নৌকা পেলে ছোট বোনের মাথায় হাত রাখবেন বড় ভাই!
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:০৫ পিএম
# ওই নির্বাচনে আইভী পান ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৭৫ ভোট, শামীম ওসমান পান পান ৮৩ হাজার ৬৮৮ ভোট।
পেছনের গল্পটা যেমনই হোক, সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান ছোট ভাই বলে সম্বোধন করেন। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় এলে এই সম্বোধনটি দেশবাসী খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করে। যদিও ডা. আইভী ও শামীম ওসমানের সম্পর্ক নিয়ে তিক্ততার কথাই জানে দেশবাসী। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন শামীম ওসমান।
দলীয় প্রতীক না পেলেও এমপি শামীম ওসমানের দেয়ালঘড়ি প্রতীকের পক্ষেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থন ছিল বেশি। নির্বাচনে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী পান ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৭৫ ভোট। অপরদিকে এমপি শামীম ওসমান দেয়ালঘড়ি প্রতীকে পান ৮৩ হাজার ৬৮৮ ভোট। সূত্র জানিয়েছে, ২০১১ সালে নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালীন সময়ে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে পুরো সিটি এলাকায় কোন পোষ্টার দেখা যায়নি। কারণ হিসেবে আইভী কে বা কারা সেই পোষ্টারগুলো ছিড়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেন। যদিও ২০১১ সালের সিটি নির্বাচন উপলক্ষে জিয়া হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর মতবিনিময় সভায় শামীম ওসমান ও ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। সেই অনুষ্ঠানে ছোট বোন আইভীর মাথায় হাত রেখে দোয়া করেন শামীম ওসমান। দোয়া বিফলে যায়নি। নির্বাচনে শামীম ওসমান ১ লাখের বেশি ভোটে আইভীর কাছে পরাজিত হন।
অবশ্য নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আইভী ও শামীম ওসমানের সম্পর্কের তিক্ততার নানা চিত্র নানা মিডিয়ায় ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। তবে শামীম ওসমান ছোট বোন আইভীর বিরুদ্ধে আর নির্বাচনে লড়েননি। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগেও সরব ছিলেন শামীম ওসমান। তবে আইভীর পক্ষে নয়, তার প্রার্থী ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। কেন্দ্রে আইভীর নামটিও প্রস্তাব করা হয়নি। তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে নৌকা প্রতীক দেয়া হয় আইভীকে। নির্বাচনের আগে আবারও ছোট বোনের জন্য হাজির এমপি শামীম ওসমান। নমপার্কে সাংবাদিক সম্মেলন করে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে উপহার দেয়ার জন্য নৌকা খচিত শাড়ি কেনার কথা জানান এমপি শামীম ওসমান। নির্বাচনে ভোটের দিন প্রকাশ্যে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভেঙে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন সেটির প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যালটপেপার দেখান। দ্বিতীয় সিটি নির্বাচনে বিএনপির সাখাওয়াত হোসেন খানকে ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
এরপর আবার নিশ্চুপ হয়ে যান এমপি শামীম ওসমান। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি হকার ইস্যুতে মেয়র আইভীর উপর হামলার ঘটনায় মেয়রসহ অর্ধশত আহত হন। ঘটনার দিন এমপি শামীম ওসমানও চাষাঢ়ায় আসেন। তিনি দাবি করেন, উত্তেজিত হকারদের থামাতেই তিনি এসেছেন। এরপর আবার বোনের ব্যাপারে চুপ হয়ে যান তিনি। ২০২১ সালের ২৫ জুলাই মেয়র আইভীর মা মমতাজ বেগম মারা যান। ছোট বোন আইভী ও তার পরিবারকে শান্তনা দিতে এর দুইদিন পর ছোট বোন মেয়র আইভীর বাসায় ছুটে যান এমপি শামীম ওসমান। অবশ্য এর মাত্র ১৫ দিনের মাথায় মাসদাইরে কবরে শ্মশনের মাটির সংমিশ্রন হয়েছে এমন অভিযোগ করেন এমপি শামীম ওসমান। এদিকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয় সাম্প্রদায়িক উস্কানি হিসেবেই এমন অভিযোগ করছে একটি মহল।এঘটনাতেও আবার ভাই-বোনের সম্পর্কে তিক্ততার আভাস মেলে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৬ জানুয়ারি সিটি করপোরেশনের তৃতীয় মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে মেয়র আইভী দলীয় মনোনয়নের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। এখানে শামীম ওসমানের তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধুও মনোনয়নের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামী দু’একদিনের মধ্যেই আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী নাম ঘোষণা করা হবে। এবার আইভীকে দলীয় প্রতীক নৌকা দেয়া হলে ছোট বোন আইভীর পাশে সমর্থন নিয়ে বড় ভাই এমপি শামীম ওসমান দাঁড়াবেন কিনা এটি জানতেও খুব বেশি সময় নেবেনা।


