়ক তৈমুর আলম খন্দকার, সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, শাহ আলম, মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান অন্যতম। মূলত, তারা নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই গ্রুপিং করছেন। এদিকে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে ঢেলে সাজাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেই উদ্যোগ নিয়েছেন, স্বার্থন্বেষী মহলের অপকৌশলের কারণে সেই উদ্যোগও অনেকটা ভেস্তে যাওয়ার পথে বলে জানিয়েছেন দলের পোড় খাওয়া নেতারা।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন হয় চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি। তৈমূর আলম খন্দকারকে আহবায়ক এবং মামুন মাহমুদকে সদস্য সচিব করে ৪২ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু জেলার আহবায়ক কমিটিতে যেমন বিতর্কিত কতিপয় নেতার জায়গা হয়েছে, তেমনি ইউনিট কমিটিতেও ওই বিতর্কিতদেরই জায়গা করে দেয়ার সুক্ষ্ম প্রচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এদিকে, জেলা বিএনপির আহবায়ক তৈমুর আলম খন্দকারের ভাষ্য, যেহেতু প্রার্থী একাধিক, সেহেতু একজন পদ পেলে অন্য জন বিরোধীতা করবেনই।
অন্যদিকে, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নাসির উদ্দিনও বলছেন, বিএনপি বড় দল হওয়ায় দলে প্রতিযোগীতাও বেশি। তবে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে যোগ্যব্যক্তির হাতেই দলের দায়িত্ব তুলে দেবেন। তিনি দেশের বাইরে থাকলেও নারায়ণগঞ্জের প্রতি তার নজর রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলে একাধিক প্রতিযোগী থাকাটা ভালো দিক, তবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে যাদের প্রতিযোগী করে সামনে আনা হয়েছে, তাদের অনেকই যোগ্যতা সম্পন্ন নয়। আবার বিতর্কিতদের নামও শোনা যাচ্ছে। যাদেরকে পেছন থেকে পরিচালনা করছে কয়েকটি মহল।


