# ১১ মাসেও জেলার ১০ ইউনিট কমিটি করা যায়নি
# দু’মাসের মধ্যে করতে হবে সকল কমিটির সম্মেলন
# নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে বিলুপ্ত হতে পারে আহবায়ক কমিটি
কেন্দ্রের চাপ ও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে জেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার এবং সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ। কেন্দ্রের হাইকমান্ডের এক নির্দেশনার পর এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবসহ যুগ্ম আহবায়কদের সাথে বৈঠক করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন।
ওই বৈঠকে হাইকমান্ডের বরাত দিয়ে জানানো হয়, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলার প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা এবং জেলায় সম্মেলন করতে হবে। এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেকটা চাপ বা চ্যালেঞ্জে আছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার ও সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ।
বিএনপির বিশেষ সূত্রগুলো জানিয়েছে, যথা সময়ের মধ্যে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে বিলুপ্ত হতে পারে তৈমুর-মামুন নেতৃত্বাধীন জেলা বিএনপির এই আহবায়ক কমিটি। কেননা, গত পহেলা জানুয়ারি ৩ মাসের মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির এই আহবায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্র। তবে, নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে তারা তাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌছাতে পারেননি। এমনকি আহবায়ক কমিটি গঠনের দীর্ঘ প্রায় ১১ মাসের মধ্যেও জেলার ১০টি ইউনিট কমিটি গঠন বা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা যায়নি। এরই মধ্যে আগামী ডিসেম্বর বা প্রায় ২ মাসের মধ্যে জেলার সবগুলোর ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, পৌরসভা এবং জেলার সম্মেলন করার নির্দেশনা দিয়েছে হাইকমান্ড। তা বাস্তবায়ন মোটেও সহজ হবে না বলে জানিয়েছে বিএনপিরই বিভিন্ন সূত্র। তবে, যথা সময়ের মধ্যেই কমিটি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক তৈমুর আলম খন্দকার এবং সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ। এছাড়াও এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা চাপ বা চ্যালেঞ্জে নেই বলেও দাবি করেছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে আহবায়ক তৈমুর আলম খন্দকার দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা কোন চাপ বা চ্যালেঞ্জে নেই। আমাদের কিছু কিছু কাজ এগিয়েছে। কিছু মত বিরোধ থাকলেও তা ঠিক হয়ে যাবে। আর আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই কমিটিগুলো হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, এই নির্দেশনা কেবল নারায়ণগঞ্জ জেলার জন্যই নয়, অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা আছে। কারণ জানুয়ারি থেকে বিএনপি মাঠে নামবে। দলের জয়েন কনভেনারদের নিয়ে বসা হয়েছে। সকলেই ঐক্যমত পোষন করেছে যে, সমন্বয়ের মাধ্যমেই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। যেহেতু বড় দল, সেহেতু সকলের সাথে সমন্বয় করে কমিটি করাটা কঠিন। পকেট কমিটি হলে ঘরে বসেই অল্প সময়ের মধ্যে তা করা যেত।’
এদিকে, পহেলা জানুয়ারি আহবায়ক কমিটি গঠনের পরও দীর্ঘ প্রায় ১১ মাসেও যেহেতু ১০টি ইউনিট কমিটি করা যায়নি, সেহেতু আগামী ২ মাসের মধ্যে এতগুলো কমিটি করা যাবে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তৈমুর আলম বলেন, ‘১১ মাসের মধ্যে ১০ মাসই করোনা ছিলো। তাছাড়া, হেফাজতের মামলায় আমাদের নেতাকর্মীরা কোথাও স্থির থাকতে পারেনি। এসবের কারণে আমাদের কার্যক্রম যথা সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়নি। এখন যেহেতু প্রেক্ষাপট কিছুটা স্বাভাবিক, সেহেতু আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবো বলে আশাবাদি।’
জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘সকলে আন্তরিক ভাবে কাজ করলে অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটিগুলো করা সম্ভব হবে। যেহেতু আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশ, সেহেতু অবশ্যই যথা সময়ের মধ্যেই তা পালন করতে হবে।’
এদিকে, ডিসেম্বরের মধ্যে সকল কমিটির সম্মেলন না করা হলে বর্তমান জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি বাতিল হতে পারে- এমন সম্ভাবনা বা গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন মাহমুদ বলেন, এমন কোন ম্যাসেজ আমরা পাইনি। ভবিষ্যতে কি করবে, সেটাতো আগেই জানাবে না। এটা আমাদের জন্য অপমান জনক বক্তব্য। আমাদের দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা আমাদের অপমান জনক কোন কথা বলবে বলে কি আপনার মনে হয়? কেন্দ্র নির্দেশনা দিয়েছে যে, ডিসেম্বরের মধ্যে সকল কমিটিগুলো সম্মেলনের মাধ্যমে করতে হবে। বহিস্কারের বিষয় আগেই তারা বলবে কেন! এমন কোন আলোচনা হয়নি এবং কোন কমিটির ক্ষেত্রে এসব কথা বলা হয় না। মাঝখানে করোনা এবং মামলা মোকদ্দমার ঝামেলা ছিলো। আমি নিজেও মামলার আসামী হয়ে ফেরারি ছিলাম। বেশ কয়েকজন যুগ্ম আহবায়কও মামলা মোকদ্দমায় ফেরারি ছিলো। এসব কারণে যথা সময়ের মধ্যে কমিটিগুলো করা যায়নি। আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল কমিটিগুলো গঠন করা যাবে।’
বিএনপির কর্মী সমর্থকরাও চাইছেন যথা সময়ের মধ্যে যোগ্য ব্যক্তিদের দ্বারা কমিটিগুলো করা হোক। কিন্তু ১০টি ইউনিট কমিটি নিয়ে যেই আলোচনা-সমালোচনা এবং সময় বিলম্ব হয়েছে, এক্ষেত্রে আগামী দু’মাসের মধ্যে জেলার সকল কমিটির সম্মেলন করা যাবে কিনা- সেই প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র।


