Logo
Logo
×

রাজনীতি

দ্বন্দ্বের সুযোগে ঢুকছে হাইব্রীড-কাউয়া

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২১, ১১:১৯ পিএম

দ্বন্দ্বের সুযোগে ঢুকছে হাইব্রীড-কাউয়া
Swapno

গ্রুপিং ও কাদা ছোড়াছুড়ি যেন বন্ধই হচ্ছে না নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের মধ্যে। অথচ এক সময় প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত এই নারায়ণগঞ্জেই হয়েছিল আওয়ামী লীগের গোড়াপত্তন। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা ও স্বধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী এই দলটির নারায়ণগঞ্জ এর যারা কর্ণধার, যাদের হাতে সুবর্ণ সুযোগ ছিল রাজধানী সংলগ্ন এই জেলাটিকে আওয়ামী লীগের তথা বাংলাদেশের নেতৃত্ব প্রদানকারী শীর্ষ পর্যায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ করার। কিন্তু ইতিহাস সমৃদ্ধ এই জেলাটির কর্তাব্যক্তিদের দ্বন্দ্ব, ক্ষমতা ভোগ করার লোভ আর অধিপত্য বিস্তারের অহংকার শুধু নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগই নয় সারা নারায়ণগঞ্জ বাসিকে তার প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে।

 

তাদের এই সব কার্যকলাপের কারনে শুধু দলের না, কলঙ্কের প্রলেপ পড়ছে পুরো নারায়ণগঞ্জ বাসির উপর। এতে করে দলের কিছু সুবিধাবাদি এই দ্বন্দ্বের সুযোগকে কাজে লাগাতে উঠে পড়ে লাগে। আর আওয়ামী লীগ বিরোধী বিভিন্ন দল থেকে হাইব্রীড কাউয়া নেতা দলে অনুপ্রবেশ করতে সুযোগ পায়। আর তারা সুবিধাভোগিদের সাথে মিলে তাদের সুযোগ ও সহযোগিতার উসিলায় দলের ত্যাগী ও তৃণমূলকে দমিয়ে তাদের উপর ছড়ি ঘুরাতে চেষ্টা করে।


 
এখানে সবাই তাদের দাপট দেখাতে এত ব্যস্ত যে, যেখানে তারা ইচ্ছে করলে সারা বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারতো সেখানে তারা শুধু ছোট এই জেলার মধ্যে তাদের আধিপত্য জাহির করতে কামড়াকামড়িতে লিপ্ত হচ্ছে। জেলায় দাপুটে নেতার কোন অভাব নাই, কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে কোন ভূমিকা রাখার পর্যায়ে তারা যেতে পারেননি। এখানে দাপুটে এমপিতে তারা খুশি হতে পারে কিন্তু দাপুটে কোন মন্ত্রী যারা জাতীয় পর্যায়ে কিংবা দলে নীতিনির্ধারণী বিষয়ে প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে এমন কোন সুযোগ তৈরী হওয়া বা করার চেষ্টাও তারা করতে পারেননি।

 

তারা সবসময়ই ব্যাস্ত সময় পার করছেন তাদের কার কতটুকু ক্ষমতা আছে কিংবা একজনের আরেকজনের চেয়ে কতটুকু ক্ষমতা বেশী আছে তা প্রদর্শন করার জন্য। আসলে তারা কেউই তৃণমূল বা ত্যাগী নেতাকর্মী কিংবা জনগণের কি চাহিদা আছে তার উপর নজর দেন না, সাধারণ পর্যায়ের আপামর জনতার সাথে মিশতে কিংবা তাদের কি ইচ্ছা বা প্রয়োজন তা জানতে অভ্যস্ত না। তারা তাদের নিজেদের ইচ্ছা বা প্রয়োজনকে জনগণের উপর স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপর চাপিয়ে দেন। তাদের মধ্যে আবার কিছু কিছু সুবিধাবাদি মানুষ আছে যারা এই সব স্বার্থবাজ নেতৃত্বকে তুষ্ট করতে ভাল মন্দ যাচাই বাছাই না করেই চাটুকারিতা করতে শুরু করে এবং তার ফায়দা নিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে লিপ্ত থাকেন।


