Logo
Logo
×

রাজনীতি

বাদলে বিব্রত-ক্ষুব্ধ আ’লীগ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২১, ০৭:৫৯ পিএম

বাদলে বিব্রত-ক্ষুব্ধ আ’লীগ
Swapno

# আবদুল হাই মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে : মোহাম্মদ আলী
# একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমরা বিব্রত, নিন্দা জানাই : কায়সার
# একক সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পাওয়ায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে : আনিসুর রহমান দিপু
# বাদল হাইব্রিড, কাউয়া, বিএনপি-জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করছে : জাহাঙ্গীর
# শৃঙ্খলা ভঙ্গ হচ্ছে, আমরা এমনটা চাই না : কালাম  

 
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সেক্রেটারীর মধ্যে বিবাদ প্রকাশ্যে এসেছে। থানা কমিটিগুলোতে হাইব্রিডদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে সেক্রেটারি ভিপি বাদলকে ইঙ্গিত দিয়ে বক্তব্য রেখেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই। অন্যদিকে আব্দুল হাই মুক্তিযোদ্ধা কিনা, কিংবা কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন, প্রকাশ্যে সেই প্রশ্ন রেখেছেন সেক্রেটারি ভিপি বাদল। এতে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের এই দুই নেতার মধ্যে সৃষ্ট বাগযুদ্ধ চরম উত্তাপে রূপ নিয়েছে। এর রেশ ছড়িয়ে পড়ছে দলের অন্যান্য নেতাদের মাঝেও।

 

তবে, সেক্রেটারি ভিপি বাদলের মন্তব্যে বিব্রত হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। একজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে এমন প্রশ্ন তোলায় হতভম্ব মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের  সন্তানরাও। অনেকেই নিন্দা জানিয়েছেন ভিপি বাদলের এই মন্তব্যে।

 

জানতে চাইলে সাবেক সাংসদ  ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আব্দুল হাই সাহেব মুক্তিযোদ্ধার সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন। সে একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তিনিই আমাদেরকেসহ সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিংয়ে পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য। এখন তার নাম যদি মুক্তিযোদ্ধা থেকে কেউ বাদ দিতে চায়, তাহলে কি বলার আছে! আমার মত লোককেও তিনি মুক্তিযুদ্ধ করতে পাঠিয়েছেন। তার বিষয়ে আমার সার্টিফিকেট দেয়ার মত কিছু নেই! তিনি হয়তো অনেকের কাছে চক্ষুশূল হয়েছে। তাই যারা মুক্তিযোদ্ধা না, এখন আওয়ামী লীগ করে, তারা এগুলো বললে বলুক। কার কি আসে যায়। যারা প্রশ্ন তুলছে, তারা মুক্তিযুদ্ধের কি তা দেখেছে?’

 

সোনারগাঁয়ের সাবেক সাংসদ ও থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা আমাদের দেশের সবচেয়ে সম্মানিত নাগরিক। সেই মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়ানো সমুচিন নয়। আমার বাবাও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাই একজন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে এমন প্রশ্ন তোলায় একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি বিব্রত। আমি সোনারগাঁয়ের সকল মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নিয়ে একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি করে দিয়েছি। সারা বাংলাদেশে এখনো এমন নজির কোথাও নেই। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি মনে করি ওই প্রশ্নের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানহানি করা হয়েছে। আমি তার এমন প্রশ্নের বা বক্তব্যের নিন্দা জানাই। মুক্তিযুদ্ধ মানে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধা মানে বঙ্গবন্ধু।’

 

এদিকে, থানা আওয়ামী লীগের কমিটিতে হাইব্রিডদের সুযোগ দেয়ার বিষয়ে জেলার সভাপতি আবদুল হাই সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলকে ইঙ্গিত করে যেই বক্তব্য রেখেছেন, তা যথার্থ বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই সাংসদ। এই প্রসঙ্গে কায়সার হাসনাত বলেন, ‘সভাপতি সাহেবের এই ইঙ্গিত যথার্থ বলেই মনে হচ্ছে এই কারণে যে, আগের বিতর্কিত আহবায়ক কমিটিতে আমি ছিলাম না। ওই কমিটিতে যারা ছিলো, তারা বর্তমানের সংশোধিত কমিটিতেও আছে। তাদেরতো বাদ দেয়া হয়নি। আর ওই বিতর্কিত কমিটিতে সেক্রেটারির স্বাক্ষর থাকলেও সভাপতি স্বাক্ষর দেয়নি। তাই সেক্রেটারির প্রতি সভাপতির ইঙ্গিত যথার্থ বলে মনে হচ্ছে।’

