# সেলিম ওসমান তাকে শকুন, ল্যাতা ও মতলববাজ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন
# নারায়ণগঞ্জ কলেজ থেকে বের করে দেয়া হয়েছিলো বাদলকে
# বাদল ব্যক্তিত্বহীন লোক, এ্যাডভান্স করলেই যেখানে সেখানে চলে যায় : হাই
আলোচিত শিশু বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীর এক স্বীকারোক্তি বিনোদিতো করেছিলো সকলকেই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইস্যুতে আলোচিত এই শিশু বক্তা যখন র্যাবের হাতে গ্রেফতার হলেন, তখন র্যাব কর্মকর্তার এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, “স্যার, মঞ্চে মাইক ধরলে জোশে হুঁশ থাকে না !” জোশে হুঁশ হারিয়ে ফেলা ওই শিশুবক্তার মতই হয়তো মাইক পেলে বেহুঁশ হয়ে যান নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল।
সম্প্রতি ভিপি বাদলের একেরপর এক বেফাঁস মন্তব্যের পর তাকে নিয়ে এমন আলোচনাই চলছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে। কখনো তিনি নারায়ণগঞ্জের জনপ্রীয় মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে কোথাকার কোন মেয়র বলে সম্বোধন করেছেন, আবার কখনো তিনি বক্তব্য রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের চেয়ার নিয়ে। নিজেকে ওই আসনে দেখার খোয়াবও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এতে অবশ্য আসনটির নির্বাচিত সাংসদ সেলিম ওসমান ভিপি বাদলের একহাত নিয়েছেন। তাকে শকুনের সাথে তুলনা করে মতলবের মতলববাজ বলার পাশাপাশি ল্যাতা বলেও সম্বোধন করেছিলেন সাংসদ সেলিম ওসমান।
তবে, সদা সমালোচনায় বিদ্ধ ভিপি বাদল এখনো তার বক্তব্যে হুঁশ ফেরাতে পারেননি। এর প্রমাণ দিয়েছেন গত ২৭ আগস্টেও। সোনারগাঁয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ভিপি বাদল বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে ইঙ্গিত করে কঠোর সমালোচনা করেছেন। এমনকি আব্দুল হাই কিসের মুক্তিযোদ্ধা ও কোথায় যুদ্ধ করেছেন, সেই প্রশ্নও রেখেছেন বক্তব্যের মাঝে। অথচ, ভিপি বাদল যেই কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সেই কমিটির সভাপতি আব্দুল হাই।
এদিকে, ভিপি বাদলের প্রশ্নের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেছেন, ‘জেনারেল শফিউল্লাহ’র মত লোক আমাকে এই ধরনের প্রশ্ন করতে সাহস পায়নি। আর সেতো তিনদিনের বাচ্চা। তাঁর জন্মের আগে থেকে আমি রাজনীতি করি। সে কার ইন্ধনে এই ধরনের কথা বলতেছে, তা আমার জানা নেই। তবে, আমি তার এই প্রশ্নের উত্তর এভাবে দিব না। আগামী সেপ্টেম্বরে আমাদের মিটিং আছে। যেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। তখনই আমি এর জবাব দিবো।’
এদিকে ভিপি বাদল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আব্দুল হাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের পুরনো এক ব্যক্তবে টেনে এনে বলেন, ‘কিছুদিন আগেও তার গুরু সেলিম ওসমান সাহেব তাকে ল্যাতা হিসেবে সম্বোধন করেছেন। তিনি মতলব থেকে এসে মতলব বাজি করছেন বলে মন্তব্য করে সেলিম ওসমান তাকে বলেছিলেন, একজন এমপির সাথে থেকে তিনি ল্যাতা হয়ে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার দুর্নীতির কারণে নারায়ণগঞ্জ কলেজ থেকে তাকে বের করে দেয়া হয়েছিলো। সে একটি ভুয়া স্কুল দিয়েছে। তার বাবা রেললাইনের কর্মচারী ছিলো বিধায় সে রেললাইনে থাকতো। সে তিন বেলা খাবারও পেত না।
সাবেক জিএস পাইকপাড়ার জাহাঙ্গীর তাকে রুটি ও গুড় দিয়ে ক্ষুধা নিবারন করিয়েছিলো বলে জাহাঙ্গীর পত্রিকায় স্টেটম্যান্ট দিয়েছিলো। সে ব্যক্তিত্বহীন লোক। তার বিরুদ্ধে আমার বলার কিছু নেই।’ মুক্তিযোদ্ধা কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় আব্দুল হাই ভিপি বাদলের উদ্দেশ্যে বলেন, সে কেন আক্রমণ করে কথা বলছে, তা আমার জানা নেই। এতোদিন সভা-সমাবেশে সে নিজেইতো বলতো যে, এখন আপনাদের সামনে বক্তব্য রাখবেন ‘জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ভাই। তাহলে এখন তার কি হলো?’
এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল হাই বলেন, ‘সে সুবিধা ভোগ করতেছে। হুজুররা ওয়াজ করতে গেলে যেমন আগে এ্যাডভান্স করতে হয়, তিনিও তেমনি আগে এ্যাডভান্স পেলে যেখানে ডাকবে সেখানেই চলে যায়। তাকে পাঁচশত টাকার কামলাও বলা হয়েছে ইতিপূর্বে। সে কমিটিতে সব হাইব্রিডদের আনতে চাইছে সুবিধা ভোগের জন্য। এখানে তার অর্থ বাণিজ্য আছে। নয়তো যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগ, তাদের বাদ দিয়ে হাইব্রিডদের পক্ষে কেন যাবে?’


