# ২০১৩ সালে আংশিক কমিটি ১৫ সালে পূর্ণাঙ্গ হয়, বর্তমানে তা মেয়াদোত্তীর্ণ
# ব্যক্তিগত কোন্দলে দীর্ঘ বছরেও ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করতে পারেনি
# ওয়ার্ড কমিটি নেই, অথচ ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চলছে কর্মী সভা, ক্ষুব্ধ তৃণমূল
# প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাবে মহানগরের ওয়ার্ড কমিটি হচ্ছে না
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিভাজন দেখা গেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সেই দৃশ্য দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মহানগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা পৃথক ভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন।
এদিকে, কাগজে কলমে দ্বিবার্ষিক কমিটি হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের মেয়াদ ফুরিয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করতে পারেনি মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এর কারণ হিসেবে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সৃষ্ট দুরত্বকে মোটা দাগে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে, যেখানে মহানগরের অধিনস্থ ওয়ার্ড কমিটিগুলো দীর্ঘ বছরেও গঠন করা যায়নি, সেখানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ওয়ার্ড গুলোতে কর্মী সভা চালিয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তৃণমূলের নেতারা ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি চাইছেন। এই দাবি বহু পুরনো। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বিভেদ-বিভাজনের কারণে এখনো ঘর গোছাতে পারেনি মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।
অবশ্য, তা নিয়ে কথা বলেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। গতকাল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত কেক কাটা ও দোয়া অনুষ্ঠানে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম সমন্বয় করে মহানগরের অধিনস্থ ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করতে। কিন্তু অনেকের অনিহার কারণে আমরা তা পারিনি। চেষ্টা করেছি, বারবার বলেছি, তারপরও হয়নি।
আজ ১২-১৫ বছর হয়ে গেলো মহানগরের নেতৃত্বে আমরা এসেছি, তারপরও ওয়ার্ড গুছাতে পারিনি। এটা আমাদের চরম ব্যর্থতা। যেখানে আমরা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এক হতে পারিনি, সেখানে আমরা কমিটি করবো কিভাবে? একেক জন যদি একেক জনের নির্দেশে চলে, তাহলে একটি দল কখনই এগিয়ে যেতে পারে না। যারা দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের আবারও আহবান জানাচ্ছি যে, আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।’ যদিও এর আগে দৈনিক যুগের চিন্তার এই প্রতিবেদকের কাছে মুঠোফোনের মাধ্যমে আনোয়ার হোসেন জানিয়েছিলেন, ‘একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাবে কমিটিগুলো হচ্ছে না। তবে, কে সেই প্রভাবশালী ব্যক্তি, সে বিষয়টি খোলাশা করেননি তিনি।’
মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে একটি বিশেষ পরিবারের হুকুম পালনে বেশি তৎপর থাকেন। তাইতো, ওই বিশেষ পরিবারের আলোচিত নেতার নির্দেশে খোকন সাহা মহানগরের ২৭টি ওয়ার্ডে কর্মী সভার নামে চষে বেড়াচ্ছেন। এতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে সম্পৃক্ত করা হয়নি।’
অবশ্য আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, ‘বর্তমানে যেই কর্মী সভা চলছে, তা দলীয় কোন কর্মসূচি নয়। এটা ব্যক্তি বিশেষ কর্মী সভা। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই কর্মী সভাগুলো করানো হচ্ছে। তাছাড়া, তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেও ওই কর্মী সভার বিষয়ে তার সাথে কোন আলোচনা, দাওয়াত বা পরামর্শও করা হয়নি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও অ্যাড. খোকন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে মহানগরের আংশিক কমিটি গঠন করে কেন্দ্র। এর ৭ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে, প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে দু’বছর পর ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। তবে, পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পেড়িয়ে গেলেও এখনো ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করা হয়নি।
এতে করে, সাংগঠনিক ভাবে অনেকটা দূর্বল হয়ে পড়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক বোদ্ধামহল বলছেন, যথা সময়ের মধ্যে ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করা হলে তৃণমূল আরো বেশি শক্তিশালি হতো। কিন্তু সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কোন্দল ও মত পার্থক্যের কারণে তা হয়ে উঠেনি। ফলে আগামী দিনের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রামে এর বিরুপ প্রভাব পরার জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন বোদ্ধা মহল। এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী এ্যাড. খোকন সাহার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।


