# খালেদা ইস্যুতে মাঠে নেই নির্বাহী কমিটির সাত সদস্য
# প্রশাসনিক ঝামেলা ও মামলা এড়াতেই দুরে সরে আছেন
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মধ্যে সাতজন রয়েছেন নারায়ণগঞ্জে। তারা হলেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করীম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ আবুল কালাম, মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, কাজী মনিরুজ্জামান মনির, মোহাম্মদ শাহ্ আলম এবং আজহারুল ইসলাম মান্নান। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসা এবং সার্বিক মুক্তির দাবিতে যেই আন্দোলন চলছে নারায়ণগঞ্জসহ গোটা দেশজুড়ে, সেই আন্দোলনে এখনো দেখা যায়নি নারায়ণগঞ্জে থাকা নির্বাহী কমিটির এই সাত সদস্যকে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী কমিটির ওই সাত সদস্য মাঠের রাজনীতিতে বহু আগে থেকেই নিস্ক্রিয়। তবে, মাঠের রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হলেও গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে তারা একেক জন অপ্রতিরোদ্ধ। নানামুখি পদক্ষেপ ও পরিমার্জনের পরও নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হতে না পারার অন্যতম কারণও ভাবা হয় নির্বাহী কমিটির ওই সাত নেতার অপ্রতিরোদ্ধ গ্রুপিংকেই।
ভেতরের খবর, নির্বাহী কমিটির ওই সাত নেতার মধ্যে কেবল মান্নান ব্যতিত বাকিরা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে না থাকলেও তারা হস্তক্ষেপ করেছেন জেলার ১০টি ইউনিট কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে। এসব কমিটিতে তারা তাদের বলয়ে থাকা লোকদের পদায়ন করতে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। জেলা বিএনপির ১০টি ইউনিট কমিটি গঠনে যেই সময় বিলম্ব হয়েছে, তার অন্যতম কারণও ভাবা হচ্ছে নির্বাহী কমিটির কতিপয় সদস্যদের এমন হস্তক্ষেপ।
তাছাড়া, মাঠের রাজনীতিতে তারা সক্রিয় না হলেও এসি রুমে বসে তারা কেবল জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়নের টিকিট বাগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের তেল মর্দন করেন, আবার অনেকে অর্থের খেলা খেলে থাকেন। কিন্তু দলের ক্রান্তিকালে তারা থাকেন লাপাত্তা। এমনটাই বলছেন স্থানীয় বিএনপির কর্মী সমর্থকরা।
এদিকে, বিগত কয়েক দিনে দেখা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া ইস্যুতে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে জেলা ও মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা সকল শঙ্কা মাথায় নিয়েও নারায়ণগঞ্জের রাজপথে নেমেছেন। জোড়ালো দাবী তুলেছেন তাদের নেত্রীকে বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করার। বর্তমানে জেলা বিনএনপির নেতৃত্বে যেসকল আন্দোলন সংগ্রাম হচ্ছে, সেখানে তৈমুর আলম খন্দকার মাঠে থেকে জেলা বিএনপিকে পরিচালনা করছেন। গতকাল জুমার নামাজেও তারা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোর্কারমে উপস্থিত হয়ে খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নিয়েছেন। কিন্তু নির্বাহী কমিটির ওই সাত নেতা এখনো মাঠে না নামায় তা নিয়ে নানামুখি আলোচনা-সমালোচনা চলছে বিএনপির তৃণমূলে।
বিএনপির বিশেষ সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠনের আগে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলার দায়িত্ব আরোপ করতে চেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জে থাকা বিএনপির নির্বাহী কমিটির ওই সাত সদস্যদের কাঁধে। কিন্তু তারা নানা অযুহাতে সেই দায়িত্বভার গ্রহণ করেননি। তাই এ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার এবং মামুন মাহমুদের কাঁধেই তুলে দেয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিকে।
বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিমত, নির্বাহী কমিটির ওই সাত নেতা জেলা বিএনপির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে যেই অপারগতা প্রকাশ করেছেন, তার মূলে রয়েছে মাঠে নামার অনিহা। অর্থাৎ, জেলা বিএনপির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলে মাঠে থেকে দলের নেতৃত্ব দিতে হবে এবং এর ফলে প্রশাসনের ঝামেলা ও মামলা মোকদ্দমার উদ্ভব হতে পারে ভেবেই তারা দুরে সরে আছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাহী কমিটির ওই সাত নেতার প্রত্যেকেই বিএনপির রাজনীতিতে প্রবীণ। অনেকে হয়েছেন সংসদ সদস্যও। তারা খালেদা জিয়ার ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে নামলে সাধারণ কর্মীরা যেমন আন্দোলন সংগ্রামের সাহস পাবে, তেমনই নারায়ণগঞ্জে বিএনপির আন্দোলন হবে আরো প্রাণবন্ত ও পরিপূর্ন। তাই বিএনপির কর্মী সমর্থকদের আরো চাঙ্গা করে তুলতে নারায়ণগঞ্জে থাকা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাত সদস্যের মাঠে নামার বিকল্প নেই।


