Logo
Logo
×

রাজনীতি

নব্য আওয়ামীলীগার সেন্টু ঘেঁষা টিটু নিস্ক্রীয় খোকনেই ক্ষোভ

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৬:৩৭ পিএম

নব্য আওয়ামীলীগার সেন্টু ঘেঁষা টিটু নিস্ক্রীয় খোকনেই ক্ষোভ
Swapno

# নব্য আওয়ামী লীগার সেন্টু ঘেঁষা টিটুতে ক্ষোভ বাড়ছে জেলা যুবদলে
# দিপু ভূঁইয়া কর্মসূচি পালন করে না বলে খোকনও কর্মী কর্মসূচি পালন করে না

 
 নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বর্তমানে আলোচিত ব্যক্তি হলেন বহিস্কারকৃত ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ- সভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নব্য আওয়ামী লীগার মনিরুল আলম সেন্টু। সদ্য অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিনাপ্রতিদ্ধন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই নেতার বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে কোন পদ নেই। সেই সেন্টুর একনিষ্ট কর্মী হলেন জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু। সেই নব্য আওয়ামী লীগার সেন্টু ঘেঁষা টিটুতে ক্ষোভ বাড়ছে জেলা যুবদলের নেতাকর্মীদের। টিটুকেও মেনে নিতে পারছেন না নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা।


অন্যদিকে নিস্ক্রীয় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের  সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন। তাকেও মেনে নিতে পারছে না যুবদলের নেতাকর্র্মীরা।  তিন বছর ধরে জেলা যুবদলের কমিটি হলেও হাতে গুনা কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেত দেখা গেছে খোকনকে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ যুবদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করে না তিনি। তবে বিএনপির নিবার্হী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর কোনো অনুষ্ঠান হলে তোড়জোড় করে তা পালন করে। তার কাছে দলের চেয়ে নেতার অনুষ্ঠানই বড়। এমন নেতার পিছনে রাজনীতি করতে অনীহা প্রকাশ করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের কর্মীরাও। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ যুবদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করে না তিনি।


জানা গেছে, বিএনপি থেকে বহিস্কারকৃত কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নব্য আওয়ামী লীগার মনিরুল আলম সেন্টু অনুসারী হলেন জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু। যে মনিরুল আলম সেন্টুর বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে কোন পদ নেই। মনিরুল আলম সেন্টু বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েকবার দল থেকে বহিস্কারও হয়েছেন। নিজের চেয়ারম্যান পদ টিকিয়ে রাখার জন্য বিএনপি নেতা হয়েও ক্ষমতাসীন দলের সাংসদদের কারিশমায় তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নৌকা প্রতীক নিয়ে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যানও নির্বাচিত  হয়েছেন। তিনি নাকি ২০১৯ সালে আওয়ামীলীগের সদস্য ফরন পূরণ করে স্থানীয় সাংসদের মাধ্যমে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। তবে কি জেলা যুবদলের সভাপতি টিটুও আওয়ামীলীগের সদস্য ফরম পূরণ করেছে প্রশ্ন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। সেন্টুর সাথে টিটুও যেকোনো দিন আওয়ামীলীগে যোগদান করবে মনে করছে যুবদলের নেতাকর্মীরা।


সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারনণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন একজন রিসোর্ট ব্যবসায়ী। রূপগঞ্জের পূর্বাচলে রয়েছে তার নামধামি রিসোর্ট। জেলা যুবদলের বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান তার রিসোর্টেই হয়েছিলো। দলীয় কর্মসূচিতে রাজপথে না থাকলেও রিপোর্টে দাওয়াত দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের আপ্যায়ন ঠিকই করে। ফলে তাকে আর রাজপথের আন্দোলনে যেতো হয় না। এছাড়াও বিএনপির নিবার্হী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর অনুসারী খোকন। দলীয় কর্মসূচি পালন না করলেও জমকালো আয়োজন করে প্রতি বছরই দিপু ভূঁইয়ার জম্মদিন পালন করেছিলেন। এতে করে তার  প্রতি দলীয়  নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বিএনপির দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে যুবদলের বেশ কয়েকটি কর্মসূচি হলে তাকে দেখা যায়নি। এমনকি তার নেতা বিএনপির নিবার্হী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকেও দেখা যায়নি । এতে করে নেতাকর্মী মনে করেন সেক্রেটারীর নেতা দিপু ভূঁইয়া কর্মসূচি পালন করে না বলে খোকনও কর্মী কর্মসূচি পালন করে না। নেতা নামলে তিনিও নামবে না নামনে তিনিও নামবে না।


 প্রসঙ্গত, দীর্ঘ কয়েক যুগ পর নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়েছিলো। এর আগে ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুকে সভাপতি ও রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি গোলাম ফারুক খোকনকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর ৫ মাস পরই জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়েছে। যা এর আগে কখনও এত অল্প সময়ের মধ্যে কমিটির ঘোষণা হয়নি।


তবে এই কমিটি ঘোষণার শুরুতেই বিতর্ক দেখা দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলে। জেলা যুবদলের সভাপতি পদে শহীদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন বিরুদ্ধে পদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছিলো। জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হলেও নেতাকর্মীদের মধ্যে এর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়নি। আর এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি পদে শহীদুল ইসলাম টিটুর বিরুদ্ধে কমিটি নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে। পদ দেয়ার বিনিময়ে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। ফলে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি স্থান পেয়ে যায় দীর্ঘদিন ধরে নিস্ক্রিয় থাকা নেতাকর্মীরাও।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন