# কমিটি বিড়ম্বনায় ছাত্রলীগের সাবেক তুখোর নেতারা আসতে পারছে না যুবলীগে
দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সংগঠনিক কার্যক্রম। জেলা যুবলীগের কমিটি থাকলেও তার মেয়াদ ফুঁড়িয়েছে বহু আগেই। অবশ্য যারা জেলা যুবলীগের নেতৃত্বে ছিলেন, তাদের মধ্যে সভাপতি আব্দুল কাদির এবং সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল একদিকে যেমন বার্ধক্যে পড়েছেন, তেমনই তারা জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পেয়েছেন বহু আগেই। তবে, কমিটি না হওয়ার ফলে বিগত সময়ে যারা ছাত্রলীগে সফলতার সহিত নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা এখনো আসতে পারছেন না যুবলীগে। কেবল জেলা যুবলীগের ক্ষেত্রেই নয়, এমন পরিণতি ঘটেছে জেলার বিভিন্ন থানাগুলোতেও।
তথ্য মতে, ২০০৩ ও ২০১১ সালের কমিটিতে যারা ছাত্রলীগের জেলা এবং থানা পর্যায়ের নেতৃত্ব দিয়ে ছিলেন, কমিটি বিড়ম্বনার ফলে এখনো তাদের সিংহভাগ নেতাদের নামের পেছনে লেগে আছে ছাত্রলীগেরই টাইটেল। তাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু, সাফায়েত আলম সানি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক (সম্প্রতি তিনি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের ১নং কার্যকরি সদস্য হয়েছেন), সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ-জালাল বাদল, বন্দর থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম চেয়ারম্যান ও বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদ প্রমূখ।
তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, তারা প্রত্যেকেই যুবলীগের নেতৃত্বে আসার স্বপ্ন লালন করেন। যোগ্যতা ও সক্ষমতার দিক থেকেও তারা যুবলীগের দায়িত্ব কাঁধে নিতে প্রস্তুত। তাদের যুবলীগের নেতৃত্বে আনা হলে সাংগঠনিক গতি ফিরে পাবে জেলা, মহানগর ও থানা পর্যায়ের যুবলীগের কার্যক্রমও। তবে, কমিটি বিড়ম্বনার কারণে এক সময়ের মাঠ কাঁপানো এসব ছাত্রলীগ নেতারা বয়সে যুবক হলেও দায়িত্ব পাচ্ছেন না যুবলীগের। ফলে এখনো তাদের নামের সাথে ব্যবহৃত হচ্ছে ছাত্রলীগের টাইটেল। তাই রাজনৈতিক অঙ্গণে প্রশ্ন উঠেছে, এক সময়ে ছাত্রলীগ করা এসব তুখোর নেতারা আর কবে যুবক হবেন?
এমন প্রশ্নের উদ্বেগ জেগেছে কমিটি বিড়ম্বনায় পিছিয়ে থাকা এসব ছাত্রলীগের সাবেক বা বর্তমান পদধারী নেতাদের মাঝেও। তাদের এসব প্রশ্নের সমাধান মেলে কেবল আশ্বাসে। বছরের পর বছর এমন আশ্বাসগুলো এখন বিশ্বাস হারানোর পথে। কেননা, বারংবার আশা বা আলোচনা তুলেও শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য কারণে হচ্ছে না নারায়ণগঞ্জ জেলা, থানা এবং ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটিগুলো। তাই ব্যপক সম্ভাবনা থাকা সত্বেও যুবলীগের নেতৃত্ব পাচ্ছেন না সম্ভাবনাময়ী এসব নেতারা।
এদিকে, যথা সময়ে যুবলীগের কমিটি না হওয়ার ফলে সাবেক ছাত্রলীগের অনেক নেতাই যুবলীগ না করে সরাসরি আওয়ামী লীগের পদে এসেছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ২০০৩ সালে গঠিত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম আরাফাত ও ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ মান্নান। এর মধ্যে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল হকও সম্প্রতি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের ১নং কার্যকরি সদস্য হয়েছেন। যদিও তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম লক্ষ্যছিলো যুবলীগের নেতৃত্ব দেয়া। শেষ পর্যন্ত কবে তারা যুবলীগের নেতৃত্ব পাবেন, তা হলফ করে বলতে পারছেন না কেউই।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানী দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘জেলা যুবলীগের কমিটি কবে নাগাদ আসতে পারে, তা আমার জানা নেই। এটা কেন্দ্রীয় নেতারা ভালো বলতে পারবেন। আর কমিটি হলে আমি একজন প্রার্থী হিসেবে অবশ্যই সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশা করছি। কেন্দ্র যোগ্য মনে করলে মূল্যায়ন করবে।’
ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও থানা আওয়ামী লীগের ১নং কার্যকরি সদস্য আবু মোহাম্মদ শরীফুল হকও বলেন, যুবলীগের কমিটি হবে বা হচ্ছের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। হলফ করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কেন্দ্র যেদিন সিদ্ধান্ত দেবে, সেদিনই হবে। আর আমাদের নেতা সাংসদ শামীম ওসমান ভাই এবং কেন্দ্রীয় নেতারা আমাকে যেখানে দায়িত্ব দিবেন, আমি সেখানেই দায়িত্ব পালন করবো।