 
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু বলেন, আওয়ামী লীগের দুইটি বলয়ের দ্বন্দ্বের কারনে জেলার উন্নয়ন কিছুটা বাধাগ্রস্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে নির্বাচন কিংবা দলীয় কোন আন্দোলনে এর প্রভাব কখনো পড়ে না এবারের আসন্ন নির্বাচনেও তার কোন প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, এই দ্বন্দ্বের কারণে দলের ভিতরে কাউয়া বলেন কিংবা ব্যাঙ বলেন তাদের প্রবেশ করতে সুবিধা হয়। আর আমাদের এই দুই বলয়ের লোক তাদের নিজ দলের প্রভাব বিস্তারের জন্য অনেকটাই সুযোগ করে দেন।

 

এসব কাউয়া নেতাদের কারণে দলের প্রকৃত ত্যাগী নেতা যারা প্রকৃত অর্থেই দলকে ভালবাসেন তার কোনঠাসা হয়ে পড়ে। দল ক্ষমতায় থাকলে এই সব কাউয়ারা ত্যাগীদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করে নিজেদের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে। আবার দল যখন বিপদে পড়ে তখন তারা তাদের স্বরূপে ফিরে যায়। তখন আবার দলের কোনঠাসা ও ত্যাগী তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই তাদের নিজেদের স্বার্থের উর্দ্বে উঠে দলের জন্য কাজ করতে শুরু করে। যারা ত্যাগী তারা তাদের অবহেলার কথা ভুলে যান এবং দলের বিপদ তারা সহ্য করতে পারেন না। আসন্ন নির্বাচনে তারা সবাই এক হয়ে দলের জন্য কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


 
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া এই বিষয়ে বলেন, এটা একটি স্বাভাবিক বিষয় একটি ক্ষমতাসীন দলের মেয়র, এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সকলের যদি সৌহার্দপূর্ণ ও সম্প্রীতিমূলক সম্পর্ক থাকতো তাহলে অবশ্যই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন আরো অনেক বেশী হতো এবং তরান্বিত হতো। তাদের দ্বন্দ্বের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে বিভক্তির কারণ হলো যার যার ক্ষমতার ইগো, যার যার বলয়ের ক্ষমতার ব্যবহার এই সুযোগগুলো। দলে হাইব্রীড, কাউয়া এগুলো কেন্দ্র থেকেই শুরু। সেই সুযোগে জেলা উপজেলা ইউনিয়ন সব পর্যায়ের কমিটিতে এগুলো প্রবেশ করে বসে আছে। তবে তিনি আশাবাদী এই দ্বন্দ্ব আসন্ন সিটি ও ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রভাব পড়বে না।

 

তিনি বলেন, এখানে নির্বাচনের সময় কেউ শামীম বলয় কেউ আইভী বলয়ের সৃষ্টি করে এবং তারা প্রার্থী হওয়ার সময় ঐ বলয়ের প্রার্থী হিসেবে পত্রপত্রিকায় আসে। কিন্তু নির্বাচনে যে কেউ প্রার্থী হতে পারে, মনোনয়ন চাইতে পারে। তবে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি নির্ভর করে দলীয় মনোনয়ন কমিটির বা কেন্দ্রীয় প্রধানের। যখন কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড যখন প্রার্থী ঘোষণা করবে তখন সবাই তার পক্ষে হয়ে কাজ করতে বাধ্য হবে। তবে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও তা শত্রুতার পর্যায়ের না।
 


এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ যদি মেয়র এবং এমপি এই দুই গ্রুপে বিভক্ত না হয়ে এক হয়ে কাজ করতে পারতো তাহলে অবশ্যই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ আরো শক্তিশালী হতো এবং নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন আরো তরান্বিত হতো। তাঁর মতে ২০১১ সালের নির্বাচনে সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর প্রথম নির্বাচনের সময় যখন দলীয় প্রার্থী হিসেবে শামীম ওসমানকে ঘোষণা করা হয় তখন ডা. সেলিনা হায়াত আইভী দলের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করেছিল আর তখন থেকেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্দ্বের শুরু হয়।

 

তিনি বলেন, তাদের এই দ্বন্দ্বের কারনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হাইব্রীড ও কাউয়ারা প্রবেশ করতে সুযোগ পায়। সামনে নাসিক ও ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে করনীয় নির্ধারণ করতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে বসার চিন্তাভাবনা আছে। করোনার কারণে এই বিষয়টি পিছিয়ে যাচ্ছে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন