# কেউ শ্রীঘরে গেছেন মাদক মামলায়, কেউবা চাঁদাবাজিতে
# ধর্ষণ মামলাও হয়েছে এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে
# কুকর্মের কারণে সবসময় সমালোচিত অনেকে
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ডিসেম্বরে এমন কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রকাশ্যে না হলেও সিটি করপোরেশন এলাকায় তোরজোর শুরু হয়ে গিয়েছে সেটি অনুমেয়। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে নতুন মুখ পেয়ে অনেকেই খুশি হয়েছিল। তবে সেই খুশি কেটে যেতে খুব বেশি সময় লাগেনি সেই ওয়ার্ডবাসীর। কী রাজনৈতিক আর কী অপকর্ম নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অনেক কাউন্সিলরই শ্রীঘর দর্শন করেছেন। আর অনেকে করছেনও।
রাজনৈতিক মামলা তো রয়েছেই, সাথে নাশকতা মামলা, মাদক, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি মামলায় অনেকে কাউন্সিলরকে নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। গত পাঁচবছরে কাউন্সিলরদের অনেকেই এসব মামলায় আসামি হওয়ার কারণে নানামুখী অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছে ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন বর্তমানে কারাগারে আছেন। সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজতের নাশতকা মামলার আসামি হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বিএনপির নেতা ও ৭ খুন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি (অব্যাহতিপ্রাপ্ত)। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিদ্ধিরগঞ্জ ছাত্রলীগের আহবায়ক ও ৭ খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের ভাতিজা শাহজালাল বাদলও বিতর্কের বাইরে নন। সম্প্রতি তিন নম্বর ওয়ার্ডে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন তিন। এসংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হলে পুরো দেশে আলোচনায় আসেন এই কাউন্সিলর।
এছাড়া তার ওয়ার্ডের আশেপাশে নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের হোতা হিসেবে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসানও নানাসময় নানা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনায় আসেন। সাতখুন মামলার আসামি তিনিও (অব্যাহতি প্রাপ্ত)। তাছাড়া মদ ও বিয়ারসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন এই কাউন্সিলর। এছাড়া ২০১৮ সালে শিমরাইল রাস্তা থেকে দক্ষিণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত সড়কটির নামফলক কাউন্সিলরের বাবাকে দিয়ে উদ্বোধন করিয়ে দেশব্যাপী আবারো শিরোনাম হন তিনি।
তখন সিটি করপোরেশন জানায়, বিধি অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া কারো নামে কোন সড়কের নামকরণ করা যাবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার হবে। এ নিয়ে তখন এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডে প্রথমবারের মত কাউন্সিলর নির্বাচিত হন গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল। তার বাবা সাবেক সাংসদ বিএনপি নেতা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। সম্প্রতি গাড়ি পোড়ানো মামলায় পলাতক আছেন তিনি। এমনকি মায়ের মৃত্যুতে জানাযাতেও অংশগ্রহণ করতে পারেননি তিনি। তার অনুপুস্থিতে এলাকাবাসী নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সিটি করপোরেশনের সবচাইতে আলোচনায় নাসিক ৬নং ওয়ার্ড। বর্তমান কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন অন্ত নেই। তার সাথে থাকা অনেক ব্যক্তিই মাদকসহ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার হয়েছেন। এছাড়া ইপিজেডসহ নানা ব্যবসায় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির জন্য দোষারোপ করা হয় তাকে। কাউন্সিলর মতির বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কোভিড পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সবচাইতে আলোচিত কাউন্সিলর ১৩নং ওয়ার্ডের মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। দেশব্যাপী যেমন সুখ্যাতি পেয়েছেন তা আর ধরে রাখতে পারেননি। দ্বিতীয় বিয়ে, ধর্ষণ মামলাসহ নানা অভিযোগ উঠার পর থেকে পলাতক আছেন তিনি। রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার না হলেও ব্যক্তিগত নানা স্ক্যান্ডালে জড়িতে তার ইমেজ বর্তমানে জরাজীর্ণ। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আরেক আলোচিত কাউন্সিলর ১৪নং ওয়ার্ডের শফিউদ্দিন প্রধান। জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও তিনি। সম্প্রতি এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার মূল হোতা হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। নানা সময় তার নিজ ওয়ার্ড ও শহরে অস্থিরতা তৈরির জন্য দায়ী করা হয় তাকে। নগরভবনে এক প্রকৌশলীকে মারধর করার ঘটনায় সারা দেশে বিতর্কিত ইমেজ নিয়ে হাজির হন কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আরেক আলোচিত কাউন্সিলর ১৭নং ওয়ার্ডের আবদুল করিম বাবু। নারায়ণগঞ্জের সাবেক এসপির সময় বেশ কয়েকটি মামলায় জড়িয়ে শ্রীঘরে যান তিনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নানা সময় অনেক অভিযোগ উঠে। মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে শ্রীঘরে গেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধানও। তিনি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষকে কতখানি সেবা দিতে পেরেছে এসব কাউন্সিলররা এটি বিবেচনার পাশাপাশি নানা অভিযোগে পুলিশের খাতায় নাম, গ্রেফতার ও শ্রীঘর দর্শন এসব কাউন্সিলরদের ব্যক্তিগত ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আসন্ন ডিসেম্বরের নির্বাচনে অনেক স্বচ্ছ ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন আর সেটি হলে এসব কাউন্সিলরদের দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়া যে কঠিন হয়ে পড়বে এমনটি মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


