Logo
Logo
×

রাজনীতি

তিন ব্যবসায়ী নেতার কব্জায় মামুন মাহমুদ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২১, ০৬:৫৫ পিএম

তিন ব্যবসায়ী নেতার কব্জায় মামুন মাহমুদ
Swapno

# যেভাবে কমিটি করা হচ্ছে তাতে আরো পঙ্গু হয়ে পরবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি
# সবাইকে না রাখলে কমিটিতে স্বাক্ষর করবেন না তৈমুর, প্রয়োজনে পদত্যাগ করবেন
# নিজের পছন্দের অযোগ্য লোক দিয়েই থানা কমিটি গুলি করতে চান তিন ব্যবসায়ী

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে এখন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদের উপর ভর করেছেন ধনাঢ্য তিন ব্যবসায়ী। এরা হলেন কাজী মনির, শাহআলম এবং মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দীপু। এই তিন ব্যবসায়ীর ইচ্ছা অনুযায়ীই এখন মামুন বিভিন্ন থানা কমিটিগুলি করতে চাইছেন বলে জানা গেছে।

 

এরই মাঝে দলের বহু নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে মামুন বিভিন্ন থানার আহবায়ক কমিটি প্রস্তুত করে এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে স্বাক্ষর করার জন্য চাপাচাপি করছেন। কিন্তু তৈমুর কিছুতেই এসব কমিটি অনুমোদন দিতে রাজী হচ্ছেন না। তার পরিস্কার বক্তব্য হলো দলের সবাইকে পরখে কমিটি করা না হলে কিছুতেই এসব কমিটি তিনি অনুমোদন দেবেন না। গতকাল বিএনপির একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

 

সূত্র আরো জানায় সম্প্রতি ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ এবং রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন থানা কমিটি প্রস্তুত করে তৈমূর আলম খন্দকারের কাছে নিয়ে যান মামুন মাহমুদ। তিনি তৈমুর আলমকে এসব কমিটিতে স্বাক্ষর করে অনুমোদন দিতে বলেন। কিন্তু এসব কমিটি করার আগে এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের মতামত নেয়া হয়নি। বরং উল্লেখিত তিন শিল্পপতির সাথে কয়েক দফা বৈঠক করেন মামুন। তৈমুর দেখতে পান দলের বহু নেতাকে বাদ দিয়ে এসব শিল্পপতিদের পছন্দের লোকদের দিয়ে করা হয়েছে এসব কমিটি। আর যাদেরকে দিয়ে কমিটি করা হচ্ছে সমাজে তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতাই নেই। তাই তৈমুর আলম খন্দকার বেকে বসেন এবং কোনো মতেই এসব কমিটি অনুমোদন দেবেন না বলে জানিয়ে দেন।

 

তার পরিষ্কার বক্তব্য হলো দলের সব নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে করতে হবে সব থানা ও পৌর কমিটি। তারপরে তিনি এসব কমিটি অনুমোদন দেবেন। কিন্তু মামুন কিছুতেই তার কথা মানতে রাজী না হয়ে উল্টো চাঁপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এরই মাঝে ওই তিন শিল্পপতির টাকায় কেনা দুইজন কেন্দ্রীয় নেতাকে দিয়েও তার উপর চাঁপ প্রয়োগ করা হয়। গতকাল পর্যন্তও এড. তৈমুর আলম খন্দকারকে কিছুতেই টলাতে পারেননি। তিনি দুই কেন্দ্রীয় নেতাকেও একই কথা বলেন।

 

তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেন নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে কারা কোথায় কি ভূমিকা রাখছে সেটা জানেন তৈমুর। তাই যাদের দিয়ে মামুন কমিটি করতে চাইছে এরা বিএনপিকে শক্তিশালী করাতো দূরের কথা, আরো দূর্বল করে ফেলবে। তাই সবাইকে রেখে কমিটি করতে হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। অন্যথায় তাকে যেনো অব্যাহতি দেয়া হয়। মূলত এভাবেই কঠোর অবস্থান নেন এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।


এদিকে সূত্র আরো জানায় বিএনপির তিন ব্যবসায়ী নেতা যেনো একেবারে কিনে নিয়েছেন মামুন মাহমুদকে। তারা যেভাবে বলছেন সেভাবেই কাজ করছেন তিনি। আগেও এমনটাই করেছেন এই মামুন। তাই দিনে দিনে গোটা নারায়ণগঞ্জ জেলায় সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে পরছে বিএনপি। আর এই ব্যবসায়ী নেতারা দলের ত্যাগী ও রাজনীতি বুঝেন এমন নেতাদের মূল্যায়ন করতে একেবারেই রাজী নন। তারা খোঁজেন কেবল নিজেদের লোক। আর নিজেদের লোক খুঁজতে গিয়ে তারা যতো অযোগ্য আর অদক্ষ লোকদের পদায়ন করার চেষ্টা করেন।

 

এর আগেও জেলা আর থানা কমিটিগুলিতেও এমন চিত্রই দেখা গেছে। যার ফলে অধ্যাপক মামুন সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি কোনো কর্মসূচিই পালন করতে পারেনি। তার উপর এবার যাদেরকে নিয়ে কমিটি করার চেষ্ঠা চলছে তাদেরকে নিয়ে এসব কমিটি অনুমোদন পেলে আরো পঙ্গু হয়ে পরবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। তাই এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার এবার কিছুতেই দলের যোগ্য নেতাদের মাইনাস করে এসব কমিটি অনুমোদন দিতে রাজী হচ্ছেন না বলে জানায় বিশ^স্ত সূত্র। 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন