আইভীর পাশে পিতা চুনকার মতোই ছিল চাচা আনোয়ারের ভূমিকা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:০৩ পিএম
# প্রথম সিটি নির্বাচনে অভিভাবকের মূল দায়িত্ব পালন করেছিলেন
#কারো কথায় কান দিয়ে আইভীকে একচেটিয়া সমর্থন
#এবারও গুরু দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন আনোয়ার হোসেন
মনে পড়ে সেই ২০১১’র নাসিকের প্রথম মেয়র নির্বাচনের কথা! যখন আইভীকে নির্বাচনের লড়াইয়ের আগেই লড়তে হয়েছিল নিজ দল অর্থাৎ বর্তমানের যারা আইভীকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন সেই ভিপি বাদল, বাবু চন্দন শীল ও খোকন সাহাদের সাথে। লড়তে হয়েছিল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সে সময়ের সিংহ পুরুষ খ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানসহ ওসমান পরিবার ও তার সমর্থকদের সাথে। এমনকি কেন্দ্র থেকেও হতাশ হয়ে তাদের বিরুদ্ধেও লড়তে হয়েছিল তাকে। তারপর নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিরা তো আছেনই। সে সময় কিন্তু নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারিরা তার পাশ থেকে সরে যেতে পারেননি। বরং আইভীর পাশে বটবৃক্ষের ন্যায় থেকে তাকে নির্বাচনের বৈতরণী উত্তীর্ণ করিয়ে ছাড়েন তারা। তাদের মধ্যে অন্যতম ভূমিকায় ছিলেন বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি (তখনকার শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি) আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন। সে সময় তিনি যে শুধু ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থনই করেছেন তা-ই নয়। আনোয়ার হোসেন সে সময় আইভীর নির্বাচনে যে ভূমিকা রেখেছেন আইভীর পিতা আলী আহাম্মদ চুনকা বেঁচে থাকলে হয়তো সে রকমই কিছু করতেন। সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েক মাস ধরে আইভীর পাশে ছায়ার মতো লেগেছিলেন তিনি।
ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর পিতা আলী আহাম্মদ চুনকা প্রয়াত হয়েছেন বহুকাল আগে। তিনি বেঁচে না থাকলেও সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আইভীকে তার পিতার মতোই আগলে রেখেছিলেন তখনকার নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সভাপত্বি আনোয়ার হোসেন। আনোয়ার হোসেনকে আইভী চাচা বলে সম্বোধন করলেও নারায়ণগঞ্জের সচেতন মলের মতে আইভীর পিতা আলী আহম্মেদ চুনকার ভূমিকাই পালন করেছেন এই চাচা আনোয়ার হোসেন। কোন ধরণে হুমকি ধমকি আর চোখ রাঙ্গানীও তাকে এতটুকু টলাতে পারেনি। সেই নির্বাচনে আইভীর পাশে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। সে সময় নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে গিয়ে আইভীর পক্ষে অবস্থান নেয়ায় একদিকে তাকে দেয়া হয়েছে ভয়ংকর সব হুমকি, অন্যদিকে দেখানো হয়েছে প্রলোভন। সে সময় নারায়ণগঞ্জবাসী দেখেছে, কিভাবে পিতা চুনকার মতোই আইভীকে আগলে রেখেছিলেন চাচা আনোয়ার হোসেন।
সেই নির্বাচনে আনোয়ার হোসেনের পাশাপাশি আরো যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে আইভীর পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি কাজ করেছিলেন তারা হলেন- আইভীর বোন জামাই আব্দুল কাদির। যিনি ৪ দলীয় জোট সরকারের ২০০১ সালের পর থেকে ফখরুদ্দিন সরকারের আমলেও যখন শামীম ওসমান ও তার অনুসারীরা পলাতক ছিলেন তখন যাকে কারাবরণ করতে হয়। এই প্রতিকুল অবস্থায়ও যিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে মাঠে সরব ছিলেন সেই আব্দুল কাদির। পাশে ছিলেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা রোকন উদ্দিন আহম্মদ, নিজাম উদ্দিন, জিএম আরাফাত, শেখ হায়দার আলী পুতুল, শহীদ উল্লাহ, রফিউর রাব্বী প্রমুখ। শেষ মুহুর্ত্বে আইভীর সাথে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক সাংসদ যিনি দলের দুঃসময়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই এসএম আকরাম। এমনকি শেষ মুহুর্তে আইভীর পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সারাহ বেগম কবরী।
২০১১ সালের ৩০ অক্টোবরের সেই নির্বাচনে অবশ্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সমর্থন যুগিয়েছিলেন শামীম ওসমান। কিন্তু স্থানীয় ত্যাগী নেতাদের নিরংকুশ সমর্থন ছিল আইভীর পক্ষে। এমনকি সেই নির্বাচনে নারায়ণগ-৫ আসনের সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, সেই নির্বাচনে আইভী সব মিলিয়ে ৫ হাজারের বেশী ভোট পাবে না। সেই নির্বাচনে দোয়াত কলম প্রতীকে আইভী পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৭৫ ভোট আর তার বিপরীতে দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে শামীম ওসমান পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ৬৮৮ ভোট। অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন মেয়র আইভী।
এবারও শক্ত অবস্থানে আনোয়ার হোসেন। এবার তার একান্ত মতামতে যুগের চিন্তাকে তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনের (নাসিক) বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, এবারের নাসিক নির্বাচনের বিষয়ে এখান থেকে প্রস্তাবনা পাঠানোর মতো ঐ রকম কোন নির্দেশনা কেন্দ্র থেকে আমাদের দেয়া হয়নি। এর আগের নির্বাচনে যারা দরখাস্ত করতো তাদেরকে সেখান থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতো। এবার আমাদের কোন কিছু না বলেই সরাসরি মনোনয়নপত্র বিক্রি হচ্ছে। তৃণমূল থেকে নাম পাঠানোর কোন নির্দেশনা দেয়নি। আমরা যদি নির্দেশনা পাই তাহলে আমরা পাঠাবো। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই শামীম ওসমানের নেতৃত্বে মহানগর আওয়ামী লীগের একটি অংশ বসে নাকি একটি প্যানেল তৈরী করছে। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েও আমি এর কিছুই জানি না। শামীম ওসমান তার সমর্থকদের নিয়ে তালিকা করছে এখন আমরা আমাদের সমর্থকদের নিয়ে বসে প্রস্তাবনার তালিকার বিষয় আলাপ আলোচনা করব। মনোনয়ন সংগ্রহের বিষয় তিনি বলেন মনোনয়ন দলের যে কেউ চাইতে পারে, তবে কাকে দেয়া হবে সেটা নির্ধারণ করবে নেত্রীর উপর। আওয়ামী লীগের হয়ে যে-ই সমর্থন পাবে, তার পক্ষ হয়েই সবার নির্বাচন করা উচিৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এর ব্যত্যয় ঘটে। কেন্দ্র থেকে যে সব কথা বার্তা হচ্ছে সেগুলো বাস্তবায়ন হলে (দলের বাইরে গিয়ে কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ) এবার এ ধরণের বিরোধিতা করার কথা না। নারায়ণগঞ্জে কি হচ্ছে সেই খবর কেন্দ্রের কাছে পৌঁছানোর কথা। তাদের নিজস্ব সোর্স আছে। সেই সোর্সের মাধ্যমে এখানকার সকল খবরই তাদের কাছে পৌছানোর কথা। নারায়ণগঞ্জ ঢাকার পাশেরই এলাকা।’