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আনিসুর রহমান দিপু দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘জেলার দুইজন শীর্ষ নেতা যখন বাগযুদ্ধে লিপ্ত এবং সেক্রেটারি বাদল সাহেব যখন সভাপতিকে নিয়ে এমন প্রশ্ন তোলে, তখন আমরা বিব্রত হই। কমিটিতে হাইব্রিড বা বিএনপি জামাতের লোকদের অর্ন্তভুক্ত করার যেই অভিযোগ শুনছি, তাতেও আমরা বিব্রত।’

 

তিনি বলেন, ‘নিয়ম হচ্ছে, থানা থেকে কমিটির তালিকা জেলায় পাঠানো হবে অনুমোদনের জন্য। জেলার ওয়ার্কিং কমিটি এর চুলচেরা বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে অনুমোদন দিবে। কিন্তু এখানে এর ব্যাত্যয় ঘটেছে। তাই সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং হয় না। যে কোন বিষয়ে ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং হওয়া উচিৎ। অনেকক্ষেত্রে একক সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পাওয়ায় সমস্যাগুলো দেখা দিচ্ছে।’

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘দলের মধ্যে সভাপতি-সেক্রেটারির এই বাগযুদ্ধে আমরা বিব্রত। তবে, সভাপতি আব্দুল হাই মুক্তিযোদ্ধা কিনা- সেক্রেটারি ভিপি বাদলের এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে আমাদের মাঝেও কিছু প্রশ্ন জেগেছে। কারণ আমরাইতো দেখেছি যে, বিভিন্ন সভা মঞ্চে সেক্রেটারি বাদল আমাদের সভাপতি আব্দুল হাই ভাইকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে সম্বোধন করেছেন, বক্তৃতা দিয়েছেন। হঠাৎ করে সেই বাদলই সভাপতিকে নিয়ে এই প্রশ্ন কিভাবে তোলেন। আব্দুল হাই ভাই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। আমরা সেটাই জানি।’

 

তিনি বলেন, ‘বাদল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিতে টাকা ওয়ালা হাইব্রিড, কাউয়া, বিএনপি-জামায়াতদের অর্ন্তভুক্তি করছে। এখানে তার অর্থ বাণিজ্য আছে। তা না হলে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড ও বিএনপি-জামায়াতকে কেন আনবে। সদর থানার মধ্যে বেশির ভাগ বিএনপির লোকদের এনেছে। সোনারগাঁ নিয়েও বিতর্ক শোনা যাচ্ছে। সেক্রেটারি বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি-জামায়াত ও হাইব্রিডদেরকে আওয়ামী লীগের কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত করায় সাংগঠনিক ভাবে তার বিচার চাই।’  

 

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, দলের সিনিয়র দুই নেতার মধ্যে যেই বিভেদ চলছে এবং সেক্রেটারির বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যের যেই অভিযোগ শোনা যাচ্ছে, তাতে আমরা বিব্রত। তাছাড়া, সভাপতি আব্দুল হাই ভাইকে আমরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই জানি। তাকে নিয়ে একই কমিটির সেক্রেটারি যেই প্রশ্ন তুলেছেন, এতে সাধারণ মানুষ হাসাহাসি করবে। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হচ্ছে। আমরা এমনটা চাই না।’

 

কালাম আরো বলেন, ‘সোনারগাঁয়ের কমিটি থেকে শুরু করে অন্যান্য কমিটিতে বিএনপি-জামায়াত ঘেষা ও হাইব্রিডদের স্থান করে দেয়ার মাধ্যমে প্রতৃক আওয়ামী লীগারদের দুরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগই দল হিসেবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কারণ, সুবিধাভোগিরা মধু খেয়ে চলে যাবে। দলের দুঃসময়ে তাদের পাওয়া যাবে না। সোনারগাঁয়ে হাইব্রিডদের স্থান করে দিয়ে জাতীয় পার্টিকে সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এর সাথে জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় লোক জড়িত।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন