Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘টাকার লোভ সামলাতে পারেন না ল্যাতা’

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২১, ০৯:১৭ পিএম

‘টাকার লোভ সামলাতে পারেন না ল্যাতা’
Swapno

বিভিন্ন সভা সমাবেশে ঝাঁজালো বক্তব্য দিয়ে বুঝাতে চান দল এবং বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসার কোন কমতি নেই। মঞ্চে বলে বেরান এক ভিতরে করেন। তিনি নিজেও বলেন নৌকা এদেশের স্বাধীনতার প্রতীক। নৌকা হচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতীক। অথচ এগুলো বলে বেরানো সেই জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি ভিপি বাদলের সামনে সদর থানার আরেক সেক্রেটারি বললেন নৌকার দরকার নেই।

 

নৌকা একটা মার্কা। আম পাতা মার্কা নিয়ে তারা এক হাইব্রিড নেতাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন বলে জানান। নৌকা প্রতীক নিয়ে ক্ষমতায় থাকা অবমাননা করলেন থানা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি।জেলার সেক্রেটারি হয়ে তিনি নিরবতা পালন করে শুনলেন। এই নিয়ে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানানলেও ভিপি বাদল নিরব হয়েই থাকলেন।

 


এদিকে নৌকাকে অবমাননা করে বক্তব্য প্রদান করা থানার সেক্রেটারি আল মামুনকে দল থেকে বহিস্কারের দাবী উঠেছে। তাও আবার গোগনগরের এক হাইব্রিড নেতার সভায় এই বক্তব্য। তাই সচেতন রাজনীতি মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে ভিপি বাদল কি নৌকা মার্কা দলের নেতা নাকি অন্য কোন দলের ল্যাতা। আবার দলের মাঝে কেউ কেউ বলছেন তিনি টাকার বান্ডিল দেখলে কে হাইব্রিড কাউয়া তা তিনি ভুলে যান। তার নামে কমিটি বানিজ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন অর্থ আত্মসাতের অভিযো আছে খোদ দলীয় নেতাদের থেকে।

 

দলীয় এক শীর্ষ নেতা জানান, তাকে কেউ টাকা বান্ডিল এ্যাডভান্স দিলে তিনি তা সামলাতে পারেন না। সে কাউয়া হউক বা হাইব্রিড হউক তার ডাকে ছুটে যান টাকার লোভ সামলাতে না পারা এই ল্যাতা। সেই সাথে তিনি দলের নেতা কর্মীদের থেকে টাকা হওলাদ নিলে তা আর ফেরত দেন না। অনেকে ভয়ে চানও না বলে জানান কয়েকজন নেতা। জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি ভিপি বাদলকে নিয়ে দলের মাজে বিতর্কের শেষ নেই। ক্ষমতাসিন দলের জেলার শীর্ষ পদে থেকে একের পর এক বিতর্কে পরায় তাকে নিয়ে দলের মাঝে এবং বাহিরে সমালোচনার যেন শেষ নেই। একের পর এক বিতর্ক কর্মকান্ড করে গেলেও তিনি বার বার পার পেয়ে যান। কখনো মেয়র আইভি আবার কখনো সেলিম ওসমানের চেয়ার নিয়ে বক্তব্যে বলেন এক চেয়ারে এত লোভ কিসের। অথচ তিনি নিজেই টাকার লোভ সামলাতে পারেন না বলে দলের নেতাদের থেকে অভিযোগ উঠেছে। এমপি সেলিম ওসমান তাকে মতলবরে মতলব বাজ বলার পাশা পাশি ল্যাতা বলে সম্বোধন করেছেন।

 


সম্প্রতি গত ২৪ আগষ্ট গোগনগর হাইব্রিড নেতা ফজর আলীর সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি ভিপি বাদলের সামনে সদর থানার সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, আমরা ফজর আলীকে নৌকা পাইলেও পাশ করামু না পাইলেও পাশ করামু। যদি সম্ভব হয় আম পাতা মার্কা নিয়ে পাশ করামু। নৌকার দরকার নেই। আমার নামে পত্রপত্রিকায় আসে আমি নাকি লক্ষ লক্ষা টাকা খেয়ে ফজর আলীকে নৌকার নমিনেশন দিয়ে দিচ্ছি। এই কথা বলার সাথে সাথে মঞ্চে থাকা জেলার সেক্রেটারি ভিপি বাদল তাকে শোক সম্পর্কে কথা বলার জন্য বলেন। তার এই বক্তব্য নিয়ে নিন্দা প্রকাশ করেন বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। সেই সাথে তাকে দলথেকে বহিস্কারের দাবী তুলেন। একই সাথে তৃনমূল নেতৃবৃন্দ  প্রশ্ন তুলে জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারির সামনে কি করে এই ধরনের বক্তব্য প্রদান করে নৌকাকে অবমননা করেন। তিনিই বা কেন নিরব ছিলেন। জেলা গুরুপূর্ণ থেকে এমন খাম খেয়ালির পরিচয় এটা নেতৃবৃন্দ যেন কোন ভাবে মেনে নিতে পারছেন। নাকি তার কোন ফায়দা আছে।

 


ওই সভায় ভিপি বাদল বলেন, আমি জেলা আওয়ামীরীগের পদে থাকতে চাই না। এক চেয়ারে থাকার এত লোভ কেন। হাইব্রিড প্রসঙ্গে বলেন, আজকে যারা হাইব্রিড কাউয়া নিয়ে বড় বড় কথা বলেন ৭৫ এর সময় খন্দকার মোশতাকের সাথে লাইনে গিয়ে দাড়িয়েছেন মানুষ তা জানে। আমার দলে আসতে চাইলে তাকে আসতে দেন। সে যেই হউকনা কেন। সদস্য পদ পাবে কি পাবে না তা বিবেচনা করা হবে। কিন্তু কয়েক মাস আগে এই নেতাই বলেছে হাইব্রিড কাউয়ারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতার পিছনে পিছনে ঘুরে। এখন তিনি টাকার লোভে পরে তা ভুলে গেছেন বলে জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ।
 

 

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার শুনে অবাক লাগে আমার দলের নেতারা কি করে এই ধরণের কথা বলতে পারেন। নৌকা হচ্ছে স্বাধীনতার প্রতীক। নৌকা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার প্রতীক। এই নৌকাকে তারা অবমাননা করে নেত্রীকে অবমাননা করেছে। জেলার বা থানার কোন সভাপতি সেক্রেটারি এমনকি আওয়ামীলীগের একজন কর্মী বলতে পারেন না আমি আম পাতা, কাঁঠাল পাতা দিবো। আম পাতা, কাঁঠাল পাতা আমাদের প্রতীক নয়। আগামী মাসে কেন্দ্রীয় নেতারা আসলে আমি তাদের কাছে এই কথা তুলে ধরবো। আরেক বক্তব্যে তিনি জানান, হুজুররা ওয়াজ করতে গেলে যেমন আগে এ্যাডভান্স নেয়, তেমনি তিনিও আগে এ্যাডভান্স পেলে যেখানে ডাকবে সেখানে চলে যাবে। যে সকল কমিটিতে হাইব্রিডদের নাম এসেছে সেখানে তার অর্থ বাণিজ্য আছে। নয় ত্যাগীদের বাদ দিয়ে তিনি কেন হাইব্রিডদের দলে প্রবেশ করাতে চান।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন